ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হেফাজতের সমাবেশে প্রশাসনের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ, সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তার দাবি

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪ 

নোয়াখালীতে ওয়াজ মাহফিলের নামে হেফাজতে ইসলামের উসকানিমূলক সমাবেশ আয়োজন, অনবরত মিথ্যাচার ও ধারাবাহিক হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ। একইসঙ্গে এসব চক্রান্ত বন্ধে এবং সংগঠনের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তায় সরকারের অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্রাব) মিলনায়তনে হেযবুত তওহীদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম শামসুল হুদা ও ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের সভাপতি ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ।

লিখিত বক্তব্যে ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ বলেন, আজ নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে একটি কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক গোষ্ঠী প্রশাসন থেকে অনুমোদিত ওয়াজ মাহফিলের শর্ত ভঙ্গ করে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে বেআইনি ও দাঙ্গা সৃষ্টিকারী সমাবেশ করছে। নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের অনুমোদনপত্রে নির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তারা ব্যানারের লেখা ও সমাবেশের বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে আইন ও অনুমোদনের শর্ত লঙ্ঘন করেছে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের ইমামের গ্রামের বাড়িতে অরাজকতা সৃষ্টির চক্রান্ত হিসেবে গত ১০-১৫ দিন ধরে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে মসজিদে মসজিদে উসকানিমূলক বয়ান এবং উগ্র হ্যান্ডবিল প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি ঢাকার উত্তরায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও উসকানিমূলক মিছিল ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হেযবুত তওহীদ আল্লাহ, নবী-রসুল, কোরআন, নামাজ ও রোজাসহ ইসলামের মৌলিক আকিদায় পূর্ণ বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে তুলতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘কাফের’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং নিষিদ্ধের দাবি তোলা হচ্ছে। অথচ বিগত ৩১ বছরে পাঁচ শতাধিক মামলায় আদালতে বেকসুর খালাস পাওয়া হেযবুত তওহীদ কখনো আইন অমান্য করেনি।

পক্ষান্তরে নিষিদ্ধের দাবি তোলা এই ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীর পরিচালিত মাদ্রাসা ও মসজিদেই শিশু বলাৎকার, নির্যাতন ও মব সৃষ্টির মতো ভয়াবহ অপকর্ম সংঘটিত হতে দেখেছে জনগণ; সুতরাং নিষিদ্ধ যদি করতে হয়, তবে তাদেরকেই করা ন্যায়সঙ্গত।

বক্তারা হেযবুত তওহীদের উপর অতীতে সংঘঠিত সহিংতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০১৬ সালে সোনাইমুড়ীতে একইভাবে সমাবেশ থেকে হামলা চালিয়ে সংগঠনের দু’জন সদস্যকে জবাই করে হত্যা ও বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক উসকানি ও হুমকির কারণে সদস্যরা পুনরায় জানমালের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ অবস্থায় দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনতিবিলম্বে এসব উসকানিমূলক তৎপরতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।

এসকে/এনআর

আরো পড়ুন : গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে নেত্রকোনায় জামায়াতের গণমিছিল

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

নেত্রকোনায় ৫২৫ কেজি ভারতীয় ফুচকা জব্দ, গ্রেফতার ৪

হেফাজতের সমাবেশে প্রশাসনের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ, সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তার দাবি

প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪ 

নোয়াখালীতে ওয়াজ মাহফিলের নামে হেফাজতে ইসলামের উসকানিমূলক সমাবেশ আয়োজন, অনবরত মিথ্যাচার ও ধারাবাহিক হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ। একইসঙ্গে এসব চক্রান্ত বন্ধে এবং সংগঠনের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তায় সরকারের অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ শনিবার (১ আগস্ট ২০২৬) বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্রাব) মিলনায়তনে হেযবুত তওহীদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম শামসুল হুদা ও ঢাকা মহানগর হেযবুত তওহীদের সভাপতি ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ।

লিখিত বক্তব্যে ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ বলেন, আজ নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে একটি কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক গোষ্ঠী প্রশাসন থেকে অনুমোদিত ওয়াজ মাহফিলের শর্ত ভঙ্গ করে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে বেআইনি ও দাঙ্গা সৃষ্টিকারী সমাবেশ করছে। নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের অনুমোদনপত্রে নির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও তারা ব্যানারের লেখা ও সমাবেশের বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে আইন ও অনুমোদনের শর্ত লঙ্ঘন করেছে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের ইমামের গ্রামের বাড়িতে অরাজকতা সৃষ্টির চক্রান্ত হিসেবে গত ১০-১৫ দিন ধরে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে মসজিদে মসজিদে উসকানিমূলক বয়ান এবং উগ্র হ্যান্ডবিল প্রচার করা হচ্ছে। এমনকি ঢাকার উত্তরায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেও উসকানিমূলক মিছিল ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হেযবুত তওহীদ আল্লাহ, নবী-রসুল, কোরআন, নামাজ ও রোজাসহ ইসলামের মৌলিক আকিদায় পূর্ণ বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ মানুষকে খেপিয়ে তুলতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘কাফের’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং নিষিদ্ধের দাবি তোলা হচ্ছে। অথচ বিগত ৩১ বছরে পাঁচ শতাধিক মামলায় আদালতে বেকসুর খালাস পাওয়া হেযবুত তওহীদ কখনো আইন অমান্য করেনি।

পক্ষান্তরে নিষিদ্ধের দাবি তোলা এই ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠীর পরিচালিত মাদ্রাসা ও মসজিদেই শিশু বলাৎকার, নির্যাতন ও মব সৃষ্টির মতো ভয়াবহ অপকর্ম সংঘটিত হতে দেখেছে জনগণ; সুতরাং নিষিদ্ধ যদি করতে হয়, তবে তাদেরকেই করা ন্যায়সঙ্গত।

বক্তারা হেযবুত তওহীদের উপর অতীতে সংঘঠিত সহিংতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০১৬ সালে সোনাইমুড়ীতে একইভাবে সমাবেশ থেকে হামলা চালিয়ে সংগঠনের দু’জন সদস্যকে জবাই করে হত্যা ও বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক উসকানি ও হুমকির কারণে সদস্যরা পুনরায় জানমালের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ অবস্থায় দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনতিবিলম্বে এসব উসকানিমূলক তৎপরতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং হেযবুত তওহীদের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।

এসকে/এনআর

আরো পড়ুন : গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে নেত্রকোনায় জামায়াতের গণমিছিল