
কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার বেতাই নদীর তীরে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক রোয়াইলবাড়ি দুর্গ। স্থানীয়ভাবে ‘দরগাহ’ নামে পরিচিত এই প্রত্নস্থাপনাটি শুধু কেন্দুয়ার নয়, পুরো নেত্রকোণার গর্ব ও আত্মপরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত এই দুর্গ এলাকায় রয়েছে চারটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। এগুলো হলো—বারদুয়ারী ঢিবি, বুরুজ ঢিবি, ছাদবিহীন পুরোনো ইমারত ও কবরস্থান।
আশির দশকে আবিষ্কৃত রোয়াইলবাড়ি দুর্গকে ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। এরপর থেকে ইতিহাস-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শনটি দেশের প্রত্নসম্পদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা রোয়াইলবাড়ি দুর্গটি কেন্দুয়া সদর থেকে ৮ /১০ কিলোমিটার। প্রত্নস্থাপনাটির চারপাশের নৈসর্গিক পরিবেশ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। ইতিহাস ও প্রকৃতির মেলবন্ধনের কারণে এটি পর্যটকদের কাছেও সম্ভাবনাময় একটি স্থান।
সম্প্রতি দুর্গ এলাকাটি অনেকটা ঢেলে সাজানো হলেও রোয়াইলবাড়ি বাজার থেকে দুর্গমুখী সড়কের একটি অংশ এখনো কাঁচা রয়েছে। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে সড়কটির ওই অংশ কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় পর্যটক ও দর্শনার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের দাবি, দুর্গে যাতায়াতের সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পাকা করার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দুর্গ এলাকায় পর্যাপ্ত টয়লেট, বিশ্রামাগার, খাবারের ব্যবস্থা, হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
রোয়াইলবাড়ির বাসিন্দা ও ঐতিহ্যবাহী কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের আত্মপরিচয় ও অহংকারের রাজসাক্ষী এই দুর্গ। এর আধুনিকায়ন ও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি দুর্গে যাতায়াতের সড়কটি উন্নত করা হলে ঐতিহাসিক এই স্থানটি আরও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রোয়াইলবাড়ি দুর্গের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।
এসকে/এনকে
আরো পড়ুন : যশোরের শার্শার উলাশী জিয়া খাল পূণ:খননে এখন প্রবাহমান
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 
















