ঢাকা ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যত্রতত্র ময়লা—পরিবেশ ঝুঁকিতে কেন্দুয়া পৌর শহর, ডাম্পিং ইয়ার্ড স্থাপনের জোরালো দাবি




 

নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌর শহরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন সড়ক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ময়লার স্তূপ। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত একটি স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড (সলিড ওয়েস্ট ডাম্পিং) স্থাপনের দাবি জোরালো হচ্ছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান হয় নি। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেও অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছে বলে জানান তারা।

শান্তিবাগের বাসিন্দা ও কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সেকুল ইসলাম খান, আরামবাগের বাসিন্দা আয়কর আইনজীবী সুমন কুমার পণ্ডিত এবং সাউদপাড়ার বাসিন্দা কেন্দুয়া সরকারি কলেজের প্রভাষক আব্দুল কাদের নয়নসহ স্থানীয়রা বলেন, ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধে শহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।

জানা যায়, পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের অসন্তোষ লাঘব এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় পাঁচ বছরের জন্য (১ মার্চ ২০২৬ থেকে ১ মার্চ ২০৩১) সলিড ওয়েস্ট ডাম্পিংয়ের জন্য একটি জায়গা ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত এলাকার বাসিন্দাদের আপত্তির কারণে গত ১৯ মে প্রকল্পটি বাতিল করা হয়।

এ ছাড়া জনস্বার্থে অস্থায়ী সলিড ওয়েস্ট ডাম্পিং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শহরের পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে পাঁচটি স্থায়ী ও ৪০টি পোর্টেবল ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয় নি। অন্যদিকে বর্তমানে দেশের ৩৩০টি পৌরসভায় ডাম্প ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য উপযুক্ত খাসজমি চিহ্নিত করার সরকারি নির্দেশনাও রয়েছে ।

কেন্দুয়া পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) রাজু আহমেদ বলেন, স্থানীয়দের আপত্তির কারণে আগের প্রকল্পটি বাতিল হয়েছে। তবে বর্তমানে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক পৌরসীমার বাইরে কেন্দুয়া-গোগবাজার সড়কে প্রায় ৩০ শতাংশ খাসজমি পাওয়া গেছে। সেখানে রাস্তার সংযোগের সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া আশপাশে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিও রয়েছে।

পূর্বে উল্লেখিত ডাস্টবিন স্থাপনের প্রকল্পের অর্থ অন্য কাজে ব্যয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের জলাবদ্ধতা নিরসনে রাস্তা ও পৌর ভবন সংস্কারের কাজে ওই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তবে অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয়ের অর্থ সম্ভবত উপজেলা টিআর কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।

কেন্দুয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক ওয়াহিদ বলেন, পৌরসভার নিজস্ব ফান্ডসহ নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উদাহরণ দিয়ে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশা নিধনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও ফগার মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলও নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কেন্দুয়া পৌর প্রশাসক সানজিদা চৌধুরী বলেন, পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে ইতোমধ্যে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মালিকের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। তিনি আগের অস্থায়ী সলিড ওয়েস্ট ডাম্পিং এর অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় সম্পর্কে বলেন, না দেখে বলতে পারছি না ।

উল্লেখ্য, ‘খ’ শ্রেণির কেন্দুয়া পৌরসভা ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা ও নগরায়ণ বাড়ায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন পৌর শহরের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় দেশের ৩৩০টি পৌরসভায় ডাম্প ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য উপযুক্ত খাসজমি চিহ্নিত করার সরকারি নির্দেশনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : মরা গরুর মাংসের অভিযোগে কেন্দুয়ায় চাঞ্চল্য, ল্যাবে যাচ্ছে নমুনা

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

যত্রতত্র ময়লা—পরিবেশ ঝুঁকিতে কেন্দুয়া পৌর শহর, ডাম্পিং ইয়ার্ড স্থাপনের জোরালো দাবি

প্রকাশের সময় : ০৯:৩২:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌর শহরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন সড়ক ও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ময়লার স্তূপ। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত একটি স্থায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড (সলিড ওয়েস্ট ডাম্পিং) স্থাপনের দাবি জোরালো হচ্ছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান হয় নি। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কের মধ্যেও অপরিকল্পিতভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছে বলে জানান তারা।

শান্তিবাগের বাসিন্দা ও কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সেকুল ইসলাম খান, আরামবাগের বাসিন্দা আয়কর আইনজীবী সুমন কুমার পণ্ডিত এবং সাউদপাড়ার বাসিন্দা কেন্দুয়া সরকারি কলেজের প্রভাষক আব্দুল কাদের নয়নসহ স্থানীয়রা বলেন, ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধে শহরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন।

জানা যায়, পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের অসন্তোষ লাঘব এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় পাঁচ বছরের জন্য (১ মার্চ ২০২৬ থেকে ১ মার্চ ২০৩১) সলিড ওয়েস্ট ডাম্পিংয়ের জন্য একটি জায়গা ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত এলাকার বাসিন্দাদের আপত্তির কারণে গত ১৯ মে প্রকল্পটি বাতিল করা হয়।

এ ছাড়া জনস্বার্থে অস্থায়ী সলিড ওয়েস্ট ডাম্পিং ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শহরের পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে পাঁচটি স্থায়ী ও ৪০টি পোর্টেবল ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয় নি। অন্যদিকে বর্তমানে দেশের ৩৩০টি পৌরসভায় ডাম্প ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য উপযুক্ত খাসজমি চিহ্নিত করার সরকারি নির্দেশনাও রয়েছে ।

কেন্দুয়া পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) রাজু আহমেদ বলেন, স্থানীয়দের আপত্তির কারণে আগের প্রকল্পটি বাতিল হয়েছে। তবে বর্তমানে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক পৌরসীমার বাইরে কেন্দুয়া-গোগবাজার সড়কে প্রায় ৩০ শতাংশ খাসজমি পাওয়া গেছে। সেখানে রাস্তার সংযোগের সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া আশপাশে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিও রয়েছে।

পূর্বে উল্লেখিত ডাস্টবিন স্থাপনের প্রকল্পের অর্থ অন্য কাজে ব্যয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা পরিষদের জলাবদ্ধতা নিরসনে রাস্তা ও পৌর ভবন সংস্কারের কাজে ওই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। তবে অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয়ের অর্থ সম্ভবত উপজেলা টিআর কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন।

কেন্দুয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক ওয়াহিদ বলেন, পৌরসভার নিজস্ব ফান্ডসহ নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উদাহরণ দিয়ে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও মশা নিধনে কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও ফগার মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবলও নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কেন্দুয়া পৌর প্রশাসক সানজিদা চৌধুরী বলেন, পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে ইতোমধ্যে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির মালিকের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। তিনি আগের অস্থায়ী সলিড ওয়েস্ট ডাম্পিং এর অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় সম্পর্কে বলেন, না দেখে বলতে পারছি না ।

উল্লেখ্য, ‘খ’ শ্রেণির কেন্দুয়া পৌরসভা ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সময়ের সঙ্গে জনসংখ্যা ও নগরায়ণ বাড়ায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন পৌর শহরের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় দেশের ৩৩০টি পৌরসভায় ডাম্প ইয়ার্ড নির্মাণের জন্য উপযুক্ত খাসজমি চিহ্নিত করার সরকারি নির্দেশনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

এসকে/এনকে

আরো পড়ুন : মরা গরুর মাংসের অভিযোগে কেন্দুয়ায় চাঞ্চল্য, ল্যাবে যাচ্ছে নমুনা