ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ১৫৭ প্রাণহানি, নিখোঁজ ৪০৩

 

অনলাইন ডেস্ক || এসকেনিউজ২৪ 

নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪০৩ জন। নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।

২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এই দুর্যোগকে নেপালের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ৩৩, গোর্খায় ১৯, ধাদিংয়ে ১৮, নুয়াকোটে ১১, নওয়ালপুরে ১১, তানাহুঁতে সাত এবং রসুয়ায় একটি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।

নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ভারতের ১৩৩, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে মোট ২৬টি দেশের নাগরিক থাকার ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৬১ জন নেপালি নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।

ভূমিকম্পের পরই বিপর্যয়
কর্মকর্তাদের ধারণা, বুধবার সকালে তিব্বত অঞ্চলে হওয়া একটি ভূমিকম্পের পরই বন্যা ও ভূমিধসের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪।
এদিকে তিব্বতের গিরং এলাকায়ও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।

বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ক্ষতি
প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
তীব্র স্রোতে বহু ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। কোথাও কোথাও বিস্তীর্ণ জনপদ কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।

উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী
দুর্যোগে প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি জানান, দুর্গতদের উদ্ধারে সরকারের সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগানো হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইসিমোড সতর্ক করে জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী নদীগুলোর উজানে এখনো বাধা সৃষ্টি হয়ে থাকলে পরবর্তী সময়ে নতুন করে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এসকে/এনএম
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আরো পড়ুন : গাইবান্ধায় এসপির বাংলোতে পুলিশ কনস্টেবলের আত্মহত্যা

One thought on “নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ১৫৭ প্রাণহানি, নিখোঁজ ৪০৩

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

নেত্রকোনায় ৫২৫ কেজি ভারতীয় ফুচকা জব্দ, গ্রেফতার ৪

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে ১৫৭ প্রাণহানি, নিখোঁজ ৪০৩

প্রকাশের সময় : ০২:২৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

 

অনলাইন ডেস্ক || এসকেনিউজ২৪ 

নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪০৩ জন। নিখোঁজদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি পর্যটক রয়েছেন।

২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এই দুর্যোগকে নেপালের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ানে ৩৩, গোর্খায় ১৯, ধাদিংয়ে ১৮, নুয়াকোটে ১১, নওয়ালপুরে ১১, তানাহুঁতে সাত এবং রসুয়ায় একটি মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।

নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ভারতের ১৩৩, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে মোট ২৬টি দেশের নাগরিক থাকার ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ৬১ জন নেপালি নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।

ভূমিকম্পের পরই বিপর্যয়
কর্মকর্তাদের ধারণা, বুধবার সকালে তিব্বত অঞ্চলে হওয়া একটি ভূমিকম্পের পরই বন্যা ও ভূমিধসের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪।
এদিকে তিব্বতের গিরং এলাকায়ও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং।

বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ক্ষতি
প্রবল বন্যা ও ভূমিধসে নেপালের বিদ্যুৎ অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
তীব্র স্রোতে বহু ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। কোথাও কোথাও বিস্তীর্ণ জনপদ কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে।

উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনী
দুর্যোগে প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি জানান, দুর্গতদের উদ্ধারে সরকারের সব ধরনের সক্ষমতা কাজে লাগানো হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। তবে কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইসিমোড সতর্ক করে জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী নদীগুলোর উজানে এখনো বাধা সৃষ্টি হয়ে থাকলে পরবর্তী সময়ে নতুন করে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এসকে/এনএম
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আরো পড়ুন : গাইবান্ধায় এসপির বাংলোতে পুলিশ কনস্টেবলের আত্মহত্যা