
মো. শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ || sknews24bd
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সম্পদের উৎস, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রকাশিত ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জেরে ১০ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি এবং মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাতইল এলাকার বাসিন্দা জামিরুর রহমান (তুহিন) গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক, প্রকাশক, উপদেষ্টা সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক, প্রতিবেদক ও প্রতিনিধি পর্যায়ের মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত মে মাসে কয়েকজন সাংবাদিক বাদীর সম্পদ, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বাদীর অভিযোগ, প্রকাশিত সংবাদগুলো মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়ায় তিনি সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এছাড়া সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলেও মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে। দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করলে আরও নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা দেওয়া হলেও বাকি অর্থের জন্য চাপ অব্যাহত থাকে। এর ফলে তিনি প্রায় এক কোটি টাকার মানহানির শিকার হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মামলার সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন অভিযুক্ত সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত, স্থানীয় অনুসন্ধান ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। চাঁদাবাজি বা অর্থ দাবির অভিযোগের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অভিযুক্তদের ভাষ্য, প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ অর্জনের বিষয় উঠে আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করা হয়েছে। তারা এটিকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত এবং সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অপচেষ্টা বলে মনে করছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের একজন বলেন, “জনস্বার্থে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ করাই আমাদের দায়িত্ব। সত্য তুলে ধরার কারণে মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত চাই।”
এদিকে মামলাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
এসকে/এনএন
আরো পড়ুন : ত্যাগ ও সংগ্রামের স্বীকৃতি, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে এজমল হোসেন পাইলট
সম্পাদনা _দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 
























