
জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণা শহরের জয়ের বাজার মোড়ে অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ২৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে মগড়া নদীর মোক্তারপাড়া সেতু সংলগ্ন স্মৃতিস্তম্ভটিতে আগুন দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে স্মৃতিস্তম্ভে আগুন জ্বলছে। আগুন দেওয়ার পর কয়েকজন যুবককে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে দেখা যায়। ভিডিওতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানও শোনা যায়।
বুধবার সকালে স্থানীয়রা স্মৃতিস্তম্ভে পোড়ার চিহ্ন দেখতে পান। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে এবং এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। স্থানীয়দের ধারণা, রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটেছে।
নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) স্বজল কুমার সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল ভিডিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নেত্রকোণা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির সাদিক আহমেদ হারিছ বলেন, “জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশের প্রতীক। এ ধরনের স্থাপনায় হামলা বা অগ্নিসংযোগ কেবল একটি স্থাপনার ওপর আঘাত নয়, বরং জাতির আবেগ, চেতনা ও ঐতিহাসিক স্মৃতির ওপর আঘাত। হাজারো শহীদের রক্তের সঙ্গে এই স্থাপনার আবেগ ও অনুভূতি জড়িত। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা বাংলাদেশের শত্রু।”
তিনি অনতিবিলম্বে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানান।
এদিকে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান বলেন, “যারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এসকে/এনডি
আরো পড়ুন : নড়াইলে সদর থানা পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমাণ এস্কাফ সিরাপসহ যুবক গ্রেপ্তার
সম্পাদনা_দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 





















