ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ায় লাইসেন্স ছাড়াই মাংসের ব্যবসা, মৃত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ




 

নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই বিভিন্ন হাটবাজারে গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে এক মাংস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মৃত গরু কিনে জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেন্দুয়া পৌর শহরের একাধিক মাংস ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা যায়। তবে ভাইরাল ভিডিওটির তথ্য ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দুয়া পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রায় এক ডজন মাংস ব্যবসায়ী রয়েছেন। এসব দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৯ থেকে ১০টি গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন পশু জবাই করা হয় ।

শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে জবাইয়ের সংখ্যা আরও বেড়ে যায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

নিয়মিত মাংস ক্রেতা ও কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এটা কখনো কারও কাম্য হতে পারে না। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

কেন্দুয়া পৌর শহরের সাউদপাড়া মোড় এলাকার ‘মায়ের দোয়া গোস্তের দোকান’-এর ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মাংস ব্যবসায়ী আবুল কালামসহ একাধিক ব্যবসায়ী লাইসেন্স ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই মাংস বিক্রির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তারা সব রকমের নিয়ম মেনে মাংস ব্যবসা করতে চান এবং সাধারণত সুস্থ-সবল পশুই জবাই করে মাংস বিক্রি করেন।

অভিযুক্ত মাংস ব্যবসায়ি আরাধনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি। তবে তার ভাই মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। বর্তমানে আমার ভাই চট্টগ্রামে রয়েছে এবং তার মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করতে পারছি না। আমার ভাই মূলত ছাগলের মাংস বিক্রি করে। তবে প্রায়ই গরুর মাংসও বিক্রি করে থাকে ।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, কোনো মাংস ব্যবসায়ীরই লাইসেন্স নেই। জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই মাংস ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। কিন্তু তারা ব্যস্ততার অজুহাতে অনেক সময় প্রশিক্ষণে আসতে চান না। তিনি আরও বলেন, অসুস্থ বা মৃত প্রাণী বা পশুর মাংস নিঃসন্দেহে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেন্দুয়া পৌরসভার প্রশাসক সানজিদা চৌধুরী বলেন, ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি।

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : দুর্গাপুরে পুলিশের অভিযানে ভারতীয় আইস ভদকা উদ্ধার, যুবক আটক

One thought on “কেন্দুয়ায় লাইসেন্স ছাড়াই মাংসের ব্যবসা, মৃত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ”

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

কেন্দুয়ায় লাইসেন্স ছাড়াই মাংসের ব্যবসা, মৃত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৫:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই বিভিন্ন হাটবাজারে গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে এক মাংস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মৃত গরু কিনে জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেন্দুয়া পৌর শহরের একাধিক মাংস ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পর্যালোচনা করে এসব তথ্য জানা যায়। তবে ভাইরাল ভিডিওটির তথ্য ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দুয়া পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে প্রায় এক ডজন মাংস ব্যবসায়ী রয়েছেন। এসব দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৯ থেকে ১০টি গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন পশু জবাই করা হয় ।

শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে জবাইয়ের সংখ্যা আরও বেড়ে যায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

নিয়মিত মাংস ক্রেতা ও কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এটা কখনো কারও কাম্য হতে পারে না। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

কেন্দুয়া পৌর শহরের সাউদপাড়া মোড় এলাকার ‘মায়ের দোয়া গোস্তের দোকান’-এর ব্যবসায়ী মো. আমিনুল ইসলাম, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মাংস ব্যবসায়ী আবুল কালামসহ একাধিক ব্যবসায়ী লাইসেন্স ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই মাংস বিক্রির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তারা সব রকমের নিয়ম মেনে মাংস ব্যবসা করতে চান এবং সাধারণত সুস্থ-সবল পশুই জবাই করে মাংস বিক্রি করেন।

অভিযুক্ত মাংস ব্যবসায়ি আরাধনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি। তবে তার ভাই মো. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। বর্তমানে আমার ভাই চট্টগ্রামে রয়েছে এবং তার মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করতে পারছি না। আমার ভাই মূলত ছাগলের মাংস বিক্রি করে। তবে প্রায়ই গরুর মাংসও বিক্রি করে থাকে ।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, কোনো মাংস ব্যবসায়ীরই লাইসেন্স নেই। জবাইয়ের আগে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা প্রায়ই মাংস ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি। কিন্তু তারা ব্যস্ততার অজুহাতে অনেক সময় প্রশিক্ষণে আসতে চান না। তিনি আরও বলেন, অসুস্থ বা মৃত প্রাণী বা পশুর মাংস নিঃসন্দেহে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কেন্দুয়া পৌরসভার প্রশাসক সানজিদা চৌধুরী বলেন, ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি।

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : দুর্গাপুরে পুলিশের অভিযানে ভারতীয় আইস ভদকা উদ্ধার, যুবক আটক