
কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধি ||এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় পরকীয়া প্রেমের ঘটনায় তিন কন্যা সন্তানের জননী মোছা. হোসনা বেগম (৩৫) এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মালয়েশিয়া প্রবাসী স্বামী তাঁকে মৌখিক তালাক দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে প্রেমিক সোহেল মিয়াও স্ত্রী-সন্তানসহ এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিনি কার্যত আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যার আগে উপজেলার গণ্ডা ইউনিয়নের গৈচাশিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত প্রেমিক সোহেল মিয়া (৩৭)’র বাড়িতে বিষণ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন হোসনা বেগম।
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর গত ২১ এপ্রিল আদালতের মাধ্যমে (কোর্ট ম্যারেজ) বিয়ে করেন তারা। বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ্যে এলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল আলম রনির উপস্থিতিতে হোসনাকে সোহেলের কাছে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে হোসনার শ্বশুরবাড়ির দায়ের করা একটি মামলার (যেখানে প্রেমিক- প্রেমিকা উভয়কে আসামি করা হয়েছে) মীমাংসার জন্য সোহেলের ওপর ৩ লাখ টাকা জরিমানা ধার্য করা হয় বলে জানা যায়।
হোসনা বেগম অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সোহেল তাঁর কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছেন। এছাড়া গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বাসের সুযোগে প্রলুব্ধ করে তার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থেকে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে তুলে । বর্তমানে প্রেমিক সোহেল তাঁকে ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং কোনো খোঁজখবর নিচ্ছেন না।
তিনি বলেন, সোহেল আমাকে ঠকিয়েছে। আমার যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোসনা বেগম একই ইউনিয়নের মরিচপুর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী ওয়াসিমের স্ত্রী। তাঁর বাবার বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কবিরপুর গ্রামে। ওয়াসিম ও হোসনার সংসারে রায়সা (১২), রায়মা (৮) ও রায়পা (৪) নামে তিন কন্যা সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি ওয়াসিম তাঁকে মৌখিকভাবে তালাক দিয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে গত ১৬ জুন পূর্বে দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারেও যেতে হয় হোসনাকে। তাঁর অভিযোগ, ওই গ্রেপ্তারের পেছনেও সোহেলের হাত রয়েছে।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল আলম রনিসহ বাবুল,শামীম আহমেদ, সাইদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও স্থানীয় মাতব্বররা ঘটনার বিভিন্ন দিকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তবে অভিযুক্ত সোহেল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বড় ভাই মো. সাদ্দাম মিয়া বলেন, আমার ভাই আমাদের থেকে আলাদা থাকেন। আমি নিজেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি, কিন্তু পারছি না। এ ঘটনায় দুই পক্ষেরই ভুল রয়েছে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এসকে/এনকে
আরো পড়ুন : গোবিন্দগঞ্জে ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার, বছর না যেতেই ধস
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 



















