ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ : তদন্ত কমিটি গঠনের পরও নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহোদর কোটাসহ ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এখনও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। কমিটি গঠনের কয়েক কার্যদিবস পেরিয়ে গেলেও সোমবার (৩ আগস্ট) পর্যন্ত তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সভাপতি আমেনা খাতুন।

জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদেরকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অনিক রহমান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল কবীর। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এম এ কাদের জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এ বিষয়ে ইউএনও আমেনা খাতুন বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছুটিতে থাকায় তদন্ত শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেছেন এবং খুব শিগগিরই তদন্ত শুরু হবে। সহোদর কোটাসহ ভর্তি-সংক্রান্ত সব অভিযোগই তদন্তে যাচাই করা হবে।

অভিযোগ রয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে সপ্তম শ্রেণিতে সহোদর কোটায় ভর্তি হওয়া দুই শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাদের একজন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান এবং অন্য শিক্ষার্থীরও বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কোনো ভাই বা বোন নেই। এরপরও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ তাদের সহোদর অধ্যয়নের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরে ওই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে আদালতের নির্দেশে তাদের সহোদর কোটায় ভর্তি করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে।

এ ছাড়া বিভিন্ন অনিয়ম ও কৌশলের মাধ্যমে আরও ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানোর অভিযোগও রয়েছে। তদন্তে এসব অভিযোগও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাকাটায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় বারবার সেরা আবিদ সারোয়ার ফাহিম

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

নেত্রকোনায় ৫২৫ কেজি ভারতীয় ফুচকা জব্দ, গ্রেফতার ৪

মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ : তদন্ত কমিটি গঠনের পরও নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহোদর কোটাসহ ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি এখনও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। কমিটি গঠনের কয়েক কার্যদিবস পেরিয়ে গেলেও সোমবার (৩ আগস্ট) পর্যন্ত তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সভাপতি আমেনা খাতুন।

জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ কাদেরকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অনিক রহমান এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল কবীর। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনও তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়নি।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক এম এ কাদের জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এ বিষয়ে ইউএনও আমেনা খাতুন বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছুটিতে থাকায় তদন্ত শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে তিনি কর্মস্থলে যোগদান করেছেন এবং খুব শিগগিরই তদন্ত শুরু হবে। সহোদর কোটাসহ ভর্তি-সংক্রান্ত সব অভিযোগই তদন্তে যাচাই করা হবে।

অভিযোগ রয়েছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে সপ্তম শ্রেণিতে সহোদর কোটায় ভর্তি হওয়া দুই শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাদের একজন বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান এবং অন্য শিক্ষার্থীরও বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কোনো ভাই বা বোন নেই। এরপরও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ তাদের সহোদর অধ্যয়নের ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরে ওই প্রত্যয়নপত্রের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করলে আদালতের নির্দেশে তাদের সহোদর কোটায় ভর্তি করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে।

এ ছাড়া বিভিন্ন অনিয়ম ও কৌশলের মাধ্যমে আরও ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানোর অভিযোগও রয়েছে। তদন্তে এসব অভিযোগও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাকাটায় প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় বারবার সেরা আবিদ সারোয়ার ফাহিম