
নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির দেখা মিলছে না। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিম, ব্রয়লার মুরগি, মাছ ও অধিকাংশ সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাপ্তাহিক বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সীমিত আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে অনেকেই প্রয়োজনীয় পণ্য কম কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) শহরের জয়ের বাজার, মেছুয়া বাজার, বড় বাজার ও লেবেল ক্রসিং বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। কোথাও কোথাও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি মুরগির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।
মাছের বাজারেও একই চিত্র। বিভিন্ন প্রজাতির মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে চাষের পাঙাশ ১৮০, তেলাপিয়া ২২০, পাবদা ৩০০ থেকে ৩৫০, বড় রুই ৩৫০ থেকে ৪০০ এবং ট্যাংরা ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০, চাষের কই ৩০০, পোয়া ২৬০ এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ এবং মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। অন্যদিকে রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি এক হাজার টাকারও বেশি।
সবজির বাজারেও পুরোপুরি স্বস্তি নেই। কাঁচা মরিচের কেজি ৩২০ টাকা। বরবটি ৮০, ঝিঙা ১০০, চিচিঙ্গা ৮০, ধুন্দুল ৬০, শসা ৬০, পটল ৬০ এবং টমেটো ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঢ্যাঁড়স ৬০, পেঁপে ৪০, মুলা ৮০, গোল বেগুন ১০০, গাজর ১০০, কচু ৮০, করলা ১০০ এবং মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা কেজি। লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে আসা একাধিক ক্রেতা জানান, ডিম, মুরগি, মাছ ও সবজির দাম একসঙ্গে বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো বাজার করা সম্ভব হচ্ছে না। সংসারের খরচ সামাল দিতে অনেককেই পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হচ্ছে।
ক্রেতাদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদার, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
এসকে/এনএন
আরো পড়ুন : কচুয়া বিলে মাছের বেষ্টনী কেটে মাছ ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ, ৬ লাখ টাকার ক্ষতির দাবি
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 















