
বিশেষ প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪
নিষেধাজ্ঞা, আদালতের নির্দেশনা ও প্রশাসনের একাধিক অভিযান সত্ত্বেও নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থামছে না। রাজনৈতিক প্রভাবশালী একটি চক্রের ছত্রছায়ায় মহাদেও ও সোমেশ্বরী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইঞ্জিনচালিত নৌযানে নদী থেকে বালু তুলে নদীর তীরে মজুত করা হচ্ছে। পরে অটোরিকশা, ভ্যান ও ট্রাকে করে এসব বালু বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই চলে এই কার্যক্রম।
অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি নদীভাঙন ও পরিবেশের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। বালুবাহী নৌযান ও পরিবহন চলাচলের শব্দে নদীতীরবর্তী বাসিন্দারাও দুর্ভোগে পড়ছেন।
কলমাকান্দার রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান খান পাঠান বাবুল অভিযোগ করেন, মহাদেও নদী থেকে বালু উত্তোলনের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ক্ষমতাসীন দলের বহিষ্কৃত নেতাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এমনকি বিষরপাশা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে দিয়ে বালুবাহী নৌকা চলাচল করলেও পুলিশ দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয় না বলে তিনি দাবি করেন।
তবে বিষরপাশা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ফাঁড়ির সামনে দিয়ে কোনো বালুবাহী নৌকা চলাচল করে না। অতীতে এমন নৌকা দেখা গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমেশ্বরী নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে বালু পরিবহনকারী অটোরিকশাচালক শফিকুল ইসলাম জানান, প্রায় ১০ থেকে ১৫টি পয়েন্ট থেকে নিয়মিত বালু তোলা হচ্ছে। প্রতি ট্রিপে তিনি ১ হাজার টাকায় বালু কিনে বালুর ডিপোতে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রোজিনা বেগম (৩০) জানান, এলাকায় বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় তাঁর পরিবারের সদস্যরাও বস্তায় করে নদী থেকে বালু সংগ্রহ করে অটোরিকশাচালকদের কাছে বিক্রি করেন।
নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার জানান, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা একটি মামলায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ থেকে জেলার বালুমহাল ইজারা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। ফলে বর্তমানে নদী থেকে যেকোনো বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ সাদাত বলেন, প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কারণে অবৈধ বালু উত্তোলন অনেকটাই কমেছে।
কলমাকান্দার ইউএনও এনএম আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি একটি অভিযানে ৩৯টি বালুবাহী নৌকা জব্দ করা হয়েছে এবং একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১০০ জন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে মামলা করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের অভিযান সত্ত্বেও প্রভাবশালী চক্রের তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় নদী ও পরিবেশ রক্ষায় আরও কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এসকে/এনজে
আরো পড়ুন : বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কেন্দুয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 















