
কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় পথরোধ করে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. জলিল মিয়া ওরফে ‘জইল্লে চোরা’ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলিম উদ্দিন (৬৩) নামে এক ব্যক্তি কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মো. জলিল মিয়া ওরফে ‘জইল্লে চোরা’ মোজাফরপুর ইউনিয়নের গগডা ভূঁইয়াপাড়ার মৃত গোমেজ আলীর ছেলে ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মামলা-মোকদ্দমাকে কেন্দ্র করে কলিম উদ্দিনের সঙ্গে জলিল মিয়ার বিরোধ চলে আসছিল। গত ২৫ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বড়তলা বাজার থেকে শ্যালকের কাছ থেকে ধার নেওয়া ৩০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন কলিম উদ্দিন। পথে বড়তলা গ্রামের আলামিনের বন্ধ থাকা মনোহারী দোকানের উত্তর পাশে সরকারি পাকা সড়কে পৌঁছালে জলিল মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজন তার পথরোধ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় তারা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। একপর্যায়ে জলিল মিয়া কলিম উদ্দিনের শার্টের কলার ধরে মারধর করেন এবং শার্টের বুক পকেট ছিঁড়ে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ওই দুই ব্যক্তির কাছে দিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কলিম উদ্দিন চিৎকার শুরু করলে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ও স্থানীয় পথচারীরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন জলিল মিয়াকে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাকে মারধর করলে অজ্ঞাতপরিচয় ওই দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার কথা জানান কলিম উদ্দিন। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় ও ঠিকানা জানার চেষ্টা করেন তিনি। পরে ন্যায়বিচারের আশায় কেন্দুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
এদিকে শনিবার (২৯ আগস্ট) সরেজমিনে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জলিল মিয়া ওরফে ‘জইল্লে চোরা’র বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা জানা যায়। এও জানা যায় , জলিল মিয়া কলিম উদ্দিনের সৎ ভাই।
স্থানীয় বাসিন্দা হাবিল মিয়া, সালাম মিয়া ও নয়ন মিয়া অভিযোগ করে বলেন, জলিল মিয়ার কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক ও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। কয়েক দিন আগে কলিম উদ্দিনের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় লোকজন জলিল মিয়াকে মারধরও করেন বলে তারা জানান।
মোজাফরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শরীফ আহমেদ বলেন, “জলিল ওরফে জইল্লে চোরাকে অনেক আগেই এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। এরপরও সে লোকজনের অগোচরে এলাকায় এসে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করায় স্থানীয় লোকজন তাকে মারধর করেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহমুদুল হাসান হলুদ মিয়া বলেন, “জলিল আমার ওয়ার্ডের বাসিন্দা। চার-পাঁচ বছর আগে চুরির অভিযোগে স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে তাকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এলাকার লোকজন তাকে ‘জইল্লে চোরা’ নামেই চেনে।
অভিযোগের বিষয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল বারেকের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে অভিযুক্ত জলিল মিয়ার ফেসবুক স্ট্যাটাসে দাবি করা হয়েছে, জমিজমা ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তার ওপর অতর্কিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও ওই স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পেমই তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিউল আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এসকে/এনএম
আরো পড়ুন : লক্ষ্মীপুরে বাজুস নির্বাচন, চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে সমীর কর্মকার
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 















