
নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোনার মদনে কৃষকের ছদ্মবেশে হাওরে অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি আতিকুল ইসলাম ওরফে কুল ইসলামকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক থাকা আতিকুলকে সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের মাগনা গ্রামের হাওর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম।
গ্রেপ্তার আতিকুল ইসলাম নায়েকপুর ইউনিয়নের মাগনা উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে। নিহত কৃষক বাচ্চু মিয়া (৬০) একই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ বিকেলে নিজের ধানখেতে গিয়ে কয়েকটি গরুকে ধান খেতে দেখেন কৃষক বাচ্চু মিয়া। এ নিয়ে গরুর মালিক আতিকুল ইসলামের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আতিকুল তার লোকজন নিয়ে বাচ্চু মিয়ার ওপর হামলা করেন। এ সময় আতিকুলের বাঁশের লাঠির আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বাচ্চু মিয়া। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় পরদিন নিহতের ছেলে মো. আলামিন বাদী হয়ে মদন থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আতিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আতিকুল কৌশলে আত্মগোপনে ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও শেষ পর্যন্ত বাড়ির পাশের হাওরেই তার অবস্থানের তথ্য পায় পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার হাওরে আতিকুলের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ধরতে অভিনব কৌশল নেয় পুলিশ। কৃষকের ছদ্মবেশে পুলিশ সদস্যরা হাওরে প্রবেশ করেন। পরে সুযোগ বুঝে সেখান থেকেই আতিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মদন থানার ওসি সালাহউদ্দিন করিম বলেন, বাচ্চু মিয়া হত্যা মামলার দুই থেকে তিনজন আসামি আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। আতিকুল ইসলামসহ অন্য কয়েকজন আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। পরে আতিকুলের অবস্থান শনাক্ত করে কৃষকের ছদ্মবেশে পুলিশ হাওরে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার আতিকুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসকে/এনএম
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 



















