নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে দাঁতের মাড়ির পাশে বেড়ে ওঠা মাংস কাটার পর মো. লিয়ন মিয়া (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় এক দন্ত চিকিৎসকের কাছে মাড়ির অতিরিক্ত মাংস কাটানোর পর থেকেই লিয়নের রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় লোকজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ওই চিকিৎসকের চেম্বারে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
নিহত লিয়ন মিয়া মোহনগঞ্জ পৌরশহরের টেংগাপাড়া এলাকার খোকন মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম হিরণের চেম্বার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কের পাশে। সেখানে ‘এলএমএএফ’ ও ‘ডিএমএ’ পদবি ব্যবহার করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শনিবার সকালে লিয়নের দাঁতের মাড়ির পাশে অতিরিক্ত মাংস বেড়ে যাওয়ায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটের সামনে এক ব্যক্তি তাকে রফিকুল ইসলাম হিরণের চেম্বারে নিয়ে যান। ওই ব্যক্তি হিরণকে ভালো চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
পরে হিরণ লিয়নের মাড়ির বাড়তি মাংস কেটে দেন। এরপর থেকেই রক্তক্ষরণ শুরু হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। ওষুধপত্র দিয়ে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়। পরদিন অবস্থার অবনতি হলে আবারও তাকে হিরণের কাছে নেওয়া হয়। এরপরও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সোমবার দুপুরে লিয়নকে নিয়ে যাওয়া হয় হিরণের কাছে।
এ সময় হিরণ লিয়নকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দন্ত চিকিৎসক ডা. জয়া রানী দেবনাথের কাছে নিয়ে যান। তাঁর অবস্থা গুরুতর দেখে দ্রুত ময়মনসিংহে নেওয়ার পরামর্শ দেন ওই চিকিৎসক। এর মধ্যেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লিয়ন অচেতন হয়ে পড়ে। পরে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা খোকন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “মাড়ির মাংস কাটার পর থেকেই লিয়নের রক্তক্ষরণ শুরু হয়। কয়েক দফা ওই চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পরও তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর ময়মনসিংহে রেফার করা হলেও তার আগেই লিয়ন অচেতন হয়ে পড়ে এবং মারা যায়।”
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রফিকুল ইসলাম হিরণ। তাঁর দাবি, লিয়নের মাড়ির মাংস পচে ক্যান্সার হয়েছিল। তিনি কোনো অপারেশন করেননি, শুধু ড্রেসিং করেছেন। তাঁর চিকিৎসার কারণে লিয়নের মৃত্যু হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
হিরণ বলেন, “আগে থেকেই ছেলেটির শারীরিক অবস্থা খারাপ ছিল। প্রয়োজন হলে ময়নাতদন্ত করা হোক।” একই সঙ্গে তাঁর চেম্বারে হামলা ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুরের অভিযোগ করে এর বিচার দাবি করেন তিনি।
এদিকে রফিকুল ইসলাম হিরণের চিকিৎসাসংক্রান্ত যোগ্যতা ও চেম্বারে ব্যবহৃত ‘এলএমএএফ’ ও ‘ডিএমএ’ পদবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অলক কান্তি তালুকদার বলেন, “এলএমএএফ কোর্সধারীরা কোনো চিকিৎসক নন। কোনো রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দন্ত চিকিৎসক রয়েছেন। সাধারণ মানুষকে কারও প্ররোচনায় না পড়ে এখান থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।”
মোহনগঞ্জ থানার এসআই আব্দুল লতিফ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
লিয়নের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদন ও পরবর্তী তদন্তে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এসকে/এনএম
আরো পড়ুন : গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, লাশ রেখে বাড়ি ছাড়লেন স্বামী-শ্বশুরবাড়ির লোকজন
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 
















