ঢাকা ০১:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও শোচনীয়




 

কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি |এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। ১৮৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির অনুমোদিত ২১টি শিক্ষক পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন। ফলে ১০টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৪০ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেন্দুয়া পৌর শহরে অবস্থিত উক্ত প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে এ সব তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায় ।

বিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে গণিত বিষয়ে বিদ্যালয়ে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। বিজ্ঞান বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। এছাড়া অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়েও প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে কোনো রকমে শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে। একজন শিক্ষককে প্রতিদিন একাধিক শ্রেণি বা ব্যাচে ক্লাস নিতে হচ্ছে।

এদিকে কর্মরত ১১ শিক্ষকের মধ্যে দুজন বিএড প্রশিক্ষণে, দুজন বিএড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কারণে ছুটিতে রয়েছেন। এছাড়া দুজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে এবং আরও একজন হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ছুটিতে রয়েছেন। ফলে বাস্তবে নিয়মিত পাঠদানে অংশ নেওয়া শিক্ষকের সংখ্যা আরও কমে গেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে আজকের শ্রেণিভিত্তিক উপস্থিতির হিসাবে জানা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণির ১১৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৫৮ জন, সপ্তম শ্রেণির ১২১ জনের মধ্যে ৪২ জন, অষ্টম শ্রেণির ১০৬ জনের মধ্যে ৩০ জন এবং নবম শ্রেণির ১০৬ জনের মধ্যে ৩২ জন। দশম শ্রেণির ৯৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিতির তালিকায় মাত্র দুজনের নাম থাকলেও শ্রেণিকক্ষে তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।

এছাড়া আগামী নভেম্বরে সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা মো. কামরুজ্জামান অবসরে যাচ্ছেন। একই সময়ে আরও একজন শিক্ষক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে। এতে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চললেও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। এর আগে শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা ক্লাস বর্জনের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। সাময়িকভাবে বিভিন্ন আশ্বাস দেওয়া হলেও শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় নি।

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে প্রতিটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনার অগ্রগতি ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ করা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নিয়মিত ক্লাসের ঘাটতি পূরণ করতে অনেক শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে প্রাইভেট ও কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরিদা আক্তার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শফিউল বারী জানান, শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার লিখিতভাবে জরুরি চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

তারা বলেন, দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসন করা না গেলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসমুখী করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রায় সাড়ে পাঁচশ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন রাখতে এবং ১৯৪ বছরেরও বেশি সময়ের ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : লক্ষ্মীপুর জেলা বাজুস এর চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারি পলাশ

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও শোচনীয়

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি |এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। ১৮৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির অনুমোদিত ২১টি শিক্ষক পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন। ফলে ১০টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় ৫৪০ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেন্দুয়া পৌর শহরে অবস্থিত উক্ত প্রতিষ্ঠানে সরেজমিনে এ সব তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায় ।

বিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে গণিত বিষয়ে বিদ্যালয়ে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। বিজ্ঞান বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই। এছাড়া অন্যান্য আবশ্যিক বিষয়েও প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় সীমিত জনবল দিয়ে কোনো রকমে শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে। একজন শিক্ষককে প্রতিদিন একাধিক শ্রেণি বা ব্যাচে ক্লাস নিতে হচ্ছে।

এদিকে কর্মরত ১১ শিক্ষকের মধ্যে দুজন বিএড প্রশিক্ষণে, দুজন বিএড পরীক্ষায় অংশগ্রহণের কারণে ছুটিতে রয়েছেন। এছাড়া দুজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে এবং আরও একজন হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে ছুটিতে রয়েছেন। ফলে বাস্তবে নিয়মিত পাঠদানে অংশ নেওয়া শিক্ষকের সংখ্যা আরও কমে গেছে।

বিদ্যালয় সূত্রে আজকের শ্রেণিভিত্তিক উপস্থিতির হিসাবে জানা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণির ১১৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৫৮ জন, সপ্তম শ্রেণির ১২১ জনের মধ্যে ৪২ জন, অষ্টম শ্রেণির ১০৬ জনের মধ্যে ৩০ জন এবং নবম শ্রেণির ১০৬ জনের মধ্যে ৩২ জন। দশম শ্রেণির ৯৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিতির তালিকায় মাত্র দুজনের নাম থাকলেও শ্রেণিকক্ষে তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি।

এছাড়া আগামী নভেম্বরে সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা মো. কামরুজ্জামান অবসরে যাচ্ছেন। একই সময়ে আরও একজন শিক্ষক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে। এতে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চললেও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। এর আগে শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের কয়েক দফা ক্লাস বর্জনের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। সাময়িকভাবে বিভিন্ন আশ্বাস দেওয়া হলেও শূন্য পদ পূরণ না হওয়ায় সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় নি।

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকলে প্রতিটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনার অগ্রগতি ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ করা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নিয়মিত ক্লাসের ঘাটতি পূরণ করতে অনেক শিক্ষার্থীকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে প্রাইভেট ও কোচিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফরিদা আক্তার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শফিউল বারী জানান, শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার লিখিতভাবে জরুরি চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

তারা বলেন, দ্রুত শিক্ষক সংকট নিরসন করা না গেলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসমুখী করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

প্রায় সাড়ে পাঁচশ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন রাখতে এবং ১৯৪ বছরেরও বেশি সময়ের ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : লক্ষ্মীপুর জেলা বাজুস এর চেয়ারম্যান সমীর, সেক্রেটারি পলাশ