ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওয়ার্ড বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ  

 

 

কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের বালিজুড়া উত্তরপাড়া গ্রামে ফুসলিয়ে স্বজনদের সম্পত্তি ক্রয় এবং পরে ক্রয়কৃত টাকা বুঝে নিয়েও জমি ফেরত দিতে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. পরশ মিয়ার বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী, অভিযুক্ত ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

মো. দুলুব খানের পুত্র ভুক্তভোগী মো. আনোয়ার খান অভিযোগ করেন, পিতৃসূত্রে পাওয়া তাদের ফুফুদের সম্পত্তি বিভিন্ন কৌশলে ক্রয় করেন পরশ মিয়া। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপি, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বালিজুড়া গ্রামের মাতব্বরদের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে জমির টাকা ও জমি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু টাকা নিয়েও পরশ মিয়া তা বাস্তবায়ন না করে উল্টো এক লাখ টাকা দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমিতে তাদের বর্গাচাষী স্বপন মিয়াকে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং গতকাল (৫ আগস্ট) জোরপূর্বক জমি দখল করা হয়েছে । তাছাড়া গত এক সপ্তাহ আগে উক্ত ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সামির খানসহ ভুক্তভোগীর স্বজনরা মোটরযানযোগে পরশ মিয়ার বাড়ির সামনে দিয়ে আসার সময় আক্রমণের শিকার হোন বলেও অভিযোগ করেন মো. সামির খান।

পরশ মিয়া বরাবরই গ্রামের ঝামেলার ওয়ারিশান সম্পত্তি নিয়ে পক্ষাবলম্বন ও ব্যবসায় করে থাকেন । তিনি একজন ভূমিদস্যু ব্যক্তি । ২০০২ সালে এমনই এক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আব্দুল হামিদ জিহাদী, জাহাঙ্গীর, রহমাতুসহ স্থানীয়রা জানান, ভূমিদস্যুতার কাজে যুক্ত হওয়ায় পরশের এক আপন ভাই নিহত হোন । তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ৷ স্থানীয়রা আরো জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। তবে এখনো বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয় নি । এ নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে । প্রতিনিয়তই দলীয় পরিচয় ও শক্তি ব্যবহার করে এই ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজ পরশ মিয়া নিরহ মানুষদের ক্ষতি করে যাচ্ছে বলে জানান তারা ।

অভিযুক্ত মো. পরশ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আইনগতভাবে রেজিস্ট্রি করা জমির মালিক । কারো জমি দখল করি নি । আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় ।

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান ভূইয়া সুমন বলেন, দরবারে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ লাখ টাকা দিয়ে জমি লিখে দেওয়ার কথা কিন্তু বেশ কয়েক মাস ঘুরিয়ে দুই কাটা জমি কম লিখে দেয় এবং সাত লাখ টাকা নেয়। কিন্তু জমি লিখে দিয়েও দখল দিচ্ছে না। তিনি আসলে বিএনপি নেতা হলেও সুস্থ মানুষ মনে হয় না। কারণ তিনি টাকার জন্য পাগল হয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় নি । অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে৷

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : কেন্দুয়ায় বিএনপির উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

নেত্রকোনায় ৫২৫ কেজি ভারতীয় ফুচকা জব্দ, গ্রেফতার ৪

ওয়ার্ড বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ  

প্রকাশের সময় : ১১:৩৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

 

 

কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের বালিজুড়া উত্তরপাড়া গ্রামে ফুসলিয়ে স্বজনদের সম্পত্তি ক্রয় এবং পরে ক্রয়কৃত টাকা বুঝে নিয়েও জমি ফেরত দিতে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. পরশ মিয়ার বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী, অভিযুক্ত ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

মো. দুলুব খানের পুত্র ভুক্তভোগী মো. আনোয়ার খান অভিযোগ করেন, পিতৃসূত্রে পাওয়া তাদের ফুফুদের সম্পত্তি বিভিন্ন কৌশলে ক্রয় করেন পরশ মিয়া। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপি, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বালিজুড়া গ্রামের মাতব্বরদের উপস্থিতিতে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে জমির টাকা ও জমি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু টাকা নিয়েও পরশ মিয়া তা বাস্তবায়ন না করে উল্টো এক লাখ টাকা দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমিতে তাদের বর্গাচাষী স্বপন মিয়াকে কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং গতকাল (৫ আগস্ট) জোরপূর্বক জমি দখল করা হয়েছে । তাছাড়া গত এক সপ্তাহ আগে উক্ত ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সামির খানসহ ভুক্তভোগীর স্বজনরা মোটরযানযোগে পরশ মিয়ার বাড়ির সামনে দিয়ে আসার সময় আক্রমণের শিকার হোন বলেও অভিযোগ করেন মো. সামির খান।

পরশ মিয়া বরাবরই গ্রামের ঝামেলার ওয়ারিশান সম্পত্তি নিয়ে পক্ষাবলম্বন ও ব্যবসায় করে থাকেন । তিনি একজন ভূমিদস্যু ব্যক্তি । ২০০২ সালে এমনই এক ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আব্দুল হামিদ জিহাদী, জাহাঙ্গীর, রহমাতুসহ স্থানীয়রা জানান, ভূমিদস্যুতার কাজে যুক্ত হওয়ায় পরশের এক আপন ভাই নিহত হোন । তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ৷ স্থানীয়রা আরো জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ হয়েছে। তবে এখনো বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয় নি । এ নিয়ে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে । প্রতিনিয়তই দলীয় পরিচয় ও শক্তি ব্যবহার করে এই ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজ পরশ মিয়া নিরহ মানুষদের ক্ষতি করে যাচ্ছে বলে জানান তারা ।

অভিযুক্ত মো. পরশ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি আইনগতভাবে রেজিস্ট্রি করা জমির মালিক । কারো জমি দখল করি নি । আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় ।

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান ভূইয়া সুমন বলেন, দরবারে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ লাখ টাকা দিয়ে জমি লিখে দেওয়ার কথা কিন্তু বেশ কয়েক মাস ঘুরিয়ে দুই কাটা জমি কম লিখে দেয় এবং সাত লাখ টাকা নেয়। কিন্তু জমি লিখে দিয়েও দখল দিচ্ছে না। তিনি আসলে বিএনপি নেতা হলেও সুস্থ মানুষ মনে হয় না। কারণ তিনি টাকার জন্য পাগল হয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় নি । অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে৷

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : কেন্দুয়ায় বিএনপির উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা