ঢাকা ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ায়  ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনের রোপণ করা ধানের চারা নষ্টের অভিযোগ 

 

মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, কেন্দুয়া ||এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বাবার দেওয়া হেবা দলিলের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে নিজের দাবি করা জমিতে রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে ভাইয়ের বিরুদ্ধে। 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি গ্রামের পুকুরিয়া হাওরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী আখলিমা আক্তার আঁখি (৩৯) জানান, তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর পর মঙ্গলবার নিজে নামে হেবা দলিল করা জমিতে ধানের চারা রোপণ করেন। কিন্তু বুধবার সকালের দিকে তার মেজো ভাই মো. কাঞ্চন মিয়া ওই জমিতে হালচাষ করে রোপণ করা ধানের চারাগুলো নষ্ট করে দেন।

এতে জমির লাগানো চারা কাদা-মাটির সঙ্গে মিশে নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আঁখলিমা।

আখলিমা আক্তার আঁখি পোড়াবাড়ি গ্রামের মৃত আলী হোসেন ফকির ওরফে আনছু মিয়ার একমাত্র মেয়ে। তার চার ভাই- নুরু মিয়া, কাঞ্চন মিয়া, (মৃত) দনাই মিয়া ও আবদুল কাদির।

আখলিমা বলেন- বাবা জীবিত থাকাকালে আমাকে ভালোবেসে কয়েকটি দাগে ২১.৯ এর চার ভাগের তিন অংশ জমি হেবা দলিল করে দেন। তিনি আরও বলেন-২০১৩ সালের ৩১ জুলাই কেন্দুয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তার বাবা আলী হোসেন ওরফে আনছু মিয়া ওই হেবা দলিল সম্পাদন করে দেন বলে জানান তিনি।

তার দাবি, ওই দলিলে ৩২৯৫, ৬৫২, ৬৫৩, ৮৯১, ১০২৭, ৯৭৭, ৯৬৩, ৯৮৪, ৯৮৭, ৯৮৮, ৮৪১ ও ১৯৮৪ নম্বর দাগের জমির উল্লেখ রয়েছে।

তবে আখলিমার অভিযোগ, পরবর্তীতে তার তৃতীয় ভাই কাঞ্চন মিয়া ২০১৫ সালের ৯ জুন একই সম্পত্তিসহ আরও কিছু জমি হেবা দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে করে নেন। এরপর থেকেই জমির ভোগদখল নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
আখলিমা বলেন- আমি আমার বাবার দেওয়া জমিতে চারা রোপণ করেছিলাম। কিন্তু বুধবার সকালে আমার ভাই কাঞ্চন হালচাষ করে সব চারা নষ্ট করে দিয়েছে। চারাগুলো কাদা-মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। আমি বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ১৩ বছর ধরে আমি আমার সম্পত্তি নিয়ে ঘুরছি। আগেও থানায় অভিযোগ করেছি। এরপরও সমস্যার সমাধান হয়নি। এখন আমার রোপণ করা ধানের চারাও নষ্ট করা হলো। আমি চাই, দলিলপত্র যাচাই করে প্রকৃত বিষয়টি বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

তবে ধানের চারা নষ্ট করার অভিযোগ এবং জমির মালিকানা নিয়ে আখলিমার বক্তব্যের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. কাঞ্চন মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সকালে ক্ষেতের আইল দিয়ে লাটিসোঁটা নিয়ে ঘুরতে দেখা যায় কাঞ্চন মিয়া ও তার পরিবারবর্গকে।
এটি দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধের মধ্যে নতুন করে ধানের চারা নষ্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও নতুন আলোচনার তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা বিষয়টির দ্রুত আইনগত সমাধান এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয় কেন্দুয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন- অভিযোগ পেয়েছি আইন অনুযায়ী ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

এসকে/এনএস 

আরো পড়ুন : গণশুনানিতে অভিযোগ শুনলেন জেলা প্রশাসক, সেবাপ্রত্যাশীদের হাতে তুলে দিলেন গাছের চারা

One thought on “কেন্দুয়ায়  ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনের রোপণ করা ধানের চারা নষ্টের অভিযোগ 

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

নেত্রকোনায় ৫২৫ কেজি ভারতীয় ফুচকা জব্দ, গ্রেফতার ৪

কেন্দুয়ায়  ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনের রোপণ করা ধানের চারা নষ্টের অভিযোগ 

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৫:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, কেন্দুয়া ||এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বাবার দেওয়া হেবা দলিলের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে নিজের দাবি করা জমিতে রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে ভাইয়ের বিরুদ্ধে। 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি গ্রামের পুকুরিয়া হাওরে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী আখলিমা আক্তার আঁখি (৩৯) জানান, তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর পর মঙ্গলবার নিজে নামে হেবা দলিল করা জমিতে ধানের চারা রোপণ করেন। কিন্তু বুধবার সকালের দিকে তার মেজো ভাই মো. কাঞ্চন মিয়া ওই জমিতে হালচাষ করে রোপণ করা ধানের চারাগুলো নষ্ট করে দেন।

এতে জমির লাগানো চারা কাদা-মাটির সঙ্গে মিশে নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আঁখলিমা।

আখলিমা আক্তার আঁখি পোড়াবাড়ি গ্রামের মৃত আলী হোসেন ফকির ওরফে আনছু মিয়ার একমাত্র মেয়ে। তার চার ভাই- নুরু মিয়া, কাঞ্চন মিয়া, (মৃত) দনাই মিয়া ও আবদুল কাদির।

আখলিমা বলেন- বাবা জীবিত থাকাকালে আমাকে ভালোবেসে কয়েকটি দাগে ২১.৯ এর চার ভাগের তিন অংশ জমি হেবা দলিল করে দেন। তিনি আরও বলেন-২০১৩ সালের ৩১ জুলাই কেন্দুয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তার বাবা আলী হোসেন ওরফে আনছু মিয়া ওই হেবা দলিল সম্পাদন করে দেন বলে জানান তিনি।

তার দাবি, ওই দলিলে ৩২৯৫, ৬৫২, ৬৫৩, ৮৯১, ১০২৭, ৯৭৭, ৯৬৩, ৯৮৪, ৯৮৭, ৯৮৮, ৮৪১ ও ১৯৮৪ নম্বর দাগের জমির উল্লেখ রয়েছে।

তবে আখলিমার অভিযোগ, পরবর্তীতে তার তৃতীয় ভাই কাঞ্চন মিয়া ২০১৫ সালের ৯ জুন একই সম্পত্তিসহ আরও কিছু জমি হেবা দলিলের মাধ্যমে নিজের নামে করে নেন। এরপর থেকেই জমির ভোগদখল নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।
আখলিমা বলেন- আমি আমার বাবার দেওয়া জমিতে চারা রোপণ করেছিলাম। কিন্তু বুধবার সকালে আমার ভাই কাঞ্চন হালচাষ করে সব চারা নষ্ট করে দিয়েছে। চারাগুলো কাদা-মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। আমি বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ১৩ বছর ধরে আমি আমার সম্পত্তি নিয়ে ঘুরছি। আগেও থানায় অভিযোগ করেছি। এরপরও সমস্যার সমাধান হয়নি। এখন আমার রোপণ করা ধানের চারাও নষ্ট করা হলো। আমি চাই, দলিলপত্র যাচাই করে প্রকৃত বিষয়টি বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

তবে ধানের চারা নষ্ট করার অভিযোগ এবং জমির মালিকানা নিয়ে আখলিমার বক্তব্যের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. কাঞ্চন মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সকালে ক্ষেতের আইল দিয়ে লাটিসোঁটা নিয়ে ঘুরতে দেখা যায় কাঞ্চন মিয়া ও তার পরিবারবর্গকে।
এটি দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পত্তি বিরোধের মধ্যে নতুন করে ধানের চারা নষ্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও নতুন আলোচনার তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা বিষয়টির দ্রুত আইনগত সমাধান এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।
এই বিষয় কেন্দুয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন- অভিযোগ পেয়েছি আইন অনুযায়ী ব্যবস্হা নেওয়া হবে।

এসকে/এনএস 

আরো পড়ুন : গণশুনানিতে অভিযোগ শুনলেন জেলা প্রশাসক, সেবাপ্রত্যাশীদের হাতে তুলে দিলেন গাছের চারা