
কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আবু মিয়া (৩৬) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার প্রধান আসামি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাবেক সহ-যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল (৫০) পলাতক রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনের বিরুদ্ধে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন। মামলার পরপরই রাতেই ২ নম্বর আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে বকুল মিয়া তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই সময় ছাত্রীটি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। এতে কয়েকজন সহযোগিতা করেছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ না করার জন্য তাকে হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ পরিবারের।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার এক সহযোগী নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে অন্য ব্যক্তিদের দিয়ে তাকে ধর্ষণ করানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে ধর্ষণ করানো হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য, গত ১ আগস্ট ছাত্রীটি চট্টগ্রামে তার বড় ভাইয়ের কাছে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।
পরিবারের দাবি, ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা পরীক্ষা করালে ওই ছাত্রীকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানানো হয়। ২৫ আগস্ট সে বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার বিস্তারিত জানতে পেরে ২৬ আগস্ট থানায় মামলা করেন।
ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করে বলে, তাকে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যাওয়া হতো এবং অন্যদের দিয়েও ধর্ষণ করানো হতো। সে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।
এদিকে ঘটনার পর বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে দেখা গেছে কেন্দুয়া পৌর বিএনপি কর্তৃক । দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পৌর বিএনপির সভাপতি খোকন আহমেদ ডিলার ও সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে তাকে সব ধরনের দলীয় পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।
এসকে/এনকে
আরো পড়ুন : নেত্রকোনায় হাওরে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত ১, আহত ৩
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 
















