ঢাকা ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘তমঘা-ই-খিদমত’ প্রত্যাখ্যানকারী ও ‘লোকসাহিত্য বিশারদ’ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দুয়ায় আলোচনা সভা




 

কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি :

লোকসাহিত্যিক, গবেষক ও বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ও ‘তমঘা-ই-খিদমত’ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ‘লোকসাহিত্য বিশারদ’ মোহাম্মাদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরীর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের আয়োজনে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‘সাহিত্য সংস্কৃতি ঐতিহ্যের সন্ধানে, আমরা মিশি প্রাণে প্রাণে’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরীর জীবন, সাহিত্যকর্ম এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং চিন্তা জগৎ মানবিক কল্যাণ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান শাহ্ আলম তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন, লোকসাহিত্যিক ও পালা-নাট্যকার রাখাল বিশ্বাস এবং কবি ও চারণ সাংবাদিক, কেন্দুয়া উপজেলা মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নূরুল হক ভূঞা, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও গীতিকার মো. আবুল বাশার তালুকদার, কবি ও সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার, কবি ও গীতিকার মো. জহিরুল ইসলাম, সাহিত্যপ্রেমী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হামিদুল হক বুলবু, কবি ও গীতিকার এম এ আকবর এবং কবি মো. জুনাইদুল হক (মারুফ) প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, শৈশবে পিতৃবিয়োগের পর দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী নিজ যোগ্যতা ও প্রতিভায় শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিসরে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তাঁর জীবনসংগ্রাম, সাহিত্যসাধনা ও দেশপ্রেমের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।বিশেষ করে ১৯৬৮ সালে তাঁকে ময়মনসিংহের প্রগতিশীল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘লোকসাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তারা ।

বক্তারা আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে পাকিস্তানি শাসনামলের শোষণ-নির্যাতনের প্রতিবাদে দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী তৎকালীন সরকারের দেওয়া ‘তমঘা-ই-খিদমত’ উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন।

লোকসাহিত্যের মাধ্যমে প্রতিবাদী চেতনা ও দেশপ্রেমের এমন দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তাঁরা কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

তাঁদের মতে, কেন্দুয়ায় এই গুণী ব্যক্তির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এমন আলোচনা সভার আয়োজন সম্ভবত এটাই প্রথম। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুণীজনদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও গীতিকবি মো. আব্দুল হাই সেলিম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় কবি, শিল্পী, গীতিকার, নাট্যকার, লোক সংগ্রাহক ও গণমাধ্যম কর্মীরা৷

উল্লেখ্য, মোহাম্মাদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী ১৯০১ সালের ২২ অক্টোবর তৎকালীন কেন্দুয়া উপজেলার অন্তর্গত বর্তমান নেত্রকোণা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের কাসিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটির ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

এসকেনিউজ২৪ | সত্যের পথে কলমের সাথে | দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদে চোখ রাখুন

 

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

পে-স্কেল ও পেশাজীবীদের আর্থিক মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সেমিনার, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

‘তমঘা-ই-খিদমত’ প্রত্যাখ্যানকারী ও ‘লোকসাহিত্য বিশারদ’ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দুয়ায় আলোচনা সভা

প্রকাশের সময় : ০৩:১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

 

কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি :

লোকসাহিত্যিক, গবেষক ও বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত ও ‘তমঘা-ই-খিদমত’ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী ‘লোকসাহিত্য বিশারদ’ মোহাম্মাদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরীর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের আয়োজনে কেন্দুয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‘সাহিত্য সংস্কৃতি ঐতিহ্যের সন্ধানে, আমরা মিশি প্রাণে প্রাণে’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরীর জীবন, সাহিত্যকর্ম এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও সাংবাদিক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং চিন্তা জগৎ মানবিক কল্যাণ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান শাহ্ আলম তালুকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন, লোকসাহিত্যিক ও পালা-নাট্যকার রাখাল বিশ্বাস এবং কবি ও চারণ সাংবাদিক, কেন্দুয়া উপজেলা মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নূরুল হক ভূঞা, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও গীতিকার মো. আবুল বাশার তালুকদার, কবি ও সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকার, কবি ও গীতিকার মো. জহিরুল ইসলাম, সাহিত্যপ্রেমী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হামিদুল হক বুলবু, কবি ও গীতিকার এম এ আকবর এবং কবি মো. জুনাইদুল হক (মারুফ) প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, শৈশবে পিতৃবিয়োগের পর দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী নিজ যোগ্যতা ও প্রতিভায় শিক্ষকতার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিসরে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। তাঁর জীবনসংগ্রাম, সাহিত্যসাধনা ও দেশপ্রেমের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।বিশেষ করে ১৯৬৮ সালে তাঁকে ময়মনসিংহের প্রগতিশীল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘লোকসাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তারা ।

বক্তারা আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে পাকিস্তানি শাসনামলের শোষণ-নির্যাতনের প্রতিবাদে দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী তৎকালীন সরকারের দেওয়া ‘তমঘা-ই-খিদমত’ উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন।

লোকসাহিত্যের মাধ্যমে প্রতিবাদী চেতনা ও দেশপ্রেমের এমন দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তাঁরা কেন্দুয়া লোকজ সাহিত্য আসরের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

তাঁদের মতে, কেন্দুয়ায় এই গুণী ব্যক্তির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এমন আলোচনা সভার আয়োজন সম্ভবত এটাই প্রথম। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গুণীজনদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও গীতিকবি মো. আব্দুল হাই সেলিম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় কবি, শিল্পী, গীতিকার, নাট্যকার, লোক সংগ্রাহক ও গণমাধ্যম কর্মীরা৷

উল্লেখ্য, মোহাম্মাদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী ১৯০১ সালের ২২ অক্টোবর তৎকালীন কেন্দুয়া উপজেলার অন্তর্গত বর্তমান নেত্রকোণা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের কাসিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : বাংলাদেশ তৃণমূল সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটির ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

এসকেনিউজ২৪ | সত্যের পথে কলমের সাথে | দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদে চোখ রাখুন