ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কংস নদের পাড়ে গাছের মগডালে সাবেক সেনা সদস্যের মরদেহ, ঘিরে আছে রহস্যের জট

ইনসেটে নিহত ফজলুল রহিম কাজল, উদ্ধারের আগে গাছে হেলান দেওয়া অবস্থায় তোলা ছবি, ছবি: প্রতিনিধি




 

নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে কংস নদের পাড়ের জঙ্গলে একটি গাছের মগডাল থেকে ফজলুল রহিম কাজল (৫৫) নামে সাবেক এক সেনা সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গলায় রশি লাগানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া গেলেও এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বিরামপুর গ্রামের কংস নদের পাড়ের একটি জঙ্গল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ফজলুল রহিম কাজল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কাকিয়াম গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত জবান আলী। প্রায় দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়ার পর তিনি নিজ উপজেলায় একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৭ অক্টোবর সকালে প্রকল্পের টাকা তুলতে ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন কাজল। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ব্যাংক থেকে তিনি টাকা তুলেছিলেন কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল আটটার দিকে এক ব্যক্তি গরু চরাতে কংস নদের পাড়ে গেলে দুর্গন্ধ পান। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে একটি গাছের মগডালে হেলান দেওয়া অবস্থায় কাজলের মরদেহ দেখতে পান তিনি। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহতের বড় ভাই ফজলুল করিম বুলবুল বলেন, “গত ৭ অক্টোবর সকালে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় কাজল। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সে টাকা তুলেছিল কি না, তা-ও আমরা জানি না।”

তিনি আরও বলেন, “এটি কোনো আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমাদের ধারণা। তাঁর মরদেহ গাছের ডালে বসানো অবস্থায় ছিল, ঝুলন্ত অবস্থায় নয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, “লাশের শরীরে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। পরনের জামাকাপড়ও খুব একটা এলোমেলো নয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা হবে। তবে সাবেক এই সেনা সদস্যের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্যের জট এখনো খোলেনি।

 

এসকে/এনএন

আরও পড়ুন : নেত্রকোনার পূর্বধলায় বিনামূল্যে ৫ শতাধিক রোগীর চক্ষু চিকিৎসা

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

কংস নদের পাড়ে গাছের মগডালে সাবেক সেনা সদস্যের মরদেহ, ঘিরে আছে রহস্যের জট

প্রকাশের সময় : ০৩:৪২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে কংস নদের পাড়ের জঙ্গলে একটি গাছের মগডাল থেকে ফজলুল রহিম কাজল (৫৫) নামে সাবেক এক সেনা সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গলায় রশি লাগানো অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া গেলেও এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বিরামপুর গ্রামের কংস নদের পাড়ের একটি জঙ্গল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ফজলুল রহিম কাজল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কাকিয়াম গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত জবান আলী। প্রায় দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়ার পর তিনি নিজ উপজেলায় একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৭ অক্টোবর সকালে প্রকল্পের টাকা তুলতে ব্যাংকে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন কাজল। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ব্যাংক থেকে তিনি টাকা তুলেছিলেন কি না, তা-ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল আটটার দিকে এক ব্যক্তি গরু চরাতে কংস নদের পাড়ে গেলে দুর্গন্ধ পান। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে একটি গাছের মগডালে হেলান দেওয়া অবস্থায় কাজলের মরদেহ দেখতে পান তিনি। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহতের বড় ভাই ফজলুল করিম বুলবুল বলেন, “গত ৭ অক্টোবর সকালে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় কাজল। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সে টাকা তুলেছিল কি না, তা-ও আমরা জানি না।”

তিনি আরও বলেন, “এটি কোনো আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে আমাদের ধারণা। তাঁর মরদেহ গাছের ডালে বসানো অবস্থায় ছিল, ঝুলন্ত অবস্থায় নয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, “লাশের শরীরে তেমন কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। পরনের জামাকাপড়ও খুব একটা এলোমেলো নয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা করা হবে। তবে সাবেক এই সেনা সদস্যের মৃত্যু ঘিরে তৈরি হওয়া রহস্যের জট এখনো খোলেনি।

 

এসকে/এনএন

আরও পড়ুন : নেত্রকোনার পূর্বধলায় বিনামূল্যে ৫ শতাধিক রোগীর চক্ষু চিকিৎসা