ঢাকা ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ার ঐতিহাসিক গহর মাঝির দিঘী রহস্যের এক জীবন্ত সাক্ষী




 

নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের ওয়াই গ্রামে রয়েছে ঐতিহাসিক ও রহস্যঘেরা ‘গহর মাঝির দিঘী’। কালের সাক্ষী এই দিঘীকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথা, কিংবদন্তি ও ঐতিহাসিক তথ্য।

স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি জলাশয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি দর্শনীয় স্থান।

সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে দিঘীটির ওপরিভাগের বেশ কিছু অংশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও ঘাস জন্মে এমন এক বিচিত্র সবুজ আবরণ তৈরি হয়েছে, যা দূর থেকে অনেকটা সবুজ মাঠ কিংবা বন-জঙ্গলের মতো মনে হয় এবং ঘাসের উপর দিয়ে যে কেউ অনায়াসে হেঁটে যেতে পারে । আশ্চর্যের বিষয়, ঘাসে ঢাকা এসব অংশের নিচেও রয়েছে পানি ও যথেষ্ট গভীরতা।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও রহস্যময় বৈশিষ্ট্যের কারণে দিঘীটি স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষের কাছেও যথেষ্ট আকর্ষণীয় ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানান, বাপ-দাদা কিংবা তাঁদেরও পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই গহর মাঝির দিঘীর কথা শুনে আসছেন তারা। লোকবিশ্বাস রয়েছে, কারও মানসিক সমস্যা হলে এই দিঘীর পানিতে গোসল করালে সে ভালো হয়ে যায়। যদিও এ ধরনের দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সাধারণত নেই , তবুও দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এই বিশ্বাস স্থানীয় লোকসংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে আছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু সংখ্যক মানুষ দিঘীটি দেখতে আসেন বলেও জানান তারা।

স্থানীয়ভাবে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০০ বছর আগে জালাল উদ্দিন ওয়ালীশাহ্ এই দিঘী খনন করান। কথিত আছে, দিঘীটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৫০০ হাত এবং প্রস্থ ৩০০ হাত। প্রায় ১৬ হাত গভীর পর্যন্ত খনন করার পরও সেখানে পানি না ওঠায় সৃষ্টি হয় নানা জটিলতা।

লোককথা অনুযায়ী, একপর্যায়ে জালাল উদ্দিন ওয়ালীশাহ্ স্বপ্নে আদিষ্ট হন। এরপর এক নাবালিকা সুন্দরী মেয়েকে নতুন শাড়ি পরিয়ে দিঘীতে উৎসর্গ করা হয়। কিংবদন্তিতে বলা হয়, এর পরপরই প্রবল বেগে দিঘীতে পানি উঠতে শুরু করে। একই সঙ্গে পানির ওপর ভেসে ওঠে একটি নৌকার বৈঠা এবং মেঘনা তীরের মাঝি গহরের হারানো প্রেমিকা । সেই ঘটনার পর থেকেই দিঘীটির নাম হয় ‘গহর মাঝির দিঘী’।

লোকসাহিত্য সংগ্রাহক, পালা নাট্যকার ও সাংবাদিক রাখাল বিশ্বাস বলেন, এই দিঘীর রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও রহস্য। তিনি জানান, প্রাকৃতিক নৈসর্গে ভরপুর এই দিঘী নিয়ে তথ্যবহুল একটি প্রবন্ধ তাঁর অপ্রকাশিত ‘বাংলা লোকসাহিত্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতি’ গ্রন্থে রয়েছে।

এ বিষয়ে ঐতিহ্যবাহী কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও গীতিকার মো. আব্দুল হাই সেলিম বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধ্যে কেন্দুয়া উপজেলা নানা কারণে প্রসিদ্ধ। এর মধ্যে গহর মাঝির দিঘী অন্যতম। সবুজে আবৃত ও রহস্যময় এই দিঘী দেখলে যে কারও চোখ জুড়িয়ে যায়। তিনি দিঘীটির ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : অবৈধভাবে বালু বিক্রির দায়ে বারহাট্টায় বালু ব্যবসায়ীকে জরিমানা

One thought on “কেন্দুয়ার ঐতিহাসিক গহর মাঝির দিঘী রহস্যের এক জীবন্ত সাক্ষী

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

‘কোনো ষড়যন্ত্রই আমাকে রুখতে পারবে না’—রোয়াইলবাড়িতে কায়সারের প্রতিবাদী জনসভা

কেন্দুয়ার ঐতিহাসিক গহর মাঝির দিঘী রহস্যের এক জীবন্ত সাক্ষী

প্রকাশের সময় : ০৭:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের ওয়াই গ্রামে রয়েছে ঐতিহাসিক ও রহস্যঘেরা ‘গহর মাঝির দিঘী’। কালের সাক্ষী এই দিঘীকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথা, কিংবদন্তি ও ঐতিহাসিক তথ্য।

স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি জলাশয় নয়, বরং দীর্ঘদিনের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি দর্শনীয় স্থান।

সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে দিঘীটির ওপরিভাগের বেশ কিছু অংশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ও ঘাস জন্মে এমন এক বিচিত্র সবুজ আবরণ তৈরি হয়েছে, যা দূর থেকে অনেকটা সবুজ মাঠ কিংবা বন-জঙ্গলের মতো মনে হয় এবং ঘাসের উপর দিয়ে যে কেউ অনায়াসে হেঁটে যেতে পারে । আশ্চর্যের বিষয়, ঘাসে ঢাকা এসব অংশের নিচেও রয়েছে পানি ও যথেষ্ট গভীরতা।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও রহস্যময় বৈশিষ্ট্যের কারণে দিঘীটি স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষের কাছেও যথেষ্ট আকর্ষণীয় ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে জানান, বাপ-দাদা কিংবা তাঁদেরও পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই গহর মাঝির দিঘীর কথা শুনে আসছেন তারা। লোকবিশ্বাস রয়েছে, কারও মানসিক সমস্যা হলে এই দিঘীর পানিতে গোসল করালে সে ভালো হয়ে যায়। যদিও এ ধরনের দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি সাধারণত নেই , তবুও দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এই বিশ্বাস স্থানীয় লোকসংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে আছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু সংখ্যক মানুষ দিঘীটি দেখতে আসেন বলেও জানান তারা।

স্থানীয়ভাবে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০০ বছর আগে জালাল উদ্দিন ওয়ালীশাহ্ এই দিঘী খনন করান। কথিত আছে, দিঘীটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৫০০ হাত এবং প্রস্থ ৩০০ হাত। প্রায় ১৬ হাত গভীর পর্যন্ত খনন করার পরও সেখানে পানি না ওঠায় সৃষ্টি হয় নানা জটিলতা।

লোককথা অনুযায়ী, একপর্যায়ে জালাল উদ্দিন ওয়ালীশাহ্ স্বপ্নে আদিষ্ট হন। এরপর এক নাবালিকা সুন্দরী মেয়েকে নতুন শাড়ি পরিয়ে দিঘীতে উৎসর্গ করা হয়। কিংবদন্তিতে বলা হয়, এর পরপরই প্রবল বেগে দিঘীতে পানি উঠতে শুরু করে। একই সঙ্গে পানির ওপর ভেসে ওঠে একটি নৌকার বৈঠা এবং মেঘনা তীরের মাঝি গহরের হারানো প্রেমিকা । সেই ঘটনার পর থেকেই দিঘীটির নাম হয় ‘গহর মাঝির দিঘী’।

লোকসাহিত্য সংগ্রাহক, পালা নাট্যকার ও সাংবাদিক রাখাল বিশ্বাস বলেন, এই দিঘীর রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও রহস্য। তিনি জানান, প্রাকৃতিক নৈসর্গে ভরপুর এই দিঘী নিয়ে তথ্যবহুল একটি প্রবন্ধ তাঁর অপ্রকাশিত ‘বাংলা লোকসাহিত্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতি’ গ্রন্থে রয়েছে।

এ বিষয়ে ঐতিহ্যবাহী কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও গীতিকার মো. আব্দুল হাই সেলিম বলেন, বৃহত্তর ময়মনসিংহের মধ্যে কেন্দুয়া উপজেলা নানা কারণে প্রসিদ্ধ। এর মধ্যে গহর মাঝির দিঘী অন্যতম। সবুজে আবৃত ও রহস্যময় এই দিঘী দেখলে যে কারও চোখ জুড়িয়ে যায়। তিনি দিঘীটির ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : অবৈধভাবে বালু বিক্রির দায়ে বারহাট্টায় বালু ব্যবসায়ীকে জরিমানা