ঢাকা ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোহনগঞ্জে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধ’র্ষ’ণ

 

সুমন মাহমুদ শেখ, মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে মুখ ও হাত-পা বেঁধে ধ’র্ষ’ণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলার রানা হিজল গ্রামে পাশবিক এ ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে পুলিশ। মামলায় পিতা-পুত্রকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত যুবক উপজেলার রানা হিজল গ্রামের মুন্না (২৫) ও তার বাবা শহিদ আলম ওরফে ছোটন (৫৮)।

পারিবারিক সূত্র ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র, তাদের কোনো সহায়-সম্পত্তি না থাকায় তারা গ্রামের জনৈক তালুকদারের বসতবাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

সোমবার (১৫ জুন) মামলা রুজুর সত্যতা নিশ্চিত করেন মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন।

লিখিত অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে শিশুটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হয়। এ সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা একই এলাকার যুবক মুন্না (২৫) শিশুটির মুখ গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে টেনে-হেঁচড়ে জনৈক তালুকদারের একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে মুন্না শিশুটির মুখ, হাত ও পা গামছা দিয়ে বেঁধে জোরপূর্বক ধ’র্ষ’ণ করে। ধ’র্ষ’ণ শেষে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ধারালো ছুরি দেখিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। ভয়ে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি।

ধ’র্ষ’ণে’র ফলে শিশুটির প্রচণ্ড শারীরিক ব্যথা ও রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় গতকাল (রবিবার) শিশুটি ব্যথায় কাতর হয়ে তার ফুফুকে (২৮) বিষয়টি খুলে বলে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর ফুফু তাৎক্ষণিকভাবে শিশুর বাবাকে বিষয়টি অবগত করেন।

ঘটনা জানার পর শিশুর বাবা ও ফুফু অভিযুক্ত মুন্নার বাবার কাছে বিচার চাইতে যান। অভিযুক্তের বাবা ঘটনাটি শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে চরম ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, “তোরা যদি এ বিষয়টি এলাকার কাউকে বলিস বা আইনের আশ্রয় গ্রহণ করিস, তাহলে তোদের একজনকেও এলাকায় থাকতে দিব না। তোদের সব কয়টাকে হত্যা করিয়া লাশ গুম করিয়া ফেলাইব।”

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় ইতোমধ্যেই মামলা রুজু করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য আজ (সোমবার) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ধ’র্ষ’ণের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার আরও বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য উদঘাটনের জন্য আমাদের গভীর তদন্ত চলমান রয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”

এসকে/এনএস

আরো পড়ুন : পূবালী ব্যাংক কলমাকান্দা উপ-শাখায় ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে ওসির মতবিনিময় 

মোহনগঞ্জে ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধ’র্ষ’ণ

প্রকাশের সময় : ০৯:৩৯:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

 

সুমন মাহমুদ শেখ, মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে মুখ ও হাত-পা বেঁধে ধ’র্ষ’ণের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উপজেলার রানা হিজল গ্রামে পাশবিক এ ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছে পুলিশ। মামলায় পিতা-পুত্রকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত যুবক উপজেলার রানা হিজল গ্রামের মুন্না (২৫) ও তার বাবা শহিদ আলম ওরফে ছোটন (৫৮)।

পারিবারিক সূত্র ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র, তাদের কোনো সহায়-সম্পত্তি না থাকায় তারা গ্রামের জনৈক তালুকদারের বসতবাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।

সোমবার (১৫ জুন) মামলা রুজুর সত্যতা নিশ্চিত করেন মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন।

লিখিত অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে শিশুটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হয়। এ সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা একই এলাকার যুবক মুন্না (২৫) শিশুটির মুখ গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে টেনে-হেঁচড়ে জনৈক তালুকদারের একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে মুন্না শিশুটির মুখ, হাত ও পা গামছা দিয়ে বেঁধে জোরপূর্বক ধ’র্ষ’ণ করে। ধ’র্ষ’ণ শেষে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ধারালো ছুরি দেখিয়ে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। ভয়ে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি।

ধ’র্ষ’ণে’র ফলে শিশুটির প্রচণ্ড শারীরিক ব্যথা ও রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় গতকাল (রবিবার) শিশুটি ব্যথায় কাতর হয়ে তার ফুফুকে (২৮) বিষয়টি খুলে বলে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর ফুফু তাৎক্ষণিকভাবে শিশুর বাবাকে বিষয়টি অবগত করেন।

ঘটনা জানার পর শিশুর বাবা ও ফুফু অভিযুক্ত মুন্নার বাবার কাছে বিচার চাইতে যান। অভিযুক্তের বাবা ঘটনাটি শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে চরম ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, “তোরা যদি এ বিষয়টি এলাকার কাউকে বলিস বা আইনের আশ্রয় গ্রহণ করিস, তাহলে তোদের একজনকেও এলাকায় থাকতে দিব না। তোদের সব কয়টাকে হত্যা করিয়া লাশ গুম করিয়া ফেলাইব।”

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় থানায় ইতোমধ্যেই মামলা রুজু করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য আজ (সোমবার) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ধ’র্ষ’ণের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার আরও বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য উদঘাটনের জন্য আমাদের গভীর তদন্ত চলমান রয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”

এসকে/এনএস

আরো পড়ুন : পূবালী ব্যাংক কলমাকান্দা উপ-শাখায় ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত