ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিকতার আকর্ষণীয় দিক : সত্যের সন্ধানে এক রোমাঞ্চকর পেশা

 

দিলওয়ার খান ||এসকেনিউজ২৪ 

সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়; এটি দায়িত্ব, সাহস, অনুসন্ধিৎসা এবং জনস্বার্থ রক্ষার এক অনন্য অঙ্গীকার। প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল এই পেশা সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে, মানুষের কথা বলে এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণেই সাংবাদিকতা আজও সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও চ্যালেঞ্জিং পেশাগুলোর একটি।

সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সত্য উদ্ঘাটন। সমাজের অন্যায়, দুর্নীতি, বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনার তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরে একজন সাংবাদিক জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অনেক সময় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রশাসনের টনক নড়ায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করে এবং মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

এই পেশার আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো ইতিহাসের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হওয়ার সুযোগ। রাজনৈতিক পরিবর্তন, নির্বাচন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আন্তর্জাতিক সম্মেলন কিংবা বড় কোনো ক্রীড়া আসর—সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রথম সারিতে থাকেন সাংবাদিকরা। ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠা মুহূর্তগুলো কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই অনন্য।

সাংবাদিকতা মানুষকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যায়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ মানুষ—সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি অর্জিত হয়।

একই সঙ্গে সাংবাদিকতা সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে। অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের সমস্যা তুলে ধরে তাদের দাবি-দাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এই পেশার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

সাংবাদিকতার আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর বৈচিত্র্য। এখানে প্রতিটি দিন নতুন, প্রতিটি দায়িত্ব ভিন্ন। কোনো দিন মাঠে প্রতিবেদন সংগ্রহ, কোনো দিন অনুসন্ধান, আবার কোনো দিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাক্ষাৎকার—এভাবেই প্রতিদিন নতুন অভিজ্ঞতা ও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। ফলে এই পেশায় একঘেয়েমির সুযোগ খুব কম।

বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় কোনো ঘটনার নেপথ্যের সত্য উদ্ঘাটনের যে রোমাঞ্চ, তা অন্য অনেক পেশায় পাওয়া যায় না। তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য তুলে ধরার এই প্রক্রিয়া সাংবাদিকতাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যেখানে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে এবং নিজের কাজের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সম্ভাবনাও থাকে। সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থের পক্ষে নির্ভীক অবস্থান নেওয়ার মধ্যেই এই পেশার প্রকৃত মর্যাদা নিহিত।

সবশেষে বলা যায়, ক্ষমতাশালীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরার অসাধারণ শক্তিই সাংবাদিকতাকে অন্য সব পেশা থেকে স্বতন্ত্র, মর্যাদাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

( দিলওয়ার খান, সিনিয়র সাংবাদিক, দৈনিক সংগ্রাম/বিডি২৪লাইভ)

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে ওসির মতবিনিময় 

সাংবাদিকতার আকর্ষণীয় দিক : সত্যের সন্ধানে এক রোমাঞ্চকর পেশা

প্রকাশের সময় : ০৬:৪২:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

 

দিলওয়ার খান ||এসকেনিউজ২৪ 

সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়; এটি দায়িত্ব, সাহস, অনুসন্ধিৎসা এবং জনস্বার্থ রক্ষার এক অনন্য অঙ্গীকার। প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল এই পেশা সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে, মানুষের কথা বলে এবং ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণেই সাংবাদিকতা আজও সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও চ্যালেঞ্জিং পেশাগুলোর একটি।

সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো সত্য উদ্ঘাটন। সমাজের অন্যায়, দুর্নীতি, বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনার তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরে একজন সাংবাদিক জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অনেক সময় একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রশাসনের টনক নড়ায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করে এবং মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

এই পেশার আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো ইতিহাসের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হওয়ার সুযোগ। রাজনৈতিক পরিবর্তন, নির্বাচন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আন্তর্জাতিক সম্মেলন কিংবা বড় কোনো ক্রীড়া আসর—সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার প্রথম সারিতে থাকেন সাংবাদিকরা। ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠা মুহূর্তগুলো কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই অনন্য।

সাংবাদিকতা মানুষকে মানুষের কাছাকাছি নিয়ে যায়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ মানুষ—সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ তৈরি হয়। এর ফলে সমাজ, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি অর্জিত হয়।

একই সঙ্গে সাংবাদিকতা সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে। অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের সমস্যা তুলে ধরে তাদের দাবি-দাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এই পেশার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

সাংবাদিকতার আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর বৈচিত্র্য। এখানে প্রতিটি দিন নতুন, প্রতিটি দায়িত্ব ভিন্ন। কোনো দিন মাঠে প্রতিবেদন সংগ্রহ, কোনো দিন অনুসন্ধান, আবার কোনো দিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাক্ষাৎকার—এভাবেই প্রতিদিন নতুন অভিজ্ঞতা ও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। ফলে এই পেশায় একঘেয়েমির সুযোগ খুব কম।

বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় কোনো ঘটনার নেপথ্যের সত্য উদ্ঘাটনের যে রোমাঞ্চ, তা অন্য অনেক পেশায় পাওয়া যায় না। তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সত্য তুলে ধরার এই প্রক্রিয়া সাংবাদিকতাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যেখানে প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার সুযোগ রয়েছে এবং নিজের কাজের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সম্ভাবনাও থাকে। সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থের পক্ষে নির্ভীক অবস্থান নেওয়ার মধ্যেই এই পেশার প্রকৃত মর্যাদা নিহিত।

সবশেষে বলা যায়, ক্ষমতাশালীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করা এবং সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরার অসাধারণ শক্তিই সাংবাদিকতাকে অন্য সব পেশা থেকে স্বতন্ত্র, মর্যাদাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

( দিলওয়ার খান, সিনিয়র সাংবাদিক, দৈনিক সংগ্রাম/বিডি২৪লাইভ)