
শাহ্জাদা আকন্দ, বিশেষ প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোনা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয় থেকে রাতের আঁধারে বিপুল পরিমাণ রেন্টি, মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) রাত প্রায় ১১টার দিকে গাছবোঝাই একটি গাড়ি স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশে খবর দিলে গাড়ির চালককে আটক করে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ।
জানা যায়, দিনভর গাছ কাটার পর ছয়টি হ্যান্ডট্রলি ও ভ্যান ভর্তি করে গাছগুলো বন বিভাগের কার্যালয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন জনতা ও সাংবাদিক গাড়িগুলোতে থাকা গাছের বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে বন বিভাগের স্পিডবোট চালক ইন্দ্রজিত বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সহকারী বন সংরক্ষক রামকৃষ্ণ বোসের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জানান, কিছু ডালপালা কেটে বিক্রির উদ্দেশ্যে গাড়িতে তোলা হয়েছে। তবে সাংবাদিকরা গাড়িতে বড় গাছও রয়েছে বলে দাবি করলে একপর্যায়ে তিনি বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।
পরে ইন্দ্রজিতের সহযোগিতায় পাঁচটি গাড়ি ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হলেও একটি গাছবোঝাই গাড়ি স্থানীয় জনতা আটক করে রাখে। খবর পেয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার এসআই মুনসুরের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িসহ চালক রুবেল মিয়াকে (৩০) আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রুবেল বারহাট্টা উপজেলার পটুয়াকান্দা (দেউলি) এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে।
স্থানীয়দের দাবি, আটক রুবেল মিয়া ও বন বিভাগে কর্মরত ইন্দ্রজিত একই গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া কাঠ ব্যবসায়ী ফারুকসহ আরও কয়েকজনের বাড়িও একই এলাকায় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকরা নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক জানান, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং গাড়িভর্তি গাছগুলো বন বিভাগের হেফাজতে সংরক্ষিত থাকবে।
জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বন বিভাগের কার্যালয় থেকে এমনভাবে গাছ কাটার ও সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন—শহরের কেন্দ্রস্থলে যদি অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে মফস্বল ও সীমান্তবর্তী এলাকার বনাঞ্চলে কী ধরনের অনিয়ম হতে পারে?
অন্যদিকে, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশকে আরও সবুজ করার লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগের বিপরীতে নেত্রকোনা শহরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অনুমতি ছাড়া গাছ কাটার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি যদি অনুমোদন ছাড়া মূল্যবান গাছ কেটে রাতারাতি অবৈধভাবে অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাদের ভাষায়, “সরকার যখন কোটি কোটি গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে, তখন পুরোনো ও মূল্যবান গাছ রক্ষার দায়িত্বও সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।”
এ ঘটনায় গাছ কাটার বৈধ অনুমোদন ছিল কি না, কার নির্দেশে গাছগুলো কাটা হয়েছে, কোথায় এবং কী উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে বের করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনগণ।
এসকে/এনএস
আরো পড়ুন : গার্ড অব অনার ও পুষ্পস্তবক অর্পণে নূর মোহাম্মদ শেখেরকে বিজিবির শ্রদ্ধা
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 


















