
বিশেষ প্রতিনিধি, নেত্রকোনা || sknews24bd
লোকসাহিত্যের অমূল্য ভাণ্ডার ‘ময়মনসিংহ গীতিকা’র অন্যতম সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে আয়োজিত ‘চন্দ্রকুমার দে বুক রিভিউ প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর সেরা ১০ বিজয়ীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী।
কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষার্থী হাফসা আক্তারের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নেত্রকোনা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কবি ও প্রাবন্ধিক সরোজ মোস্তফা, কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল ইসলাম, নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাদ্দাম হুসাইন এবং প্রাবন্ধিক পল্লব চক্রবর্তী।
বক্তারা বলেন, চন্দ্রকুমার দে শুধু একজন লোকসাহিত্য সংগ্রাহক নন; তিনি বাংলার গ্রামীণ জনজীবন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক নিরলস অনুসন্ধানী। তাঁর সংগ্রহ করা পালাগাথার মাধ্যমে বাংলার মানুষের জীবনবোধ, প্রেম-বিরহ, সংগ্রাম ও সামাজিক ইতিহাস বিশ্বদরবারে পরিচিতি পেয়েছে।
প্রধান অতিথি মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, “চন্দ্রকুমার দের অবদান আমাদের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।”
প্রধান আলোচক সরোজ মোস্তফা বলেন, “ময়মনসিংহ গীতিকা কেবল একটি সাহিত্যকর্ম নয়, এটি বাঙালির জীবনদর্শনের এক অনন্য দলিল। এ মহাগ্রন্থের পেছনে চন্দ্রকুমার দের অক্লান্ত পরিশ্রম জড়িয়ে আছে।”
আলোচনায় সাদ্দাম হুসাইন বলেন, চন্দ্রকুমার দে সংগৃহীত গীতিকাগুলো আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির মানবিক ইতিহাসকে তুলে ধরেছে এবং অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যের সঙ্গে জাতিসত্তাকে সংযুক্ত করেছে।
অন্যদিকে পল্লব চক্রবর্তী চন্দ্রকুমার দের জন্মস্থান কেন্দুয়ার আইথর গ্রামে একটি পূর্ণাঙ্গ লোকসংস্কৃতি একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে বলেন, তাঁর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সাহিত্যকর্ম সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া সময়ের প্রয়োজন।
প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। বিচারকদের মূল্যায়নে সেরা ১০ জন নির্বাচিত হন। বিজয়ীরা হলেন—ওয়াসিমুল বারী শাইক, খান শাহরিয়ার ফয়সাল, বুলবুল আহমেদ, মো. দিলোয়ার হোসেন, মো. সোহেল রানা, মো. তাহরিম কবির রিয়াদ, মো. হাসান মিয়া, মোহাম্মদ সুমন, সিদরাতুল মুনতাহা শ্রেয়সী এবং হৃদয় কিশোর সৌরভ।
অনুষ্ঠানের শেষে বিজয়ীদের হাতে সনদপত্র, ক্রেস্ট ও বই তুলে দেন অতিথিরা।
এসকে/এনপি
আরো পড়ুন : পূর্বধলায় নব যোগদানকৃত নির্বাহী অফিসার শফিকুল ইসলামের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 





















