
নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলা থেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক যুবককে তুলে এনে কলমাকান্দায় আটকে রাখার অভিযোগে দুই ভূয়া পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় অপহৃত ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৭ জুন) সকালে বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়ন এলাকা থেকে সোহরাব হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের আমবাড়ী এলাকায় নিয়ে আসা হয়।
আটক দুই ব্যক্তি হলেন নেত্রকোণা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা গ্রামের মো. সিজন মিয়া (৩৫) ও মো. সুজাত মিয়া (৩৩)। উদ্ধার হওয়া সোহরাব হোসেন বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর পালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. ওয়ারেছ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমবাড়ী এলাকায় পৌঁছানোর পর অভিযুক্তদের আচরণ ও পরিচয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়। একপর্যায়ে এলাকাবাসী তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে তারা নিজেদের পরিচয় সম্পর্কে সন্তোষজনক কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
পরে স্থানীয় জনতা সিজন মিয়া, সুজাত মিয়া এবং তাদের সঙ্গে থাকা সোহরাব হোসেনকে আটক করে কলমাকান্দা থানা পুলিশকে খবর দেয়। তবে এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন ব্যক্তি পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমবাড়ী বাজার এলাকা থেকে দুই সন্দেহভাজনকে হেফাজতে নেয় এবং সোহরাব হোসেনকে উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একজোড়া হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সজল সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক এবং বারহাট্টা থেকে নিয়ে আসা সোহরাব হোসেন নামে এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একটি হ্যান্ডকাফ জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এসকে/এনএন
আরো পড়ুন : গাইবান্ধায় ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার সেবার নামে হয়রানি, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ
সম্পাদনা _দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 
























