
নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪
১৯৭১ সালের এই দিনে, ২৬ জুলাই, মহান মুক্তিযুদ্ধের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছিল নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখসমরে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সাতজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের সেই আত্মত্যাগকে স্মরণ করে আজ পালিত হচ্ছে ঐতিহাসিক নাজিরপুর যুদ্ধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছে।
প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ড।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিক রহমান জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় নাজিরপুর স্মৃতিসৌধে এবং বেলা সাড়ে ১১টায় লেংগুরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ি এলাকায় সাত শহীদের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এরপর লেংগুরা বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা। পাশাপাশি বাদ জোহর লেংগুরা জামে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং স্থানীয় মন্দির ও গির্জায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
যেভাবে সংঘটিত হয়েছিল নাজিরপুরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ:
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারি চাঁন মিয়ার বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই সকালে বিরিশিরি থেকে কলমাকান্দার দিকে পাকবাহিনীর অগ্রযাত্রার খবর পান মুক্তিযোদ্ধারা। এরপর কমান্ডার নাজমুল হক তারার নেতৃত্বে ‘টাইগার কোম্পানি’র ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে নাজিরপুর বাজারের বিভিন্ন প্রবেশপথে ওঁৎ পেতে অবস্থান নেন।
দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর শত্রুপক্ষের কোনো উপস্থিতি না থাকায় তাঁরা ক্যাম্পে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু নাজিরপুর কাচারির কাছে পৌঁছানোর পরপরই পেছন থেকে অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করে পাকিস্তানি সেনারা। অপ্রস্তুত অবস্থায়ও মুক্তিযোদ্ধারা সাহসিকতার সঙ্গে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শুরু হয় তীব্র সম্মুখযুদ্ধ। একপর্যায়ে পাকিস্তানি বাহিনীর ভারী অস্ত্রের মুখে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে সাতজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।
যাঁদের আত্মত্যাগে অমর নাজিরপুর যুদ্ধ :
এই যুদ্ধে শহীদ হন নেত্রকোনার আবদুল আজিজ ও মো. ফজলুল হক, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার মো. ইয়ার মামুদ, ভবতোষ চন্দ্র দাস, মো. নূরুজ্জামান ও দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস এবং জামালপুরের মো. জামাল উদ্দিন।
যুদ্ধ শেষে ভারত সীমান্তসংলগ্ন লেংগুরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ি এলাকায় ১১৭২ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে তাঁদের সমাহিত করা হয়। এরপর থেকেই ২৬ জুলাই দিনটি ‘ঐতিহাসিক নাজিরপুর যুদ্ধ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা এই সাত বীর শহীদের আত্মত্যাগ আজও নেত্রকোনাসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষের কাছে দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মত্যাগের অনন্য প্রেরণা হয়ে আছে। তাঁদের বীরত্বগাথা ইতিহাসের পাতায় চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।
এসকে/এনএম
আরো পড়ুন : মদনের মাহবুবুল নারকোটিক্স অফিসার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন সদস্য সচিব
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 
















