ঢাকা ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় তেলের সংকট: জনদুর্ভোগ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • প্রকাশের সময় : ০১:৩৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০৪ বার পঠিত হযেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধা জেলায় চলমান তেলের সংকটের কারণে সাধারণ জনগণের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে বিভিন্ন জরুরি ও জনসেবামূলক কার্যক্রম।

বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল গাইবান্ধা সদর ‎আর-রহমান ফিলিং স্টেশন পাম্পে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকে শত শত মোটরসাইকেল তেলের জন্য লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ‎বিকেল ৫টা পর্যন্ত তেল সরবরাহের কথা থাকলেও দীর্ঘ সিরিয়ালে শত শত মোটরসাইকেল আরোহী অপেক্ষমাণ ছিলেন।

তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তেল বিতরণ বন্ধ করে দেওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যান।‎ অভিযোগ রয়েছে,তেল বিতরণে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার অভাব এবং সমন্বয়হীনতার কারণে ভোগান্তি আরও বেড়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে অনুসরণ না করায় সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।‎

তেলের এই সংকটের প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে। ভূমি অফিসের কর্মচারীরা তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে সময়মতো সেবা দিতে পারছেন না,ফলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একইভাবে,বিভিন্ন স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তেল আনতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করায় পাঠদান কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে।‎

এছাড়া অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও একই সমস্যায় পড়ছেন, যার ফলে সার্বিক জনসেবা কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।‎ বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষেত্রেও এই সংকট একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদ সংগ্রহ ও জরুরি ঘটনার কভারেজের জন্য দ্রুত চলাচল অপরিহার্য হলেও,দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

এতে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ কাভারেজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।‎ এ অবস্থায় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসন,পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মতো জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক বা পৃথক তেল সরবরাহের ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের জন্য স্বচ্ছ, নিয়মতান্ত্রিক ও সমন্বিত বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।‎ পাশাপাশি জেলার সব তেল পাম্পে একই সময়ে তেল সরবরাহ চালু করা, নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।‎

গাইবান্ধার সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে দ্রুত এই সংকট নিরসন হয়ে জনদুর্ভোগ লাঘব হয় এবং জরুরি সেবাগুলো স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।

Tag :

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে ওসির মতবিনিময় 

গাইবান্ধায় তেলের সংকট: জনদুর্ভোগ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা

প্রকাশের সময় : ০১:৩৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গাইবান্ধা জেলায় চলমান তেলের সংকটের কারণে সাধারণ জনগণের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে বিভিন্ন জরুরি ও জনসেবামূলক কার্যক্রম।

বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল গাইবান্ধা সদর ‎আর-রহমান ফিলিং স্টেশন পাম্পে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকে শত শত মোটরসাইকেল তেলের জন্য লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। ‎বিকেল ৫টা পর্যন্ত তেল সরবরাহের কথা থাকলেও দীর্ঘ সিরিয়ালে শত শত মোটরসাইকেল আরোহী অপেক্ষমাণ ছিলেন।

তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তেল বিতরণ বন্ধ করে দেওয়ায় অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যান।‎ অভিযোগ রয়েছে,তেল বিতরণে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার অভাব এবং সমন্বয়হীনতার কারণে ভোগান্তি আরও বেড়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সিরিয়াল ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে অনুসরণ না করায় সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।‎

তেলের এই সংকটের প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে। ভূমি অফিসের কর্মচারীরা তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে সময়মতো সেবা দিতে পারছেন না,ফলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় ভূমি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একইভাবে,বিভিন্ন স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তেল আনতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করায় পাঠদান কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে।‎

এছাড়া অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও একই সমস্যায় পড়ছেন, যার ফলে সার্বিক জনসেবা কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে।‎ বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মীদের ক্ষেত্রেও এই সংকট একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদ সংগ্রহ ও জরুরি ঘটনার কভারেজের জন্য দ্রুত চলাচল অপরিহার্য হলেও,দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

এতে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ কাভারেজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।‎ এ অবস্থায় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসন,পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের মতো জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিক বা পৃথক তেল সরবরাহের ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের জন্য স্বচ্ছ, নিয়মতান্ত্রিক ও সমন্বিত বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।‎ পাশাপাশি জেলার সব তেল পাম্পে একই সময়ে তেল সরবরাহ চালু করা, নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।‎

গাইবান্ধার সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে দ্রুত এই সংকট নিরসন হয়ে জনদুর্ভোগ লাঘব হয় এবং জরুরি সেবাগুলো স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়।