ঢাকা ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিল্পকলায় উকিল মুন্সীর জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘একতারার ইমাম’-এর প্রদর্শনী কাল

 

বিশেষ প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪ 

 

আগামী ১১ জুন, ২০২৬ মরমী সাধক উকিল মুন্সীর  ১৪১তম জন্মবার্ষিকী। এই বিশেষ দিনটি উদযাপন এবং তাঁর জীবন ও দর্শন বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার রুমে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠান ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর পাশাপাশি থাকবে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা।

নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘সিনেহাট’ ও ‘মোশন বাংলা’র আয়োজনে অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রযোজিত সাধক উকিল মুন্সীর জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘একতারার ইমাম’। চলচ্চিত্রটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা অনার্য মুর্শিদ।

নেত্রকোনার বেতাই নদীর পাড়ের সাধক উকিল মুন্সী একাধারে মসজিদের ইমামতি করেছেন, আবার কৃষ্ণভজন ও মরমী গানও রচনা করেছেন। ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি’, অপরাধী হইলেও আমি বন্ধু তর’ ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’- এর মতো কালজয়ী গানের স্রষ্টা উকিল মুন্সী।

এই প্রামাণ্যচিত্রে হবিগঞ্জের রিচি দরবার শরীফের পীর সৈয়দ গোলাম মোস্তফা বলেন, উকিল মুন্সী শুধু মসজিদের ইমামই ছিলেন না তিনি একজন পীরও ছিলেন। রিচির পীর সৈয়দ মোজাফ্ফর আহমদ ১২ জন আউলিয়াকে খেলাফত দিয়েছেন, তার মধ্যে উকিল মুন্সী একজন। মোজাফ্ফর আহমদ ছিলেন, শাহ জালাল (রহ) এর সাথে আসা নাসির উদ্দীন সিপাহশালার বংশধর।

শরীয়ত ও মারফতের এই অপূর্ব সহাবস্থানকে সেলুলয়েডে বন্দি করতে ‘একতারার ইমাম’ প্রামাণ্যচিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন পিকলু নীল, প্রভাত আহমেদ এবং জন উইলিয়াম। প্রামাণ্যচিত্রটির আবহসংগীত ও শব্দ পরিচালনায় ছিলেন রবিউল ইসলাম শশী এবং সম্পাদনা ও রঙবিন্যাস করেছেন লায়লা ফেরদৌসী। এই চলচ্চিত্রের অন্যতম একটি বিশেষত্ব হলো এর পোস্টার।

সাধক উকিল মুন্সীর কোনো প্রকৃত ছবি না থাকায়, তাঁর ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তুলতে পোস্টারের ছবিটি অবিকলভাবে এঁকেছেন চিত্রশিল্পী এ জেড শিমুল। শিল্পী শিমুল উকিল মুন্সীর বেঁচে থাকা আত্মীয় স্বজনদের সাথে দীর্ঘ আলাপচারিতা এবং তাঁদের বর্ণনা শুনে শুনে এই অনন্য ছবিটি তৈরি করেছেন।

প্রামাণ্যচিত্রটি উৎসর্গ করা হয়েছে এর তিনজন গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারীকে— প্রখ্যাত গবেষক ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকার, উকিল মুন্সীর গানের প্রধান সংগ্রাহক আবু হান্নান এবং উকিল মুন্সীর পুত্রবধূ ফুলবানুকে। তাঁরা তিনজনই প্রামাণ্যচিত্রটির চূড়ান্ত সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগে পরলোক গমন করেন। আগামী ১১ জুনের এই আয়োজনটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

চলচ্চিত্রটির নির্মাতা অনার্য মুর্শিদ বলেন, “বিভিন্ন সময়ে সংগীত নিয়ে শরীয়তি যে দ্বন্দ্ব ও প্রশ্ন আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়, ‘একতারার ইমাম’ প্রামাণ্যচিত্রটি মূলত তারই একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক উত্তর।”

এসকে/এনএস

আরো পড়ুন :  নড়াইলে সদর থানা পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ এস্কাফ সিরাপসহ যুবক গ্রেপ্তার

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে ওসির মতবিনিময় 

শিল্পকলায় উকিল মুন্সীর জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘একতারার ইমাম’-এর প্রদর্শনী কাল

প্রকাশের সময় : ০৮:২২:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

 

বিশেষ প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪ 

 

আগামী ১১ জুন, ২০২৬ মরমী সাধক উকিল মুন্সীর  ১৪১তম জন্মবার্ষিকী। এই বিশেষ দিনটি উদযাপন এবং তাঁর জীবন ও দর্শন বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার রুমে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠান ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। প্রদর্শনীর পাশাপাশি থাকবে তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা।

নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘সিনেহাট’ ও ‘মোশন বাংলা’র আয়োজনে অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রযোজিত সাধক উকিল মুন্সীর জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘একতারার ইমাম’। চলচ্চিত্রটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা অনার্য মুর্শিদ।

নেত্রকোনার বেতাই নদীর পাড়ের সাধক উকিল মুন্সী একাধারে মসজিদের ইমামতি করেছেন, আবার কৃষ্ণভজন ও মরমী গানও রচনা করেছেন। ‘আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি’, অপরাধী হইলেও আমি বন্ধু তর’ ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’- এর মতো কালজয়ী গানের স্রষ্টা উকিল মুন্সী।

এই প্রামাণ্যচিত্রে হবিগঞ্জের রিচি দরবার শরীফের পীর সৈয়দ গোলাম মোস্তফা বলেন, উকিল মুন্সী শুধু মসজিদের ইমামই ছিলেন না তিনি একজন পীরও ছিলেন। রিচির পীর সৈয়দ মোজাফ্ফর আহমদ ১২ জন আউলিয়াকে খেলাফত দিয়েছেন, তার মধ্যে উকিল মুন্সী একজন। মোজাফ্ফর আহমদ ছিলেন, শাহ জালাল (রহ) এর সাথে আসা নাসির উদ্দীন সিপাহশালার বংশধর।

শরীয়ত ও মারফতের এই অপূর্ব সহাবস্থানকে সেলুলয়েডে বন্দি করতে ‘একতারার ইমাম’ প্রামাণ্যচিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন পিকলু নীল, প্রভাত আহমেদ এবং জন উইলিয়াম। প্রামাণ্যচিত্রটির আবহসংগীত ও শব্দ পরিচালনায় ছিলেন রবিউল ইসলাম শশী এবং সম্পাদনা ও রঙবিন্যাস করেছেন লায়লা ফেরদৌসী। এই চলচ্চিত্রের অন্যতম একটি বিশেষত্ব হলো এর পোস্টার।

সাধক উকিল মুন্সীর কোনো প্রকৃত ছবি না থাকায়, তাঁর ভাবমূর্তি ফুটিয়ে তুলতে পোস্টারের ছবিটি অবিকলভাবে এঁকেছেন চিত্রশিল্পী এ জেড শিমুল। শিল্পী শিমুল উকিল মুন্সীর বেঁচে থাকা আত্মীয় স্বজনদের সাথে দীর্ঘ আলাপচারিতা এবং তাঁদের বর্ণনা শুনে শুনে এই অনন্য ছবিটি তৈরি করেছেন।

প্রামাণ্যচিত্রটি উৎসর্গ করা হয়েছে এর তিনজন গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারীকে— প্রখ্যাত গবেষক ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক যতীন সরকার, উকিল মুন্সীর গানের প্রধান সংগ্রাহক আবু হান্নান এবং উকিল মুন্সীর পুত্রবধূ ফুলবানুকে। তাঁরা তিনজনই প্রামাণ্যচিত্রটির চূড়ান্ত সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগে পরলোক গমন করেন। আগামী ১১ জুনের এই আয়োজনটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

চলচ্চিত্রটির নির্মাতা অনার্য মুর্শিদ বলেন, “বিভিন্ন সময়ে সংগীত নিয়ে শরীয়তি যে দ্বন্দ্ব ও প্রশ্ন আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়, ‘একতারার ইমাম’ প্রামাণ্যচিত্রটি মূলত তারই একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক উত্তর।”

এসকে/এনএস

আরো পড়ুন :  নড়াইলে সদর থানা পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ এস্কাফ সিরাপসহ যুবক গ্রেপ্তার