
বিশেষ প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় দেলোয়ারা দিলু (৪২) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। নিহতের পরিবারের দাবি, ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ বলছে, ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা এখনই নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকালে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে বলে জানান নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোঃ মাজহারুল আমীন।
এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের লালচাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটলে রাতে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত বাবুল মিয়া (২৮) পলাতক রয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের জাহাঙ্গীর চৌধুরীর ছেলে।
নিহত দেলোয়ারা লালচাপুর গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী এনামুল হকের স্ত্রী।
পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে জানান, বাবুল মিয়া দেলোয়ারার কাছে রান্নার লাকড়ি বিক্রি করেছিলেন। ওই লাকড়ির ৫০০ টাকা পরিশোধ করতে এবং একটি বটি দা ফেরত আনতে রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাবুলের বাড়িতে যান দেলোয়ারা। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে বের হন।
একপর্যায়ে বাবুলের বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলে অচেতন অবস্থায় দেলোয়ারাকে পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৯টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক সেন্টু মিয়া সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
নিহতের ভাসুর মো. শাহজাহান মিয়া অভিযোগ করে বলেন, দেলোয়ারার হাত-পায়ে বাঁধার চিহ্ন এবং গলায় ইস্পাতের তার দিয়ে বাঁধনের কোনো কিছুর দাগ দেখা গেছে। তার ধারণা, বাবুল কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে দেলোয়ারাকে আক্রমণ করেন এবং ধর্ষণ অথবা ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে তাকে হত্যা করেন।
তিনি আরও বলেন, বাবুলের ঘরে ধস্তাধস্তির চিহ্ন দেখা গেছে। তাদের ধারণা, ওই ঘরেই দেলোয়ারাকে হত্যা করে পরে বাড়ির পেছনের বাঁশঝাড়সংলগ্ন জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়। নিহতের স্বামী ও ছেলে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও জানান তিনি।
নিহতের দেবরের ছেলে ইব্রাহিম বলেন, আসরের নামাজের পর বটি দা আনতে এবং বাবুলের কাছে পাওনা ৫০০ টাকা দিতে চাচি তার বাড়িতে গিয়েছিলেন। পরে তিনি বাড়িতে না ফেরায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে জঙ্গলে তার মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। তারও ধারণা, কোন কিছু লোকাতেই তাঁর চাচিকে হত্যা করা হয়েছে।
বৈরাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান তালুকদার মোশাররফ বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাজহারুল আমীন বলেন, ময়নাতদন্তে প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি আরও কিছু নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। ল্যাবরেটরি রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, দেলোয়ারার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার গলায় দাগ রয়েছে এবং শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাকে ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এসকে/এনজে
আরো পড়ুন : নোয়াখালীতে দুই আবাসিক হোটেলে পুলিশের অভিযান : নারীসহ গ্রেফতার ৮
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 

















One thought on “নেত্রকোনার পূর্বধলায় প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, অভিযুক্ত পলাতক”