ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ায় আ.লীগের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ, ‘বন্ধকী’র নেই কাগজপত্র

 

মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, কেন্দুয়া || এসকেনিউজ২৪

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের দলপা (দক্ষিণ) পাড়া গ্রামে ৪০ শতাংশ কৃষিজমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। একই গ্রামের বাসিন্দা সোনা মিয়া এ অভিযোগ করেছেন।

সোনা মিয়ার অভিযোগ, তার মালিকানাধীন ৪০ শতাংশ কৃষিজমি রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার লোকজন জোরপূর্বক দখলে নিয়ে সেখানে ধানের চারা রোপণ করেছেন। তিনি জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে তাকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন।

স্থানীয়ভাবে সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম মিন্টুর বাবা আওয়ামী লীগের (সাবেক সভাপতি ৫ নং ওয়ার্ড ) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই সূত্রে রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার ভাই সোহেল ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন বলে জানান।

তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৭ বছর এলাকায় তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই প্রভাব কমেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দা রাবেয়া আক্তার, জজ মিয়া,জুয়েল, তুফাজ্জল হোসেন সহ কয়েকজন বলেন, সোনা মিয়া বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে অনেক হয়রানি ও মামলা হামলার শিকার হয়েছেন। বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার জমি দখল করে রাখা হয়ে থাকলে বিষয়টি দুঃখজনক।

সোনা মিয়া বলেন, আমার ৪০ শতাংশ কৃষিজমি রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার লোকজন জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। আমি জমিতে যেতে পারছি না। জমিতে গেলে তারা আমাকে মারধরের হুমকি দেয়। আওয়ামী লীগের প্রভাবের সময় তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখাত, এখনো একইভাবে ভয় দেখাচ্ছে। ১৩ শতাংশ জমি নিয়ে কেন আদালতে পিয়নশন করলাম/ করালাম এ বিষয়ও হুমকি দিচ্ছে। আমি জীবন নিয়ে খুব আতংকে আছি, যেকোনো সময় ভাড়াটিয়া দিয়েও আমাকে মেরে ফেলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তার আপন ভাইয়ের কাছ থেকে আরও ৩ শতাংশ জমি রফিকুল ইসলাম মিন্টুরা কিনেছেন। এ জমি নিয়ে এলাকায় দরবার-শালিসও হয়েছে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, শালিসের সময় তারা তার ভাইয়ের কাছ থেকে জমি কিনবেন না বলে জানিয়েছিলেন। পরে ওই জমি কিনেছেন বলেও অভিযোগ করেন সোনা মিয়া।

সোনা মিয়ার আরও অভিযোগ, তার ৪০ শতাংশ জমি দখলে নেওয়ার পর সেটিকে বন্ধকী জমি দাবি করে রফিকুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।
তিনি বলেন, আমি তাদের কাছে কোনো জমি বন্ধক রাখিনি। যদি বন্ধক রাখা হয়ে থাকে, তাহলে তারা সেই জমির কাগজপত্র দেখাক।

এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম মিন্টুর স্ত্রী সুফিয়া আক্তার বলেন, আমরা সোনা মিয়ার কাছ থেকে জমি বন্ধক রেখেছি মুখে। আমাদের কাছে এর কোনো কাগজপত্র রেকর্ড নেই।
তিনি আরও বলেন, তার স্বামী বাড়িতে থাকেন না। তাই স্থানীয় কৃষিশ্রমিকদের মাধ্যমে ওই জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম মিন্টুর ভাই, সোহেল আহমেদ জানান, আমার বাবা আ.লীগ ছিল কি- না তা আমি জানিনা। আমরা কোন দিন ছাত্রলীগ করিনি। আমি বীণা ধান কোম্পানির ময়মনসিংহ বিভাগের (এডিডি) অতিরিক্ত পরিচালক এর দায়িত্বে আছি।

দলপা ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম মুঠোফোনে বলেন- শফিকুল ইসলাম মিন্টু’র বাবা ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিল ২বার এবং তার পরিবারের সকল সদস্য আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও সহযোগীদের জমি সংক্রান্ত বিষয় জেনে সকলকে নিয়ে গ্রামে দরবার সালিস করে শেষ করতে পারি নাই।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন- দলপার সোহেল সাহেব আমাকে জমি সংক্রান্ত বিষয় অভিযোগ দিয়েছেন, সেটি দেখার জন্য ভূমি অফিসে ফরোয়ার্ড করে দিয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসকে/এনএস

আরো পড়ুন : ড. হিলালীর নেতৃত্বে কেন্দুয়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালী ও সমাবেশ

One thought on “কেন্দুয়ায় আ.লীগের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ, ‘বন্ধকী’র নেই কাগজপত্র

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

নেত্রকোনায় ৫২৫ কেজি ভারতীয় ফুচকা জব্দ, গ্রেফতার ৪

কেন্দুয়ায় আ.লীগের প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ, ‘বন্ধকী’র নেই কাগজপত্র

প্রকাশের সময় : ০২:৫২:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, কেন্দুয়া || এসকেনিউজ২৪

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের দলপা (দক্ষিণ) পাড়া গ্রামে ৪০ শতাংশ কৃষিজমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। একই গ্রামের বাসিন্দা সোনা মিয়া এ অভিযোগ করেছেন।

সোনা মিয়ার অভিযোগ, তার মালিকানাধীন ৪০ শতাংশ কৃষিজমি রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার লোকজন জোরপূর্বক দখলে নিয়ে সেখানে ধানের চারা রোপণ করেছেন। তিনি জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে তাকে মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন।

স্থানীয়ভাবে সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম মিন্টুর বাবা আওয়ামী লীগের (সাবেক সভাপতি ৫ নং ওয়ার্ড ) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই সূত্রে রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার ভাই সোহেল ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন বলে জানান।

তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৭ বছর এলাকায় তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই প্রভাব কমেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দা রাবেয়া আক্তার, জজ মিয়া,জুয়েল, তুফাজ্জল হোসেন সহ কয়েকজন বলেন, সোনা মিয়া বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে অনেক হয়রানি ও মামলা হামলার শিকার হয়েছেন। বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার জমি দখল করে রাখা হয়ে থাকলে বিষয়টি দুঃখজনক।

সোনা মিয়া বলেন, আমার ৪০ শতাংশ কৃষিজমি রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও তার লোকজন জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে। আমি জমিতে যেতে পারছি না। জমিতে গেলে তারা আমাকে মারধরের হুমকি দেয়। আওয়ামী লীগের প্রভাবের সময় তারা আমাদের ভয়ভীতি দেখাত, এখনো একইভাবে ভয় দেখাচ্ছে। ১৩ শতাংশ জমি নিয়ে কেন আদালতে পিয়নশন করলাম/ করালাম এ বিষয়ও হুমকি দিচ্ছে। আমি জীবন নিয়ে খুব আতংকে আছি, যেকোনো সময় ভাড়াটিয়া দিয়েও আমাকে মেরে ফেলতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তার আপন ভাইয়ের কাছ থেকে আরও ৩ শতাংশ জমি রফিকুল ইসলাম মিন্টুরা কিনেছেন। এ জমি নিয়ে এলাকায় দরবার-শালিসও হয়েছে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, শালিসের সময় তারা তার ভাইয়ের কাছ থেকে জমি কিনবেন না বলে জানিয়েছিলেন। পরে ওই জমি কিনেছেন বলেও অভিযোগ করেন সোনা মিয়া।

সোনা মিয়ার আরও অভিযোগ, তার ৪০ শতাংশ জমি দখলে নেওয়ার পর সেটিকে বন্ধকী জমি দাবি করে রফিকুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।
তিনি বলেন, আমি তাদের কাছে কোনো জমি বন্ধক রাখিনি। যদি বন্ধক রাখা হয়ে থাকে, তাহলে তারা সেই জমির কাগজপত্র দেখাক।

এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম মিন্টুর স্ত্রী সুফিয়া আক্তার বলেন, আমরা সোনা মিয়ার কাছ থেকে জমি বন্ধক রেখেছি মুখে। আমাদের কাছে এর কোনো কাগজপত্র রেকর্ড নেই।
তিনি আরও বলেন, তার স্বামী বাড়িতে থাকেন না। তাই স্থানীয় কৃষিশ্রমিকদের মাধ্যমে ওই জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে।

রফিকুল ইসলাম মিন্টুর ভাই, সোহেল আহমেদ জানান, আমার বাবা আ.লীগ ছিল কি- না তা আমি জানিনা। আমরা কোন দিন ছাত্রলীগ করিনি। আমি বীণা ধান কোম্পানির ময়মনসিংহ বিভাগের (এডিডি) অতিরিক্ত পরিচালক এর দায়িত্বে আছি।

দলপা ইউনিয়ন ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম মুঠোফোনে বলেন- শফিকুল ইসলাম মিন্টু’র বাবা ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ছিল ২বার এবং তার পরিবারের সকল সদস্য আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও সহযোগীদের জমি সংক্রান্ত বিষয় জেনে সকলকে নিয়ে গ্রামে দরবার সালিস করে শেষ করতে পারি নাই।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন- দলপার সোহেল সাহেব আমাকে জমি সংক্রান্ত বিষয় অভিযোগ দিয়েছেন, সেটি দেখার জন্য ভূমি অফিসে ফরোয়ার্ড করে দিয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসকে/এনএস

আরো পড়ুন : ড. হিলালীর নেতৃত্বে কেন্দুয়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‍্যালী ও সমাবেশ