ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০ ঘণ্টা পর ধলাই নদীতে ভেসে উঠল হোসাইনের মরদেহ, গোসল করতে নেমে প্রাণ গেল শিশুর

 

নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার ধলাই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর হোসাইন (১০) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভাটিতে নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা।

নিহত হোসাইন উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের কালডোয়ার দক্ষিণপাড়া গ্রামের রুক্কু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১টার দিকে হোসাইন, সাইমন (৬) ও আরিয়ান (১০) খেলার ছলে কালডোয়ার পশ্চিমপাড়া এলাকার ধলাই নদীতে গোসল করতে নামে। সাঁতার না জানায় একপর্যায়ে তিনজনই পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় সাইমনের বড় বোন আখি (১৪) ভাইকে খুঁজতে এসে নদীতে ভাসতে দেখে পানিতে নেমে সাইমন ও আরিয়ানকে উদ্ধার করেন। তবে হোসাইনকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে পূর্বধলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এবং ময়মনসিংহ থেকে আসা ডুবুরি দল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালায়। দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও হোসাইনের সন্ধান না মেলায় সন্ধ্যায় অভিযান স্থগিত করা হয়। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এবং পরদিন পুনরায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ডুবুরি দল পৌঁছানোর আগেই স্বজনরা নিজেরাই নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভাটিতে নদীতে ভাসমান অবস্থায় হোসাইনের মরদেহ দেখতে পান তার বাবা রুক্কু মিয়া। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা নদী ও জলাশয়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এসকে/এনএন

আরো পড়ুন : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে ওসির মতবিনিময় 

২০ ঘণ্টা পর ধলাই নদীতে ভেসে উঠল হোসাইনের মরদেহ, গোসল করতে নেমে প্রাণ গেল শিশুর

প্রকাশের সময় : ০৬:৫৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪ 

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার ধলাই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর হোসাইন (১০) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভাটিতে নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা।

নিহত হোসাইন উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের কালডোয়ার দক্ষিণপাড়া গ্রামের রুক্কু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১টার দিকে হোসাইন, সাইমন (৬) ও আরিয়ান (১০) খেলার ছলে কালডোয়ার পশ্চিমপাড়া এলাকার ধলাই নদীতে গোসল করতে নামে। সাঁতার না জানায় একপর্যায়ে তিনজনই পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় সাইমনের বড় বোন আখি (১৪) ভাইকে খুঁজতে এসে নদীতে ভাসতে দেখে পানিতে নেমে সাইমন ও আরিয়ানকে উদ্ধার করেন। তবে হোসাইনকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে পূর্বধলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এবং ময়মনসিংহ থেকে আসা ডুবুরি দল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালায়। দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও হোসাইনের সন্ধান না মেলায় সন্ধ্যায় অভিযান স্থগিত করা হয়। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এবং পরদিন পুনরায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ডুবুরি দল পৌঁছানোর আগেই স্বজনরা নিজেরাই নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভাটিতে নদীতে ভাসমান অবস্থায় হোসাইনের মরদেহ দেখতে পান তার বাবা রুক্কু মিয়া। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা নদী ও জলাশয়ে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এসকে/এনএন

আরো পড়ুন : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড