
নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় ১২ বছরের এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এক বড় হুজুরের (শিক্ষক) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরের পর কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মেহেদী মাকসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের কৈলাটি রামচন্দ্রপুর আমেনা আজিজ হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রটি ওই মাদ্রাসায় লেখাপড়ার পাশাপাশি সহপাঠীর সঙ্গে একটি কক্ষে আবাসিকভাবে অবস্থান করত। একই কক্ষের একপাশে পর্দা দিয়ে আলাদা স্থানে রাত্রিযাপন করতেন অভিযুক্ত বড় হুজুর (শিক্ষক) মো. হেলাল উদ্দিন ওরফে হাফিজুর রহমান (২৯)। তার বাড়ি নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড় ইউনিয়নের রামবাড়ি গ্রামে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৬-৭ মাস ধরে অভিযুক্ত শিক্ষক ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন সময়ে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। সর্বশেষ গত ১২ জুন দুপুরে মাথা টিপে দেওয়ার কথা বলে তাকে নিজের শয্যার কাছে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন। এ সময় ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে তার মুখ চেপে ধরা হয় এবং কাউকে বিষয়টি জানালে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয়।
পরদিন ১৩ জুন আসরের নামাজের পর দুই সহপাঠীর সঙ্গে বাড়িতে এসে ভুক্তভোগী তার মায়ের কাছে ঘটনাটি খুলে বলে। এরপর পরিবারটি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান সিদ্দিকী (রেনু) বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ভুক্তভোগীর পরিবারকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন ।
অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মেহেদী মাকসুদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে । মামলা নং-১৭ । মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে পেমই তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শফিকুল আলম দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সাথে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী বর্তমানে মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে এবং পুলিশ তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এসকে/এনকে
আরো পড়ুন : আটপাড়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারী আটক
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 




















