ঢাকা ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এনামূল হক পলাশের ‘সভ্যতার জন্ম থেকে ইসলামের আলো’র পাঠ উন্মোচন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪ 

কবি ও চিন্তক এনামূল হক পলাশের ‘সভ্যতার জন্ম থেকে ইসলামের আলো’ বইয়ের প্রকাশনা এবং পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন)  শুক্রবার বিকালে বাংলা মোটরে অবস্থিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে কবির ৪৯ তম জন্মদিনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঘাসফুল।

পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন কবি ও অনুবাদক জহির হাসান। তিনি বলেন, কবি এনামূল হক পলাশ ছোট্ট একটি বইয়ের মাধ্যমে সামগ্রিক ইসলামের দর্শন সম্পর্কে খোঁচা দিয়েছেন। এটি পাঠ করলে এ বিষয়ে আরও জানতে ইচ্ছে করবে। পুরো বইটা এই সময়ের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক।

পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কবি মোশাররফ হোসাইন, কবি নকিব মুকশি, লেখক ও অনুবাদক দিদারুল আলম, বাচিক শিল্পী রহমান ইমন, লেখক ও চিন্তক অভ্র ভট্টাচার্য।

তারা প্রত্যেকেই বইটির ভাবনা, তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট এবং সমকালীন ইসলামের সাংস্কৃতিক বাস্তবতার গুরুত্বসহ আলোচনা উপস্থাপন করেন।

বক্তারা আরও বলেন, এনামূল হক পলাশ তার বইয়ের শিরোনামে যেমন স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, তেমনি পুরো গ্রন্থজুড়ে ইসলামের মূল স্পিরিট সম্পর্কে পাঠকের সামনে নতুন আলাপের পথ খুলে দিয়েছেন। বইটির ভাষা, যুক্তি ও বিশ্লেষণ- সমসাময়িক পাঠকের কাছে ধর্মীয় ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হয়ে উঠবে।

এনামূল হক পলাশ তার বক্তব্যে বলেন, “সারা বিশ্বে ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান ঘটেছে। আমাদেরকে বেছে নিতে হবে সিরাতুল মুস্তাকিম এর পথ। ”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদ আহমেদ, রাজু আহমেদ, রুমন সেখ, সঙ্গীতায়োজক বিজন দাস, জিসান চৌধুরী, কবি অনার্য শান্ত, কবি পলিয়ার ওয়াহিদ ও প্রকাশক মাহ্দী আনামসহ অনেকে।

আলোচনা শেষে জন্মদিনের কেক কেটে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।

অনুষ্ঠান গ্রন্থনা ও সঞ্চালনা করেন কবি নীরব মোহন্ত।

প্রবন্ধের গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে ঘাসফুল। প্রচ্ছদ করেছেন খন্দকার যুবাইর। মূল্য ১৯৫ টাকা।

২৬ জুন ২০২৬ কাব্যসাধনায় নিমগ্ন কবি এনামূল হক পলাশ এর ৪৯তম জন্মদিন। কবি এনামূল হক পলাশ বাংলা ভাষার সহজিয়া ধারার একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি, ভাবুক, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক, শিশু সাহিত্যিক ও গীতিকার। তিনি বামপন্থী বিপ্লবী রাজনৈতিক ধারার একজন কর্মী ছিলেন। তিনি অন্তরাশ্রম নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন এবং একই নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিচালনা করেন।

তিনি ১৯৭৭ সালের ২৬ জুন নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাদে চিরাম গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস একই উপজেলার বামনগাঁও গ্রামে।

১৯৯৫ সালে উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী থেকে প্রকাশিত মাটির সুবাস নামক একটি পত্রিকায় তাঁর একটি কবিতা প্রকাশিত হয় যা ছিল ছাপার অক্ষরে তাঁর প্রথম কবিতা। প্রকাশিত কবিতার জন্য তিনি মনি অর্ডার যোগে চল্লিশ টাকা সন্মানী প্রাপ্ত হয়েছিলেন। উক্ত চল্লিশ টাকার খরচ বাদে সাতত্রিশ টাকা পঁচিশ পয়সা হাতে পেয়েছিলেন তিনি।

সাপ্তাহিক যায়যায়দিন পত্রিকার বিশেষ সংখ্যায় নিয়মিত লেখা পাঠাতেন। প্রায় সংখ্যায়ই তাঁর লেখা ছাপা হতো এবং তিনি মনি অর্ডার যোগে সন্মানী পেতেন।
১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন সময় কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সাথে যুক্ত থেকে সাংবাদিকতা করেছেন।
২০০৯ সালে কবির প্রথম বই “অস্তিত্বের জন্য যুদ্ধ চাই” প্রকাশিত হয়।
২০১৫ সালে দ্বিতীয় কাব্য গ্রন্থ “জীবন এক মায়াবী ভ্রমণ” প্রকাশিত হয়।
২০১৬ সালে তৃতীয় কাব্য গ্রন্থ “অন্ধ সময়ের ডানা” প্রকাশিত হয় ও “লেখা প্রকাশ সাহিত্য সন্মাননা- ২০১৬” এবং বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষক সোসাইটি কর্তৃক “অমর একুশে স্মৃতি পদক- ২০১৬” প্রাপ্ত হন।
২০১৬ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণ প্রতিষ্ঠিত নেত্রকোণার মালনী এলাকায় বিশ্ব কবিতার আবাসস্থল বা হোম অব ওয়ার্লড পয়েট্রি খ্যাত “কবিতাকুঞ্জ” প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকে অবকাঠামো গঠনের কাজে যুক্ত থেকেছেন এবং একই প্রতিষ্ঠানের প্রথম পরিচালক হিসেবে কবি কর্তৃক নিযুক্ত ছিলেন।
২০১৭ সালে কবি, লেখক ও সংস্কৃতি কর্মীদের ব্যবহারের জন্য তিনি নেত্রকোণা শহরের মালনী এলাকায় গড়ে তুলেছেন “অন্তরাশ্রম” নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা। ও আচার্য।

২০১৭ সালে চতুর্থ কাব্য গ্রন্থ “অন্তরাশ্রম” ও পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ “মেঘের সন্ন্যাস” প্রকাশিত হয় এবং নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চর্চা সাহিত্য আড্ডা কর্তৃক তাদের শততম আসরে অন্যান্যদের সাথে “চর্চা শুভেচ্ছা সন্মাননা- ২০১৭” প্রাপ্ত হন।
২০১৮ সালে ষষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ “পাপের শহরে” প্রকাশ হয় এবং কবির চল্লিশ পূর্তি উপলক্ষে কবির জীবন ও কর্ম নিয়ে “আশ্রম পাখির মায়াপথ” নামে একটি প্রকাশনা গ্রন্থ বের হয়।
২০১৯ সালে সপ্তম কাব্য গ্রন্থ “জল ও হিজল” প্রকাশিত হয়।

একই সালের ১ ফেব্রুয়ারি নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কূপি বাতি নামক একটি ভাষ্কর্য স্থাপন করেন।

২০২০ সালে একটি শিশুতোষ বই “ বইয়ের পাতায় ফুলঝুরি” এবং “ভূমি ব্যবস্থাপনার সরল পাঠ” নামে একটি গবেষণাধর্মী বই প্রকাশিত হয়। একই বছর তিনি ভারত ভ্রমণ করেন।
২০২১ সালে অস্টম কাব্যগ্রন্থ “ তামাশা বাতাসে পৃথিবী”, শিশুতোষ বই “কলমি লতার ফুল” এবং “ধর্মবিশ্বাস আখ্যানের মত সুন্দর” নামে একটি প্রাচীন আরবী সাহিত্যের কবিতা অনুবাদ বই প্রকাশিত হয়। তিনি ২০২১ সালে নেত্রকোণায় একটি ‘ভূমি জাদুঘর’ (ভূমি ও কৃষি উপকরণ প্রদর্শনশালা) প্রতিষ্ঠার ধারণাপত্র তৈরি করেন এবং পরবর্তীতে তার ধারণার উপর ভিত্তি করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নেত্রকোণার মেছুয়া বাজার সংলগ্ন পুরাতন সদর কাচারিকে ভূমি জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

২০২২ সালে নবম কাব্যগ্রন্থ “অখন্ড জীবনের পাঠ”, দশম কাব্যগ্রন্থ “লাবণ্য দাশ এন্ড কোং” ও শিশুতোষ বই “ মগড়া নদীর বাঁকে” এবং “মু-আল্লাক্বা” নামে প্রাচীন আরবী সাহিত্যের কবি ইমরুল কায়েসের কবিতার অনুবাদ প্রকাশিত হয়। একই বছর তার কিছু কবিতা নিয়ে ইংরেজিতে ভাষান্তরিত বই CROSSING FORTY NIGHTS প্রকাশিত হয়। এই ডিসেম্বরে বাবুই প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে পাখপাখালির ছড়া নামে একটি শিশুতোষ বই এবং তিনি গণতন্ত্রের গান ও রাত্রির গান নামক দুটি গানের গীতিকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর এ দুটি গান সহ বাউলজন্মের গান নামক আরেকটি গান দেশে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পরবর্তীতে বাউল জন্ম, যে আমারে ভালোবাসে, আগুনের গান, রশিক হাওয়া, নয়া পানির তিতনা পুটি, শুন্য বোতল, সাদাকালো জীবন, প্যাঁচিয়ে থাকা দড়ি, কেমন করে সাধু হবো, একটি তারেই মুনতাহাতে, আমারে বনবাসে রাইখ্যা বন্ধু, ভালো আমি বাসলাম যারে, ঈদের গান, মন আমার মোচড় মারে, চাকা সহ অনেক জনপ্রিয় গান রচনা করেছেন।
২০২৩ সালে নিজের অর্থায়নে তিনি ভাস্কর অখিল পালকে দিয়ে বাংলার মালজোড়া গানের স্রস্টা বাউল কবি রশিদ উদ্দিনের একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করান। কিন্তু উপযুক্ত স্থান না পাওয়ায় সেটি এখনো স্থাপন করা সম্ভব হয় নি।
২০২৪ সালে বইমেলায় দশম কাব্যগ্রন্থ “সুফি কবিতা”, শিশুতোষ বই “ পাখপাখালিল কবিতা” এবং “লিখে রাখো আমি একজন আরব” নামে ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারবিশ এর কবিতা অনুবাদ বই প্রকাশিত হয়। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯ ফেব্রূয়ারি মেঠোসুর গুণিজন সন্মাননা- ২০২৪ অর্জন করেন। ৪ মার্চ কংস থিয়েটার সম্মাননা- ২০২৪ অর্জন করেন। একই বছর প্রকাশিত হয় অনুবাদ গ্রন্থ “আরব ভূখন্ডের কবিতা”।
২০২৫ সালে প্রকাশিত হয় তার সম্পাদিত “সংবিধানের পোস্টমর্টেম” নামক একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা গ্রন্থ। এবছর তিনি নেত্রকোণা আবৃত্তি নিকেতন সম্মাননা ২০২৫ প্রাপ্ত হন।
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত লেখা কবিতাগুলো নিয়ে ঘাসফুল থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার ১১তম কাব্যগ্রন্থ “পলায়নের আগে”।

২০২৫ সালে প্রকাশিত হয় অনুবাদের গ্রন্থ “নির্বাচিত কবিতা নাজিম হিকমত”, “আদিবাসী নারীদের কবিতা” ও “নদী মরে যায় পিপাসায় (মাহমুদ দারবিশের ডায়েরি)”। একই বছর প্রকাশিত হয় প্রবন্ধের বই জনগণের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ।
২০২৬ সালে প্রকাশিত হয় পাওলো কোয়েলহোর বইয়ের অনুবাদের গ্রন্থ “স্টোরিজ ফর প্যারেন্টস, চিল্ড্রেন অ্যান্ড গ্র্যান্ডচিল্ড্রেন” এর দুইটি খন্ড। একই বছর প্রকাশিত হয় প্রবন্ধের বই “সাংস্কৃতিক কেবলার সন্ধানে” এবং “বাংলাদেশের জনগণের রাজনীতি”। সাম্প্রতিক প্রকাশিত বইয়ের নাম হচ্ছে, “সভ্যতার জন্মলগ্ন থেকে ইসলামের আলো।”

এসকে/এনপি

আরো পড়ুন : ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নেত্রকোণায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়া প্রেসক্লাবে ওসির মতবিনিময় 

এনামূল হক পলাশের ‘সভ্যতার জন্ম থেকে ইসলামের আলো’র পাঠ উন্মোচন

প্রকাশের সময় : ০৪:০১:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

 

নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪ 

কবি ও চিন্তক এনামূল হক পলাশের ‘সভ্যতার জন্ম থেকে ইসলামের আলো’ বইয়ের প্রকাশনা এবং পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন)  শুক্রবার বিকালে বাংলা মোটরে অবস্থিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে কবির ৪৯ তম জন্মদিনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ঘাসফুল।

পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন কবি ও অনুবাদক জহির হাসান। তিনি বলেন, কবি এনামূল হক পলাশ ছোট্ট একটি বইয়ের মাধ্যমে সামগ্রিক ইসলামের দর্শন সম্পর্কে খোঁচা দিয়েছেন। এটি পাঠ করলে এ বিষয়ে আরও জানতে ইচ্ছে করবে। পুরো বইটা এই সময়ের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক।

পাঠ উন্মোচন অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কবি মোশাররফ হোসাইন, কবি নকিব মুকশি, লেখক ও অনুবাদক দিদারুল আলম, বাচিক শিল্পী রহমান ইমন, লেখক ও চিন্তক অভ্র ভট্টাচার্য।

তারা প্রত্যেকেই বইটির ভাবনা, তাত্ত্বিক প্রেক্ষাপট এবং সমকালীন ইসলামের সাংস্কৃতিক বাস্তবতার গুরুত্বসহ আলোচনা উপস্থাপন করেন।

বক্তারা আরও বলেন, এনামূল হক পলাশ তার বইয়ের শিরোনামে যেমন স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, তেমনি পুরো গ্রন্থজুড়ে ইসলামের মূল স্পিরিট সম্পর্কে পাঠকের সামনে নতুন আলাপের পথ খুলে দিয়েছেন। বইটির ভাষা, যুক্তি ও বিশ্লেষণ- সমসাময়িক পাঠকের কাছে ধর্মীয় ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হয়ে উঠবে।

এনামূল হক পলাশ তার বক্তব্যে বলেন, “সারা বিশ্বে ধর্মীয় উগ্রবাদের উত্থান ঘটেছে। আমাদেরকে বেছে নিতে হবে সিরাতুল মুস্তাকিম এর পথ। ”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদ আহমেদ, রাজু আহমেদ, রুমন সেখ, সঙ্গীতায়োজক বিজন দাস, জিসান চৌধুরী, কবি অনার্য শান্ত, কবি পলিয়ার ওয়াহিদ ও প্রকাশক মাহ্দী আনামসহ অনেকে।

আলোচনা শেষে জন্মদিনের কেক কেটে অনুষ্ঠান শেষ করা হয়।

অনুষ্ঠান গ্রন্থনা ও সঞ্চালনা করেন কবি নীরব মোহন্ত।

প্রবন্ধের গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে ঘাসফুল। প্রচ্ছদ করেছেন খন্দকার যুবাইর। মূল্য ১৯৫ টাকা।

২৬ জুন ২০২৬ কাব্যসাধনায় নিমগ্ন কবি এনামূল হক পলাশ এর ৪৯তম জন্মদিন। কবি এনামূল হক পলাশ বাংলা ভাষার সহজিয়া ধারার একজন প্রতিশ্রুতিশীল কবি, ভাবুক, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক, শিশু সাহিত্যিক ও গীতিকার। তিনি বামপন্থী বিপ্লবী রাজনৈতিক ধারার একজন কর্মী ছিলেন। তিনি অন্তরাশ্রম নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন এবং একই নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন পরিচালনা করেন।

তিনি ১৯৭৭ সালের ২৬ জুন নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাদে চিরাম গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক নিবাস একই উপজেলার বামনগাঁও গ্রামে।

১৯৯৫ সালে উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী থেকে প্রকাশিত মাটির সুবাস নামক একটি পত্রিকায় তাঁর একটি কবিতা প্রকাশিত হয় যা ছিল ছাপার অক্ষরে তাঁর প্রথম কবিতা। প্রকাশিত কবিতার জন্য তিনি মনি অর্ডার যোগে চল্লিশ টাকা সন্মানী প্রাপ্ত হয়েছিলেন। উক্ত চল্লিশ টাকার খরচ বাদে সাতত্রিশ টাকা পঁচিশ পয়সা হাতে পেয়েছিলেন তিনি।

সাপ্তাহিক যায়যায়দিন পত্রিকার বিশেষ সংখ্যায় নিয়মিত লেখা পাঠাতেন। প্রায় সংখ্যায়ই তাঁর লেখা ছাপা হতো এবং তিনি মনি অর্ডার যোগে সন্মানী পেতেন।
১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন সময় কয়েকটি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার সাথে যুক্ত থেকে সাংবাদিকতা করেছেন।
২০০৯ সালে কবির প্রথম বই “অস্তিত্বের জন্য যুদ্ধ চাই” প্রকাশিত হয়।
২০১৫ সালে দ্বিতীয় কাব্য গ্রন্থ “জীবন এক মায়াবী ভ্রমণ” প্রকাশিত হয়।
২০১৬ সালে তৃতীয় কাব্য গ্রন্থ “অন্ধ সময়ের ডানা” প্রকাশিত হয় ও “লেখা প্রকাশ সাহিত্য সন্মাননা- ২০১৬” এবং বাংলাদেশ শিক্ষা পর্যবেক্ষক সোসাইটি কর্তৃক “অমর একুশে স্মৃতি পদক- ২০১৬” প্রাপ্ত হন।
২০১৬ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণ প্রতিষ্ঠিত নেত্রকোণার মালনী এলাকায় বিশ্ব কবিতার আবাসস্থল বা হোম অব ওয়ার্লড পয়েট্রি খ্যাত “কবিতাকুঞ্জ” প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকে অবকাঠামো গঠনের কাজে যুক্ত থেকেছেন এবং একই প্রতিষ্ঠানের প্রথম পরিচালক হিসেবে কবি কর্তৃক নিযুক্ত ছিলেন।
২০১৭ সালে কবি, লেখক ও সংস্কৃতি কর্মীদের ব্যবহারের জন্য তিনি নেত্রকোণা শহরের মালনী এলাকায় গড়ে তুলেছেন “অন্তরাশ্রম” নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা। ও আচার্য।

২০১৭ সালে চতুর্থ কাব্য গ্রন্থ “অন্তরাশ্রম” ও পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ “মেঘের সন্ন্যাস” প্রকাশিত হয় এবং নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার চর্চা সাহিত্য আড্ডা কর্তৃক তাদের শততম আসরে অন্যান্যদের সাথে “চর্চা শুভেচ্ছা সন্মাননা- ২০১৭” প্রাপ্ত হন।
২০১৮ সালে ষষ্ঠ কাব্য গ্রন্থ “পাপের শহরে” প্রকাশ হয় এবং কবির চল্লিশ পূর্তি উপলক্ষে কবির জীবন ও কর্ম নিয়ে “আশ্রম পাখির মায়াপথ” নামে একটি প্রকাশনা গ্রন্থ বের হয়।
২০১৯ সালে সপ্তম কাব্য গ্রন্থ “জল ও হিজল” প্রকাশিত হয়।

একই সালের ১ ফেব্রুয়ারি নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কূপি বাতি নামক একটি ভাষ্কর্য স্থাপন করেন।

২০২০ সালে একটি শিশুতোষ বই “ বইয়ের পাতায় ফুলঝুরি” এবং “ভূমি ব্যবস্থাপনার সরল পাঠ” নামে একটি গবেষণাধর্মী বই প্রকাশিত হয়। একই বছর তিনি ভারত ভ্রমণ করেন।
২০২১ সালে অস্টম কাব্যগ্রন্থ “ তামাশা বাতাসে পৃথিবী”, শিশুতোষ বই “কলমি লতার ফুল” এবং “ধর্মবিশ্বাস আখ্যানের মত সুন্দর” নামে একটি প্রাচীন আরবী সাহিত্যের কবিতা অনুবাদ বই প্রকাশিত হয়। তিনি ২০২১ সালে নেত্রকোণায় একটি ‘ভূমি জাদুঘর’ (ভূমি ও কৃষি উপকরণ প্রদর্শনশালা) প্রতিষ্ঠার ধারণাপত্র তৈরি করেন এবং পরবর্তীতে তার ধারণার উপর ভিত্তি করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নেত্রকোণার মেছুয়া বাজার সংলগ্ন পুরাতন সদর কাচারিকে ভূমি জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

২০২২ সালে নবম কাব্যগ্রন্থ “অখন্ড জীবনের পাঠ”, দশম কাব্যগ্রন্থ “লাবণ্য দাশ এন্ড কোং” ও শিশুতোষ বই “ মগড়া নদীর বাঁকে” এবং “মু-আল্লাক্বা” নামে প্রাচীন আরবী সাহিত্যের কবি ইমরুল কায়েসের কবিতার অনুবাদ প্রকাশিত হয়। একই বছর তার কিছু কবিতা নিয়ে ইংরেজিতে ভাষান্তরিত বই CROSSING FORTY NIGHTS প্রকাশিত হয়। এই ডিসেম্বরে বাবুই প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে পাখপাখালির ছড়া নামে একটি শিশুতোষ বই এবং তিনি গণতন্ত্রের গান ও রাত্রির গান নামক দুটি গানের গীতিকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তাঁর এ দুটি গান সহ বাউলজন্মের গান নামক আরেকটি গান দেশে খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পরবর্তীতে বাউল জন্ম, যে আমারে ভালোবাসে, আগুনের গান, রশিক হাওয়া, নয়া পানির তিতনা পুটি, শুন্য বোতল, সাদাকালো জীবন, প্যাঁচিয়ে থাকা দড়ি, কেমন করে সাধু হবো, একটি তারেই মুনতাহাতে, আমারে বনবাসে রাইখ্যা বন্ধু, ভালো আমি বাসলাম যারে, ঈদের গান, মন আমার মোচড় মারে, চাকা সহ অনেক জনপ্রিয় গান রচনা করেছেন।
২০২৩ সালে নিজের অর্থায়নে তিনি ভাস্কর অখিল পালকে দিয়ে বাংলার মালজোড়া গানের স্রস্টা বাউল কবি রশিদ উদ্দিনের একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করান। কিন্তু উপযুক্ত স্থান না পাওয়ায় সেটি এখনো স্থাপন করা সম্ভব হয় নি।
২০২৪ সালে বইমেলায় দশম কাব্যগ্রন্থ “সুফি কবিতা”, শিশুতোষ বই “ পাখপাখালিল কবিতা” এবং “লিখে রাখো আমি একজন আরব” নামে ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারবিশ এর কবিতা অনুবাদ বই প্রকাশিত হয়। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯ ফেব্রূয়ারি মেঠোসুর গুণিজন সন্মাননা- ২০২৪ অর্জন করেন। ৪ মার্চ কংস থিয়েটার সম্মাননা- ২০২৪ অর্জন করেন। একই বছর প্রকাশিত হয় অনুবাদ গ্রন্থ “আরব ভূখন্ডের কবিতা”।
২০২৫ সালে প্রকাশিত হয় তার সম্পাদিত “সংবিধানের পোস্টমর্টেম” নামক একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা গ্রন্থ। এবছর তিনি নেত্রকোণা আবৃত্তি নিকেতন সম্মাননা ২০২৫ প্রাপ্ত হন।
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত লেখা কবিতাগুলো নিয়ে ঘাসফুল থেকে প্রকাশিত হয়েছে তার ১১তম কাব্যগ্রন্থ “পলায়নের আগে”।

২০২৫ সালে প্রকাশিত হয় অনুবাদের গ্রন্থ “নির্বাচিত কবিতা নাজিম হিকমত”, “আদিবাসী নারীদের কবিতা” ও “নদী মরে যায় পিপাসায় (মাহমুদ দারবিশের ডায়েরি)”। একই বছর প্রকাশিত হয় প্রবন্ধের বই জনগণের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ।
২০২৬ সালে প্রকাশিত হয় পাওলো কোয়েলহোর বইয়ের অনুবাদের গ্রন্থ “স্টোরিজ ফর প্যারেন্টস, চিল্ড্রেন অ্যান্ড গ্র্যান্ডচিল্ড্রেন” এর দুইটি খন্ড। একই বছর প্রকাশিত হয় প্রবন্ধের বই “সাংস্কৃতিক কেবলার সন্ধানে” এবং “বাংলাদেশের জনগণের রাজনীতি”। সাম্প্রতিক প্রকাশিত বইয়ের নাম হচ্ছে, “সভ্যতার জন্মলগ্ন থেকে ইসলামের আলো।”

এসকে/এনপি

আরো পড়ুন : ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে নেত্রকোণায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান