ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ায় পঞ্চায়েত ভেঙে বিয়ের দাওয়াত খাওয়ায় যুবককে মারধর, চাঁদা দাবি ও গৃহবন্দীর অভিযোগ

 

কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় গ্রামীণ পঞ্চায়েত ভেঙে একা বিয়ের দাওয়াত খাওয়ায় এক যুবককে পিটিয়ে আহত করে ১ লাখ চাঁদা দাবি এবং গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগ ওঠেছে ।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দলপা ইউনিয়নের জল্লী গ্রামের চর দক্ষিণ পাড়া এলাকায় । সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে এমন অভিযোগের সত্যতার তথ্য পাওয়া যায় ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জল্লী গ্রামে দুই গ্রুপে বিভক্ত দুটি পঞ্চায়েতের মধ্যে গত প্রায় ২/৩ বছর যাবত নেতৃত্ব ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে এক চাপা উত্তেজনা বিরাজমান রয়েছে ।

ভুক্তভোগী শহীদ মিয়া (৩০) উল্লেখিত এলাকার মো. হারেছ মিয়ার ছেলে । তিনি গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে একই এলাকার প্রতিবেশী হারেছ উদ্দিনের মেয়ের বিয়ের দাওয়াত খান । বিষয়টি নিয়ে ক্ষোব্ধ উক্ত গ্রামের মৃত সঞ্জু মিয়ার ছেলে স্বপন, মৃত আব্দুর রাশিদের ছেলে শফিকুল ও মৃত মুসলিম উদ্দিনের ছেলে রোকন মিয়াসহ একটি পক্ষ ঐ দিন দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়ির সামনে মসজিদ সংলগ্ন দোকানের পাশে এলোপাতাড়ি মারধরে আহত করলে পরিবারের স্বজনরা উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে যায় তাকে । পরক্ষণেই তাঁর ঘরে ঢুকে গরুর মাংস দিয়ে খাওয়ানোর দাবি জানায় অভিযুক্তরা । অন্যথায় ১লাখ টাকা দিতে হবে বলে চাঁদা দাবি করে । তা না হলে বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না বলেও হুমকি দিয়ে আসে তারা । এরপর থেকে থেকেই শহীদ মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন আতঙ্কে দিনযাপন করছেন বলে জানান ভুক্তভোগী শহীদ মিয়া ও আশেপাশের লোকজন । এছাড়া অভিযুক্তদের পক্ষাবলম্বন করে বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা দিয়ে চলাচলের নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে আর একটি পরিবার ।

এ দিকে অভিযুক্ত শফিকুল ও রোকনের বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায় নি । রোকনের স্ত্রী নূরুন্নাহার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শহীদ আগে আমাদের পাঞ্চাতে (পঞ্চায়েত) ছিলো । এখন সে অন্য পাঞ্চাতে চলে গেছে । তাই তাকে মারধর করা হয়েছে । চাঁদা দাবির প্রসঙ্গে বলেন, খেয়ালে খেয়ালে চেয়েছিলো । শফিকুলের পরিবার চাঁদার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মারধরের ঘটনায় সম্মতি জানায় ।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ । লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : নড়াইলের লোহাগড়ায় স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটার অভিযোগে স্ত্রী আটক

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

নেত্রকোনায় ৫২৫ কেজি ভারতীয় ফুচকা জব্দ, গ্রেফতার ৪

কেন্দুয়ায় পঞ্চায়েত ভেঙে বিয়ের দাওয়াত খাওয়ায় যুবককে মারধর, চাঁদা দাবি ও গৃহবন্দীর অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৩:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

 

কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় গ্রামীণ পঞ্চায়েত ভেঙে একা বিয়ের দাওয়াত খাওয়ায় এক যুবককে পিটিয়ে আহত করে ১ লাখ চাঁদা দাবি এবং গৃহবন্দী করে রাখার অভিযোগ ওঠেছে ।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দলপা ইউনিয়নের জল্লী গ্রামের চর দক্ষিণ পাড়া এলাকায় । সোমবার (২৭ জুলাই) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে এমন অভিযোগের সত্যতার তথ্য পাওয়া যায় ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জল্লী গ্রামে দুই গ্রুপে বিভক্ত দুটি পঞ্চায়েতের মধ্যে গত প্রায় ২/৩ বছর যাবত নেতৃত্ব ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে এক চাপা উত্তেজনা বিরাজমান রয়েছে ।

ভুক্তভোগী শহীদ মিয়া (৩০) উল্লেখিত এলাকার মো. হারেছ মিয়ার ছেলে । তিনি গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে একই এলাকার প্রতিবেশী হারেছ উদ্দিনের মেয়ের বিয়ের দাওয়াত খান । বিষয়টি নিয়ে ক্ষোব্ধ উক্ত গ্রামের মৃত সঞ্জু মিয়ার ছেলে স্বপন, মৃত আব্দুর রাশিদের ছেলে শফিকুল ও মৃত মুসলিম উদ্দিনের ছেলে রোকন মিয়াসহ একটি পক্ষ ঐ দিন দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ভুক্তভোগীর বাড়ির সামনে মসজিদ সংলগ্ন দোকানের পাশে এলোপাতাড়ি মারধরে আহত করলে পরিবারের স্বজনরা উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে যায় তাকে । পরক্ষণেই তাঁর ঘরে ঢুকে গরুর মাংস দিয়ে খাওয়ানোর দাবি জানায় অভিযুক্তরা । অন্যথায় ১লাখ টাকা দিতে হবে বলে চাঁদা দাবি করে । তা না হলে বাড়ির বাইরে যেতে পারবে না বলেও হুমকি দিয়ে আসে তারা । এরপর থেকে থেকেই শহীদ মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন আতঙ্কে দিনযাপন করছেন বলে জানান ভুক্তভোগী শহীদ মিয়া ও আশেপাশের লোকজন । এছাড়া অভিযুক্তদের পক্ষাবলম্বন করে বাড়ি থেকে বের হওয়ার রাস্তা দিয়ে চলাচলের নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে আর একটি পরিবার ।

এ দিকে অভিযুক্ত শফিকুল ও রোকনের বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায় নি । রোকনের স্ত্রী নূরুন্নাহার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শহীদ আগে আমাদের পাঞ্চাতে (পঞ্চায়েত) ছিলো । এখন সে অন্য পাঞ্চাতে চলে গেছে । তাই তাকে মারধর করা হয়েছে । চাঁদা দাবির প্রসঙ্গে বলেন, খেয়ালে খেয়ালে চেয়েছিলো । শফিকুলের পরিবার চাঁদার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে মারধরের ঘটনায় সম্মতি জানায় ।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ । লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে ।

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : নড়াইলের লোহাগড়ায় স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটার অভিযোগে স্ত্রী আটক