ঢাকা ০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৭ জনের, নিহতদের সবাই শনাক্ত




নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪

ময়মনসিংহে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও পাঁচ বছরের এক শিশু রয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে নগরের দাপুনিয়া হাড়গুজির পাড় এলাকায় রহমতপুর বাইপাস সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। একই পরিবারের নিহত চারজন হলেন—জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)। তারা জামালপুর থেকে গাজীপুর যাচ্ছিলেন। নিহত মোফাজ্জল হোসেন গাজীপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

নিহত অপর তিনজন হলেন—জামালপুর সদর উপজেলার বীর গোবিন্দপুর গ্রামের আজর উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক মো. সুজন আলী (৪৪) এবং একই উপজেলার বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম সাতজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল থেকে চলে গেলেও পরে পুলিশ সেটি আটক করে। পুলিশের রেকার দিয়ে বাসটি জব্দ করে রাখা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারীকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

সংঘর্ষে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে থাকা সাতজন যাত্রীরই মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে নিহতদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরিচয় শনাক্তের পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস ময়মনসিংহ বাইপাসগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে মুখোমুখি ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী মামুন হোসেন জানান, জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় বিকট শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও সিএনজি দেখতে পান। স্থানীয়রা বাসটি সরিয়ে অটোরিকশাটি বের করেন। পরে সেখান থেকে একে একে নিহতদের উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রহমতপুর বাইপাস সড়কে দিন দিন যানবাহনের চাপ বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। দুর্ঘটনা কমাতে সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : সুন্দর,আনন্দময় ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে- এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

One thought on “ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৭ জনের, নিহতদের সবাই শনাক্ত”

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৭ জনের, নিহতদের সবাই শনাক্ত

প্রকাশের সময় : ১১:৩৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি | এসকেনিউজ২৪

ময়মনসিংহে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও পাঁচ বছরের এক শিশু রয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে নগরের দাপুনিয়া হাড়গুজির পাড় এলাকায় রহমতপুর বাইপাস সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় নিহত সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। একই পরিবারের নিহত চারজন হলেন—জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) ও মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)। তারা জামালপুর থেকে গাজীপুর যাচ্ছিলেন। নিহত মোফাজ্জল হোসেন গাজীপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।

নিহত অপর তিনজন হলেন—জামালপুর সদর উপজেলার বীর গোবিন্দপুর গ্রামের আজর উদ্দিনের ছেলে অটোরিকশাচালক মো. সুজন আলী (৪৪) এবং একই উপজেলার বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) ও তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম সাতজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল থেকে চলে গেলেও পরে পুলিশ সেটি আটক করে। পুলিশের রেকার দিয়ে বাসটি জব্দ করে রাখা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারীকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

সংঘর্ষে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে থাকা সাতজন যাত্রীরই মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে নিহতদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরিচয় শনাক্তের পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাস ময়মনসিংহ বাইপাসগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে মুখোমুখি ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী মামুন হোসেন জানান, জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় বিকট শব্দ শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও সিএনজি দেখতে পান। স্থানীয়রা বাসটি সরিয়ে অটোরিকশাটি বের করেন। পরে সেখান থেকে একে একে নিহতদের উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রহমতপুর বাইপাস সড়কে দিন দিন যানবাহনের চাপ বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। দুর্ঘটনা কমাতে সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি চালক ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের আরও সতর্ক হওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এসকে/এনএম

আরো পড়ুন : সুন্দর,আনন্দময় ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে- এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত