ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ায় নারীর অসামাজিক কর্মকাণ্ড  ঘিরে স্থানীয়দের অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবী 

 

মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, কেন্দুয়া ||এসকেনিউজ২৪ 

মামলা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরোধ ও উত্তেজনা; কয়েকজন বাসিন্দার দাবি—হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী।

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ৯নং নওপাড়া ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামে রুনা আক্তার নামে এক নারীকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের আলী উসমানের মেয়ে রুনা আক্তারের পারিবারিক জীবনে একাধিকবার পরিবর্তন আসে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তার প্রথম বিয়ে হয় ১০নং কান্দিউড়া ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। ওই সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে প্রথম সংসারের বিচ্ছেদের পর একই গ্রামের আরেক ব্যক্তির সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। ওই সংসারেও একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয় বলে স্থানীয়রা জানান। তবে দ্বিতীয় সংসারও ঠিকেনি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন, রুনা বর্তমানে বাহিরের বিভিন্ন লোকজনদের সাথে চলাফেরা করে অবৈধ কাজ করে, তার মেয়েকে লেলিয়ে দিয়ে বিভিন্ন লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে ভয় ভীতি দেখায়। কেন্দুয়ার বালিজুড়া গ্রামের এক সেনা সদস্যর বিরুদ্ধেও মামলা করেন।

এদিকে, পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা—ইনছান আলী, মো. শাহ আলম, ভিক্ষু মিয়া, নুর মিয়া, মিজানুর রহমান ও পলাশ মিয়া—অভিযোগ করে বলেন- রুনা আক্তারের অসামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সময় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।

তাদের দাবি- তার আচরণ ও বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ে কেউ প্রতিবাদ বা কথা বললে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগকারীরা বলেন- তাদেরসহ গ্রামের আরও অনেক মানুষের বিরুদ্ধে রুনা আক্তার বিভিন্ন সময়ে মামলা করেছেন। এসব মামলার বিষয়ে তারা অভিযোগ করেন যে- অনেক ক্ষেত্রেই তারা হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের দাবি, সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, মামলা ও আইনি জটিলতার কারণে গ্রামের অনেক মানুষ আতঙ্ক ও চাপের মধ্যে রয়েছেন। তারা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন- “আমরা বিষয়টির সঠিক তদন্ত হোক। কারও বিরুদ্ধে অন্যায় হলে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তেমনি কেউ যেন মিথ্যা অভিযোগ বা হয়রানির শিকার না হন—এটাই আমাদের দাবি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুনা আক্তারের বাবার বাড়িতে গিয়ে রুনা আক্তারকে পাওয়া যায়নি, তার নাম্বারও তার পরিবারের কাছে পাওয়া যায়নি। তবে রুনা আক্তারের মা ও তার বাবা আলী উসমান বলেন- আমার মেয়ের বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। আমরা এ-সব মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এসকে/এনএস

আরো পড়ুন : নেত্রকোনার সীমান্তে আটক রোহিঙ্গা মা-মেয়ে, কুতুপালং ক্যাম্পে ফেরত পাঠাল পুলিশ

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে ওসির মতবিনিময় 

কেন্দুয়ায় নারীর অসামাজিক কর্মকাণ্ড  ঘিরে স্থানীয়দের অভিযোগ, সুষ্ঠু তদন্তের দাবী 

প্রকাশের সময় : ০৩:১০:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

 

মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, কেন্দুয়া ||এসকেনিউজ২৪ 

মামলা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরোধ ও উত্তেজনা; কয়েকজন বাসিন্দার দাবি—হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান এলাকাবাসী।

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ৯নং নওপাড়া ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামে রুনা আক্তার নামে এক নারীকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের আলী উসমানের মেয়ে রুনা আক্তারের পারিবারিক জীবনে একাধিকবার পরিবর্তন আসে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তার প্রথম বিয়ে হয় ১০নং কান্দিউড়া ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। ওই সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে প্রথম সংসারের বিচ্ছেদের পর একই গ্রামের আরেক ব্যক্তির সঙ্গে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। ওই সংসারেও একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয় বলে স্থানীয়রা জানান। তবে দ্বিতীয় সংসারও ঠিকেনি বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন, রুনা বর্তমানে বাহিরের বিভিন্ন লোকজনদের সাথে চলাফেরা করে অবৈধ কাজ করে, তার মেয়েকে লেলিয়ে দিয়ে বিভিন্ন লোকজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে ভয় ভীতি দেখায়। কেন্দুয়ার বালিজুড়া গ্রামের এক সেনা সদস্যর বিরুদ্ধেও মামলা করেন।

এদিকে, পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা—ইনছান আলী, মো. শাহ আলম, ভিক্ষু মিয়া, নুর মিয়া, মিজানুর রহমান ও পলাশ মিয়া—অভিযোগ করে বলেন- রুনা আক্তারের অসামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন সময় বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।

তাদের দাবি- তার আচরণ ও বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ে কেউ প্রতিবাদ বা কথা বললে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগকারীরা বলেন- তাদেরসহ গ্রামের আরও অনেক মানুষের বিরুদ্ধে রুনা আক্তার বিভিন্ন সময়ে মামলা করেছেন। এসব মামলার বিষয়ে তারা অভিযোগ করেন যে- অনেক ক্ষেত্রেই তারা হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের দাবি, সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, মামলা ও আইনি জটিলতার কারণে গ্রামের অনেক মানুষ আতঙ্ক ও চাপের মধ্যে রয়েছেন। তারা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন- “আমরা বিষয়টির সঠিক তদন্ত হোক। কারও বিরুদ্ধে অন্যায় হলে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তেমনি কেউ যেন মিথ্যা অভিযোগ বা হয়রানির শিকার না হন—এটাই আমাদের দাবি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুনা আক্তারের বাবার বাড়িতে গিয়ে রুনা আক্তারকে পাওয়া যায়নি, তার নাম্বারও তার পরিবারের কাছে পাওয়া যায়নি। তবে রুনা আক্তারের মা ও তার বাবা আলী উসমান বলেন- আমার মেয়ের বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। আমরা এ-সব মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এসকে/এনএস

আরো পড়ুন : নেত্রকোনার সীমান্তে আটক রোহিঙ্গা মা-মেয়ে, কুতুপালং ক্যাম্পে ফেরত পাঠাল পুলিশ