ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুকসুদপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, বীর মুক্তিযোদ্ধার বেড়া-গাছ কাটার অভিযোগ

 

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪ 

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির খন্দকারের বাড়ির বেড়া ও ফলজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আলমগীরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলমগীরের দাবি, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়; এটি সরকারি হালট এবং কয়েকটি পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা।

মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী গ্রামের এ ঘটনায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবিতে বিরোধটি এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
খবির খন্দকারের অভিযোগ, গত ১২ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আলমগীরের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে বেড়া ও ফলজ গাছ কেটে ফেলেন। এতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর। পাশাপাশি পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি ও মামলার সাক্ষীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানান খবির। পরে ১৩ আগস্ট মুকসুদপুর সি.আর. ৬০৪/২৬ নম্বরে আদালতে মামলা করেন তিনি।

অন্যদিকে আলমগীর বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি কয়েকটি পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ এবং তাঁরা এটিকে সরকারি হালট হিসেবে জানেন। তাঁর দাবি, কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তাঁরা সেখানে যাননি। সরকারি রেকর্ড যাচাই করলেই প্রকৃত মালিকানা স্পষ্ট হবে।

আলমগীরের ভাই জাহাঙ্গীর আলমও জায়গাটি সরকারি দাবি করে বলেন, খবির খন্দকার যদি এটিকে পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করেন, তাহলে মালিকানার বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে হবে। প্রশাসনের তদন্তে যে সিদ্ধান্ত আসবে, তাঁরা তা মেনে নেবেন।

এদিকে খবির খন্দকারের দাবি, জায়গাটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ভোগদখল করে আসছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

ঘটনার প্রতিবাদে ১৭ আগস্ট খবির খন্দকার, তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা মানববন্ধনও করেন।
বিরোধপূর্ণ জায়গাটি সরকারি হালট নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন—এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. ইব্রাহীম খলীলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি রেকর্ড, খতিয়ান, দাগ নম্বর ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমেই জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ সম্ভব। পাশাপাশি বেড়া ও গাছ কাটার অভিযোগের সত্যতাও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার দাবি উঠেছে।

এসকে/জিএস 

আরো পড়ুন : কেন্দুয়ায় আ.লীগের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ, ‘বন্ধকী’র নেই কাগজপত্র

One thought on “মুকসুদপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, বীর মুক্তিযোদ্ধার বেড়া-গাছ কাটার অভিযোগ

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

নেত্রকোনায় ৫২৫ কেজি ভারতীয় ফুচকা জব্দ, গ্রেফতার ৪

মুকসুদপুরে জমি নিয়ে বিরোধ, বীর মুক্তিযোদ্ধার বেড়া-গাছ কাটার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ০৩:২৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪ 

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা খবির খন্দকারের বাড়ির বেড়া ও ফলজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আলমগীরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলমগীরের দাবি, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি ব্যক্তিমালিকানাধীন নয়; এটি সরকারি হালট এবং কয়েকটি পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা।

মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী গ্রামের এ ঘটনায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবিতে বিরোধটি এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
খবির খন্দকারের অভিযোগ, গত ১২ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আলমগীরের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে বেড়া ও ফলজ গাছ কেটে ফেলেন। এতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁর। পাশাপাশি পৈতৃক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি ও মামলার সাক্ষীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানান খবির। পরে ১৩ আগস্ট মুকসুদপুর সি.আর. ৬০৪/২৬ নম্বরে আদালতে মামলা করেন তিনি।

অন্যদিকে আলমগীর বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গাটি কয়েকটি পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ এবং তাঁরা এটিকে সরকারি হালট হিসেবে জানেন। তাঁর দাবি, কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তাঁরা সেখানে যাননি। সরকারি রেকর্ড যাচাই করলেই প্রকৃত মালিকানা স্পষ্ট হবে।

আলমগীরের ভাই জাহাঙ্গীর আলমও জায়গাটি সরকারি দাবি করে বলেন, খবির খন্দকার যদি এটিকে পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করেন, তাহলে মালিকানার বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে হবে। প্রশাসনের তদন্তে যে সিদ্ধান্ত আসবে, তাঁরা তা মেনে নেবেন।

এদিকে খবির খন্দকারের দাবি, জায়গাটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ভোগদখল করে আসছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

ঘটনার প্রতিবাদে ১৭ আগস্ট খবির খন্দকার, তাঁর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা মানববন্ধনও করেন।
বিরোধপূর্ণ জায়গাটি সরকারি হালট নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন—এ বিষয়ে মুকসুদপুর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. ইব্রাহীম খলীলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের মতে, সরকারি রেকর্ড, খতিয়ান, দাগ নম্বর ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমেই জমিটির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ সম্ভব। পাশাপাশি বেড়া ও গাছ কাটার অভিযোগের সত্যতাও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার দাবি উঠেছে।

এসকে/জিএস 

আরো পড়ুন : কেন্দুয়ায় আ.লীগের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ, ‘বন্ধকী’র নেই কাগজপত্র