ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাতে চাপ দিতেই গুঁড়ো কংক্রিট! নেত্রকোনায় ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বাঁধ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি  || এসকেনিউজ২৪

নেত্রকোনা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের তেলীগাতী এলাকায় মগড়া নদীর ভাঙন থেকে নতুন সড়ক রক্ষায় নির্মাণাধীন নদীতীর রক্ষা বাঁধে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বাঁধে ব্যবহৃত কংক্রিটের ব্লক এতটাই দুর্বল যে খালি হাতের চাপেই ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই বাঁধের কয়েকটি অংশে ধস ও ব্লক দেবে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিবাদের মুখে বর্তমানে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বৃহৎ মা’র মাজার সংলগ্ন তেলীগাতী থেকে ছোট গারা পর্যন্ত ২ হাজার ৪৫০ মিটার নতুন সড়ক এবং এর মধ্যে প্রায় ৮৫০ মিটার নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জনি মিয়া, বেলায়েত করিম, সুমন মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় পরিমাণ সিমেন্টের পরিবর্তে অতিরিক্ত বালু ও মাটি ব্যবহার করায় কংক্রিটের ব্লকগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে। তাদের দাবি, হাতে চাপ দিলেই ব্লক ভেঙে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বর্ষার শুরুতেই বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং কয়েকটি অংশ দেবে গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এখনও নদীতে পূর্ণমাত্রায় পানি আসেনি। এরই মধ্যে যদি বাঁধের এমন অবস্থা হয়, তাহলে বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে পুরো বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এলাকাবাসী প্রকল্পটির গুণগত মান নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টেকসইভাবে নতুন করে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন এলজিইডির নেত্রকোনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, মূল প্রকল্প এলাকায় ঢালাই করা প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি ব্লক চুরি হয়ে যাওয়ার পর ঠিকাদার বাইরে থেকে কিছু ব্লক এনে ব্যবহার করেছিলেন। সেসব ব্লক নিম্নমানের হওয়ায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এলজিইডির কর্মকর্তারা কয়েকটি ব্লক ভেঙে পরীক্ষা করেন এবং বাকি ব্লক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। নিম্নমানের ব্লক ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বাঁধের কিছু অংশ দেবে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আগাম বৃষ্টিপাত এবং ওপরের স্তরের কাজ শেষ না হওয়ায় বৃষ্টির পানি নিচে ঢুকে কিছু জায়গায় মাটি সরে গেছে। ফলে দু-একটি স্থানে সামান্য ধস দেখা দিয়েছে। ব্লকগুলো পুরোপুরি বসে গেলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না বলেও তিনি জানান।

এদিকে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র এক মাস বাকি থাকলেও স্থানীয়দের প্রতিবাদের কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়ার আগেই কাজ শেষ না হলে নতুন সড়ক ও নদীতীর রক্ষা বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, উদ্বোধনের আগেই যদি কোটি টাকার এই প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তা সরকারি অর্থ অপচয়ের আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : রাস্তার পাশে বাঁধা তিন ছাগল উধাও, প্রযুক্তির সহায়তায় চোরচক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে ওসির মতবিনিময় 

হাতে চাপ দিতেই গুঁড়ো কংক্রিট! নেত্রকোনায় ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বাঁধ প্রকল্পে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি  || এসকেনিউজ২৪

নেত্রকোনা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের তেলীগাতী এলাকায় মগড়া নদীর ভাঙন থেকে নতুন সড়ক রক্ষায় নির্মাণাধীন নদীতীর রক্ষা বাঁধে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বাঁধে ব্যবহৃত কংক্রিটের ব্লক এতটাই দুর্বল যে খালি হাতের চাপেই ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই বাঁধের কয়েকটি অংশে ধস ও ব্লক দেবে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিবাদের মুখে বর্তমানে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বৃহৎ মা’র মাজার সংলগ্ন তেলীগাতী থেকে ছোট গারা পর্যন্ত ২ হাজার ৪৫০ মিটার নতুন সড়ক এবং এর মধ্যে প্রায় ৮৫০ মিটার নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আগামী ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জনি মিয়া, বেলায়েত করিম, সুমন মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় পরিমাণ সিমেন্টের পরিবর্তে অতিরিক্ত বালু ও মাটি ব্যবহার করায় কংক্রিটের ব্লকগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের হয়েছে। তাদের দাবি, হাতে চাপ দিলেই ব্লক ভেঙে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বর্ষার শুরুতেই বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে এবং কয়েকটি অংশ দেবে গেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এখনও নদীতে পূর্ণমাত্রায় পানি আসেনি। এরই মধ্যে যদি বাঁধের এমন অবস্থা হয়, তাহলে বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে পুরো বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এলাকাবাসী প্রকল্পটির গুণগত মান নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং টেকসইভাবে নতুন করে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন এলজিইডির নেত্রকোনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, মূল প্রকল্প এলাকায় ঢালাই করা প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি ব্লক চুরি হয়ে যাওয়ার পর ঠিকাদার বাইরে থেকে কিছু ব্লক এনে ব্যবহার করেছিলেন। সেসব ব্লক নিম্নমানের হওয়ায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এলজিইডির কর্মকর্তারা কয়েকটি ব্লক ভেঙে পরীক্ষা করেন এবং বাকি ব্লক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। নিম্নমানের ব্লক ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বাঁধের কিছু অংশ দেবে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আগাম বৃষ্টিপাত এবং ওপরের স্তরের কাজ শেষ না হওয়ায় বৃষ্টির পানি নিচে ঢুকে কিছু জায়গায় মাটি সরে গেছে। ফলে দু-একটি স্থানে সামান্য ধস দেখা দিয়েছে। ব্লকগুলো পুরোপুরি বসে গেলে আর কোনো সমস্যা থাকবে না বলেও তিনি জানান।

এদিকে প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র এক মাস বাকি থাকলেও স্থানীয়দের প্রতিবাদের কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়ার আগেই কাজ শেষ না হলে নতুন সড়ক ও নদীতীর রক্ষা বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, উদ্বোধনের আগেই যদি কোটি টাকার এই প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তা সরকারি অর্থ অপচয়ের আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : রাস্তার পাশে বাঁধা তিন ছাগল উধাও, প্রযুক্তির সহায়তায় চোরচক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার