
নিউজ ডেস্ক | এসকেনিউজ২৪
নিজের যত্ন, পরিবারের সুরক্ষা—সবার দায়িত্ব
ডেঙ্গু এখন আর কেবল একটি মৌসুমি রোগ নয়; বরং এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বর্ষা ও পরবর্তী সময়ে এডিস মশার প্রজনন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। সামান্য অসচেতনতা একটি পরিবারকে যেমন বিপদের মুখে ফেলতে পারে, তেমনি তা সমাজেও রোগের বিস্তার ঘটাতে পারে।
ডেঙ্গু ভাইরাস মূলত এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিই এ মশার প্রজননের অন্যতম উৎস। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, টায়ার কিংবা ছাদে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ হলো—মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা।
জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। ডেঙ্গুর সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
প্রতিরোধ শুরু হোক ঘর থেকেই :
◑ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের প্রত্যেকের কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে—
◑ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করা।
◑বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমতে না দেওয়া।
◑ফুলের টব ও পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করা।
◑পরিত্যক্ত বোতল, টায়ার, কৌটা ও অন্যান্য পাত্র সরিয়ে ফেলা।
◑দিনের বেলাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী মশা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া।
◑শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা।
◑জ্বর হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
◑নিজের বাড়ির পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশও পরিচ্ছন্ন রাখা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি পরিবার, সমাজ ও প্রতিটি নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব। প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও নাগরিকদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া স্থায়ীভাবে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানো কঠিন।
আজ আমরা যদি নিজের ঘর, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখি, জমে থাকা পানি অপসারণ করি এবং অন্যদেরও সচেতন করি—তাহলেই ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।
সচেতনতা হোক প্রতিরোধের প্রথম পদক্ষেপ।
নিজে সচেতন হোন, পরিবারকে নিরাপদ রাখুন, অন্যকেও সচেতন করুন।
— সম্পাদক
আরো পড়ুন : রোয়াইল বাড়ি দুর্গ : ইতিহাস, কিংবদন্তি আর সুরঙ্গের রহস্য
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 





















