
নিজস্ব প্রতিনিধি :
সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও জনসেবায় নিবেদিত এক বর্ণাঢ্য জীবন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার ১৩ নম্বর পাইকুড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট আইনজীবী মরহুম অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া রেখে গেছেন উন্নয়ন ও জনকল্যাণের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
শিক্ষা বিস্তার, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাঁর অবদান আজও স্মরণ করেন স্থানীয়রা। বাবার সেই জনসেবার আদর্শ ধারণ করে এলাকার মানুষের অধিকার রক্ষা ও কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁর ছেলে মো. ইকবাল কবির।
আইন পেশা থেকে জনপ্রতিনিধিত্ব
মরহুম অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতের একজন পরিচিত আইনজীবী ছিলেন। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি পাইকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৮ সালেও তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে এলাকার শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থায় অবদান
শিক্ষা বিস্তারে তাঁর উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল ১৯৭৩ সালে নিজের বাড়িতে বাড়লা গ্রামে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয়টি স্থানান্তরিত ও সরকারি হয়, যা বর্তমানে বাড়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে পরিচিত।
১৯৭৪ সালের ভয়াবহ বন্যা ও দুর্ভিক্ষের সময় দুর্গম এলাকায় ত্রাণ বিতরণে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৮৮ সালের বন্যার সময়ও তৎকালীন কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ থেকে ইউনিয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দ সংগ্রহ করে উন্নয়নকাজে অবদান রাখেন।
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে পাইকুড়া বাজার থেকে বৈরাটী আশ্রম পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, বাড়লা গ্রামের সড়ক উন্নয়ন, পেমই পুলিশ তদন্ত ক্যাম্প পর্যন্ত নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং পেচুন্দুরী থেকে শিমুলতলা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। পাশাপাশি ময়মনসিংহ-নান্দাইল মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণেও তাঁর উদ্যোগের কথা উল্লেখযোগ্য।
পাইকুড়া বাজারে ব্যবসায়ীদের জন্য ঘর বরাদ্দ ও বাজারের উন্নয়ন, বেতাই নদীর ওপর সেতু স্থাপনে ভূমিকা এবং ১৯৭৩ সালে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পাইকুড়া বাজারে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ তাঁর কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
বাবার আদর্শে জনকল্যাণে ইকবাল কবির
মরহুম অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম ভূঁইয়ার ছেলে মো. ইকবাল কবিরও এলাকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। একজন মানবাধিকারকর্মী হিসেবে তিনি দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে কাজ করে যাচ্ছেন।
২০২১ সালের ২ আগস্ট সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে সড়কটি সরকারি উদ্যোগে পাকা করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্বাস্থ্যসেবায়ও তাঁর উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের ১৬ মে বাইতুল হিকমাহ কমপ্লেক্সে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি ছানি রোগীদের স্বল্পমূল্যে লেন্সসহ অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে ২০১১ সালে ময়মনসিংহ বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের সহযোগিতায় শত শত রোগীর ছানি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
এ ছাড়া ২০১১ সালের ২৮ অক্টোবর নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে সেলাই ও কারিগরি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা
আসন্ন ১৩ নম্বর পাইকুড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে এলাকাবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা চেয়েছেন মো. ইকবাল কবির।
তিনি এলাকার অবহেলিত ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তাঁর লক্ষ্য, বাবার আদর্শ অনুসরণ করে পাইকুড়া ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা।
এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, মরহুম অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম ভূঁইয়ার রেখে যাওয়া উন্নয়ন ও জনসেবার ঐতিহ্য নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত হবে। সেই ধারাবাহিকতায় ইকবাল কবিরের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততা আগামী দিনের ইউনিয়ন উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
এসকে/এনএম
আরও পড়ুন : পূর্বধলা বাজার বণিক সমিতির নতুন কমিটি’র সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত
এসকেনিউজ২৪ | সত্যের পথে কলমের সাথে |দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদে চোখ রাখুন
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 


















