ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীর্ঘ ১৩ বছর পর আদালতের রায়ে মিললো পিতৃপরিচয় 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪ 

দীর্ঘ ১৩ বছর পর নেত্রকোনায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ধর্ষণের মামলায় যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে অভিযুক্ত ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদানের পাশাপাশি ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যা সন্তানকে পিতৃপরিচয় এবং ধর্ষকের সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুুপুরের দিকে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক  এ রায় প্রদান করেন।

নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. মো. নুরুল কবীর (রুবেল) বলেন, ‘বারহাট্টা থানার মামলাটি ১০ জুলাই ২০১৩ সালে দায়ের করা হয়েছিল। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার রায়ে বিজ্ঞ আদালত আসামি হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে আসামিকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।’

তিনি জানান, ভুক্তভোগী খুববানু ছিলেন একজন স্বামী পরিত্যক্তা এবং সহজ-সরল ও হাবাগোবা প্রকৃতির নারী। আসামি হেলাল প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে খুববানু গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং তার গর্ভাবস্থার ছয় মাস বয়সে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা দায়ের করার কিছু দিন পর ভুক্তভোগী খুববানু স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুবরণ করেন।

মায়ের মৃত্যুর পর ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুটি (বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী) পিতৃপরিচয়হীন হয়ে পড়ে। আসামি হেলাল প্রথম থেকেই এ ঘটনা এবং জন্ম নেওয়া সন্তানকে নিজের বলে অস্বীকার করে আসছিল। এমনকি গ্রাম্য শালিসেও সে বিষয়টি মেনে নেয়নি। পরবর্তীতে পুলিশের চার্জশিট এবং আদালতের নির্দেশে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়, শিশুটি হেলালেরই ঔরসজাত সন্তান। ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হওয়ার পরও সে বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল। চূড়ান্ত রায়ে আদালত শিশুটিকে হেলালের সম্পত্তির সঠিক উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

পিতৃপরিচয় পেতে দীর্ঘ ১৩ বছর যাবৎ আদালতের বারান্দায় ঘুরেছেন খুববানুর মেয়ে কলি আক্তার (১৩) ও তার স্বজনেরা। ভুক্তভোগীর মেয়ে কিশোরী কলি আক্তার জানায়, বাবার পরিচয় পাওয়ার জন্য এবং তার সাথে থাকার দাবিতে সে ১৩ বছর ধরে উকিল ও পুলিশের কাছে ঘুরেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারের মাধ্যমে সে তার বাবার পরিচয় পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে।

মামলার বাদী খুববানুর বোন ও কলি আক্তারের খালা আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে তারা এই মামলা নিয়ে ঘোরাঘুরি করেছেন। অবশেষে ১৩ বছর পর আদালতের রায়ে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন এবং এতে তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট।

আলোচিত এ মামলার যুগান্তকারী রায়ে স্থানীয় এলাকাবাসীও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা গ্রামের প্রতিবেশী এস এম আওলাদ হোসেন জানান, এই রায়ের ফলে শিশুটি তার পিতৃপরিচয় এবং ভোটার অধিকার ফিরে পেয়েছে। তিনি মামলাটির দ্রুত অগ্রগতির জন্য পিপি মো. নুরুল কবীরের ভূমিকা উল্লেখ করে তার এবং সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : নিরাপত্তা জোরদারে নেত্রকোনায় পুলিশ সুপারের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে ওসির মতবিনিময় 

দীর্ঘ ১৩ বছর পর আদালতের রায়ে মিললো পিতৃপরিচয় 

প্রকাশের সময় : ০১:২৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪ 

দীর্ঘ ১৩ বছর পর নেত্রকোনায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ধর্ষণের মামলায় যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে অভিযুক্ত ধর্ষককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদানের পাশাপাশি ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া কন্যা সন্তানকে পিতৃপরিচয় এবং ধর্ষকের সম্পত্তির বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুুপুরের দিকে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক  এ রায় প্রদান করেন।

নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. মো. নুরুল কবীর (রুবেল) বলেন, ‘বারহাট্টা থানার মামলাটি ১০ জুলাই ২০১৩ সালে দায়ের করা হয়েছিল। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার রায়ে বিজ্ঞ আদালত আসামি হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে আসামিকে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।’

তিনি জানান, ভুক্তভোগী খুববানু ছিলেন একজন স্বামী পরিত্যক্তা এবং সহজ-সরল ও হাবাগোবা প্রকৃতির নারী। আসামি হেলাল প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের ফলে খুববানু গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং তার গর্ভাবস্থার ছয় মাস বয়সে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলা দায়ের করার কিছু দিন পর ভুক্তভোগী খুববানু স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুবরণ করেন।

মায়ের মৃত্যুর পর ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুটি (বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী) পিতৃপরিচয়হীন হয়ে পড়ে। আসামি হেলাল প্রথম থেকেই এ ঘটনা এবং জন্ম নেওয়া সন্তানকে নিজের বলে অস্বীকার করে আসছিল। এমনকি গ্রাম্য শালিসেও সে বিষয়টি মেনে নেয়নি। পরবর্তীতে পুলিশের চার্জশিট এবং আদালতের নির্দেশে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়, শিশুটি হেলালেরই ঔরসজাত সন্তান। ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হওয়ার পরও সে বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল। চূড়ান্ত রায়ে আদালত শিশুটিকে হেলালের সম্পত্তির সঠিক উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

পিতৃপরিচয় পেতে দীর্ঘ ১৩ বছর যাবৎ আদালতের বারান্দায় ঘুরেছেন খুববানুর মেয়ে কলি আক্তার (১৩) ও তার স্বজনেরা। ভুক্তভোগীর মেয়ে কিশোরী কলি আক্তার জানায়, বাবার পরিচয় পাওয়ার জন্য এবং তার সাথে থাকার দাবিতে সে ১৩ বছর ধরে উকিল ও পুলিশের কাছে ঘুরেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারের মাধ্যমে সে তার বাবার পরিচয় পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে।

মামলার বাদী খুববানুর বোন ও কলি আক্তারের খালা আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে তারা এই মামলা নিয়ে ঘোরাঘুরি করেছেন। অবশেষে ১৩ বছর পর আদালতের রায়ে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন এবং এতে তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট।

আলোচিত এ মামলার যুগান্তকারী রায়ে স্থানীয় এলাকাবাসীও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা গ্রামের প্রতিবেশী এস এম আওলাদ হোসেন জানান, এই রায়ের ফলে শিশুটি তার পিতৃপরিচয় এবং ভোটার অধিকার ফিরে পেয়েছে। তিনি মামলাটির দ্রুত অগ্রগতির জন্য পিপি মো. নুরুল কবীরের ভূমিকা উল্লেখ করে তার এবং সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : নিরাপত্তা জোরদারে নেত্রকোনায় পুলিশ সুপারের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন