
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন খাতের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর ড্রাইভারদের বদলি নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে ক্রমেই অসন্তোষ বাড়ছে। বিভিন্ন সার্কেলে কর্মরত সাধারণ ড্রাইভারদের অভিযোগ, বিদ্যমান নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না, ফলে তৈরি হচ্ছে বৈষম্য ও হতাশা।
বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী, একজন ড্রাইভার সর্বোচ্চ পাঁচ বছর ঢাকা মেট্রো সার্কেলে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এ নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো—সব ড্রাইভার যেন পর্যায়ক্রমে রাজধানীতে কাজ করার সুযোগ পান এবং কেউ দীর্ঘদিন একই স্থানে থেকে বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে না পারেন।
তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বাস্তবে এই নীতিমালা মানা হচ্ছে না। প্রভাবশালী মহলের তদবিরে কিছু ড্রাইভার পাঁচ বছরের নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে ১৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ঢাকা সার্কেলেই কর্মরত রয়েছেন। এর ফলে জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত ড্রাইভাররা দীর্ঘদিন আবেদন করেও রাজধানীতে বদলির সুযোগ পাচ্ছেন না।
এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ড্রাইভারদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। তাদের মতে, এ ধরনের অনিয়ম কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করছে এবং পেশাগত মনোবল হ্রাস পাচ্ছে।
সমস্যা নিরসনে তারা কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঢাকা মেট্রো সার্কেলে পাঁচ বছরের বেশি সময় কর্মরত ড্রাইভারদের দ্রুত বদলি, জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশ, তদবিরমুক্ত বদলি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং জেলা পর্যায়ের ড্রাইভারদের পর্যায়ক্রমে ঢাকায় পদায়নের ব্যবস্থা করা।
ড্রাইভাররা জানান, বিষয়টি তারা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছেও লিখিতভাবে উপস্থাপন করেছেন। তারা আশা করছেন, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বদলি নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে এবং কর্মপরিবেশে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
প্রতিবেদকের নাম 

























