ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোহনগঞ্জে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় পলাতক আসামি গ্রেফতার

 

সুমন মাহমুদ শেখ, মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি  || এসকেনিউজ২৪

মোহনগঞ্জ উপজেলার রানাহিজল গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার পলাতক আসামি মুন্না মিয়াকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ভোরে নেত্রকোনা শহরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাব -১৪।পরে তাকে মোহনগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত মুন্না মিয়া উপজেলার ছয় নং সুয়াইর ইউনিয়নের রানাহিজল গ্রামের শহিদ আলম ওরফে ছোট্টন মিয়ার ছেলে।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন মুন্নাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।”

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। দরিদ্র পরিবারের ওই শিশুটি তার পরিবারের সাথে অন্যের বাড়িতে বসবাস করে আসছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ জুন রাত ১০ টার দিকে শিশুটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হয়। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী লম্পট মুন্না শিশুটিকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে নিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আরও বলা হয় এ বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানালে তাকে হত্যা করা হবে বলেও শিশুটিকে হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর ভয়ে শিশুটি প্রথমে এ বিষয়টি কাউকে জানায়নি। পরদিন শিশুটির শারীরিকভাবে অসুস্থতার পাশাপাশি অব্যাহত রক্তক্ষরণ হতে থাকায় সে তার ফুফুর কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। পরে তার ফুফু বিষয়টি শিশুটির বাবার কাছে জানান।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার বিচার চেয়ে অভিযুক্তের পরিবারের কাছে গেলে তারা বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বেড় করে দেন।
পরে নিরুপায় হয়ে শিশুটির পিতা বাদি হয়ে ওই রাতেই মোহনগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযুক্ত মুন্নার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামালা দায়েরের পরপরই অভিযুক্ত মুন্না বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গা-ঢাকা দেয়।

এদিকে আসামি মুন্নাকে গ্রেফতার করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে আইন-শৃঙ্খলার বাহিনী। এক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নেত্রকোনা সদরে সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে মঙ্গলবার ভোরে র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, “মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এসকে/এনএম 

আরো পড়ুন : নেত্রকোনায় মগড়া নদীতে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে ওসির মতবিনিময় 

মোহনগঞ্জে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় পলাতক আসামি গ্রেফতার

প্রকাশের সময় : ০১:৪২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

 

সুমন মাহমুদ শেখ, মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি  || এসকেনিউজ২৪

মোহনগঞ্জ উপজেলার রানাহিজল গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার পলাতক আসামি মুন্না মিয়াকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ভোরে নেত্রকোনা শহরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাব -১৪।পরে তাকে মোহনগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত মুন্না মিয়া উপজেলার ছয় নং সুয়াইর ইউনিয়নের রানাহিজল গ্রামের শহিদ আলম ওরফে ছোট্টন মিয়ার ছেলে।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন মুন্নাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে মাধ্যমে জেল-হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।”

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। দরিদ্র পরিবারের ওই শিশুটি তার পরিবারের সাথে অন্যের বাড়িতে বসবাস করে আসছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ জুন রাত ১০ টার দিকে শিশুটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হয়। এ সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিবেশী লম্পট মুন্না শিশুটিকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যায়। বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে নিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আরও বলা হয় এ বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানালে তাকে হত্যা করা হবে বলেও শিশুটিকে হুমকি দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর ভয়ে শিশুটি প্রথমে এ বিষয়টি কাউকে জানায়নি। পরদিন শিশুটির শারীরিকভাবে অসুস্থতার পাশাপাশি অব্যাহত রক্তক্ষরণ হতে থাকায় সে তার ফুফুর কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। পরে তার ফুফু বিষয়টি শিশুটির বাবার কাছে জানান।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার বিচার চেয়ে অভিযুক্তের পরিবারের কাছে গেলে তারা বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে বেড় করে দেন।
পরে নিরুপায় হয়ে শিশুটির পিতা বাদি হয়ে ওই রাতেই মোহনগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অভিযুক্ত মুন্নার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামালা দায়েরের পরপরই অভিযুক্ত মুন্না বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গা-ঢাকা দেয়।

এদিকে আসামি মুন্নাকে গ্রেফতার করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে আইন-শৃঙ্খলার বাহিনী। এক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নেত্রকোনা সদরে সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে মঙ্গলবার ভোরে র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, “মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এসকে/এনএম 

আরো পড়ুন : নেত্রকোনায় মগড়া নদীতে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার