
কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় ক্রয়কৃত ও বন্ধকী জমি জোরপূর্বক দখল, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে মৃত গোমেজ আলীর ছেলে ও স্বজনদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় প্রতিকার ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবিতে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, কেন্দুয়া, নেত্রকোণায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭(সি) ধারায় একটি দরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দুয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নং-১৪৬৮ করা হয়েছে এবং ক্রয়কৃত জমি দখলে বাধা প্রদান ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার দলপা ইউনিয়নের দলপা গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার, অভিযুক্ত পক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মৃত লাল মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম মিন্টুর স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৩৫) অভিযোগ করে বলেন, মৃত গোমেজ আলীর ছেলে জানু মিয়ার কাছ থেকে তারা ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়া প্রায় ৪০ শতাংশ জমি বন্ধক নেওয়ার পর তারা জেরমূলে ওই জমি ভোগদখলে রেখেছেন। তবে প্রতিপক্ষরা এসব জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করছেন এবং দখলের চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, তাঁর স্বামী ও দেবররা চাকরিজীবী হওয়ায় তারা নিয়মিত বাড়িতে থাকেন না। এ সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন বিভিন্ন সময় দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান সুফিয়া বেগম।
রফিকুল ইসলাম মিন্টুর আপন ভাগনে মৃত আবুল হাশেমের ছেলে স্বপন মিয়াও জমি নিয়ে বিরোধের কথা জানান। তাঁর দাবি, মৃত গোমেজ আলীর আরেক ছেলে সোনা মিয়ার কাছ থেকে তিনি সাড়ে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেছেন। কিন্তু সোনা মিয়ার ভাই আসাদ মিয়া পিয়শন ও জোরপূর্বক ওই জমি দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মৃত লাল মিয়ার আরেক ছেলে সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সোনা মিয়া গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখ উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭(সি) ধারায় মামলা করেছেন। তবে ওই তারিখে তাঁরা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন—এমন প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সাইফুল ইসলাম।
প্রতিবেশী সুরুজ আলী, মো. নয়ন মিয়াসহ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জমি ক্রয় ও বন্ধকের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়ে বলেন, জমিগুলো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। তাঁদের দাবি, বর্তমানে মৃত গোমেজ আলীর ছেলেরা বিরোধপূর্ণ জমির কিছু অংশ দখলে রেখেছেন।
দলপা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সোনা মিয়ারা আলোচনায় বসতে রাজি না হওয়ায় তা সম্ভব হয় নি। এটা খুবই দুঃখজনক ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিজুল মিয়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। তা না হলে বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সোনা মিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন । তাঁদের দাবি, তিনি আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন এবং বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সোনা মিয়া। তিনি বলেন, কারও ক্ষতি হোক—এটা আমি চাই না। আমরা কারও জমি দখল করি নি এবং কাউকে হামলা বা ভয়ভীতি দেখাই নি। তবে জমির বিষয়ে আমি দেওয়ানি মামলা করেছি। বিষয়টি আদালতেই সমাধান হবে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছে পুলিশ ।
এসকে/এনকে
আরো পড়ুন : শার্শায় বেড়েছে পাটের আবাদ, ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় কৃষক
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 

















