
নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার বারহাট্টার গৃহবধূ পারভীন আক্তার হত্যা মামলায় তার স্বামী শফিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে মামলার অপর দুই আসামি শ্বশুর তোরাব আলী ও শাশুড়ি সখিনা খাতুনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নেত্রকোণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ.কে.এম. এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত শফিকুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক দশক আগে বারহাট্টা উপজেলার রত্নপুর গ্রামের পারভীন আক্তারের সঙ্গে কলমাকান্দা উপজেলার ক্ষুদ্র সিধলী গ্রামের শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে পারভীনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ উঠে।
ঘটনার এক মাস আগে শফিকুল ইসলাম স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে পারভীনকে মারধর করা হয়। পরে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করে তাকে পুনরায় স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়।
এর কিছুদিন পর ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল গভীর রাতে পারভীনের মৃত্যুর সংবাদ পায় তার পরিবার। খবর পেয়ে স্বজনরা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ঘরের বারান্দায় তার মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের দাবি, মরদেহে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আবু ইউসুফ বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত শফিকুল ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. নুরুল কবির রুবেল বলেন, “স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।”
এসকে/এনএম
আরো পড়ুন : প্রণোদনার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ: বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বাদ, তালিকায় সুবিধাভোগীরা
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 



















