
নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় নয় (৯) বছরের এক শিশু ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শিশুটির পারিবার সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে আরো জানা যায়, গত শনিবার (৬ জুন) বেলা ১০টার দিকে উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের পানগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে । ঘটনার দিন শিশুটিকে বাড়ির পাশের হাওরে গরু চড়াতে পাঠান তার মা । এর কিছুক্ষণ পর মা নিজেই হাওরে যান । মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ধলেশ্বর হাওরের মাঝখানে একটি গাব গাছের নিচে একই গ্রামের আব্দুর রহিম (৬৫)কে শিশুটির ওপর নির্যাতন চালাতে দেখে চিৎকার- চেঁচামেচি শুরু করলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় । তবে তৎক্ষণাৎ স্থানীয় প্রভাবশালী মাতব্বরদের হুমকি ও চাপের কারণে ঘটনার দুদিন পরও মুখ খুলতে পারে নি ভুক্তভোগী পরিবারটি।
ভুক্তভোগীর মা রুবিনা আক্তার জানান, ঘটনার পর পরই স্থানীয় প্রভাবশালী মাতব্বর আবু তাহের ও আবুবকরসহ আরও কয়েকজন বিষয়টিকে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ওঠে পড়ে লাগে। একই সাথে এই ঘটনা বাইরের কাউকে বললে বা মুখ খুললে উল্টো তাদেরই ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে বলে তিনি জানান । এমন হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে পরিবারটি নির্যাতিত শিশুটিকে তড়িঘড়ি করে তার মামার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় ।
বিষয়টি জানাজানি হলে অবশেষে পুলিশের তৎপরতায় আজ সন্ধ্যায় শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন ৷
জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, প্রাথমিকভাবে শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত রয়েছে । তবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নিরীক্ষা ও পরামর্শের জন্যে সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে৷
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের কারো সাথে তৎক্ষনাৎ যোগাযোগ করা যায়নি ।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মেহেদী মাকসুদ মুঠোফোনে জানান, পুলিশের তৎপরতায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে । এখনো পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায় নি । তবে এ বিষয়ে পুলিশ খোঁজ খবর রাখছে ।
এসকে/এনকে
আরো পড়ুন : বেনাপোলে ইসলামী ব্যাংকের পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 




















