
নিজস্ব প্রতিনিধি || এসকেনিউজ২৪
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে তুচ্ছ এক বিরোধকে কেন্দ্র করে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর গর্ভপাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, মারধরের ঘটনায় ওই নারীকে পেটে লাথি মারা হলে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে তার গর্ভপাত ঘটে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের পালগাঁও গ্রামে। আহত গৃহবধূ আশা আক্তার (২১) বর্তমানে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি সালমান শাহর স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বুধবার দুপুরে একটি কুকুরকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ করা হয়, সুয়াইর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস মিয়া ও তার সমর্থকরা আশা আক্তারের ভাই জুয়েল মিয়াকে মারধর করেন।
পরিবারের দাবি, জুয়েলকে রক্ষা করতে গেলে তার বাবা-মাও হামলার শিকার হন। এ সময় অন্তঃসত্ত্বা আশা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং পেটে লাথি মারা হয়। এরপরই তার রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
স্বজনরা দ্রুত তাকে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তার গর্ভপাত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে দাবি করেন।
আশা আক্তার বলেন,”আমার ভাইকে বাঁচাতে গেলে আমাকে পেটে লাথি মারা হয়। পরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। হাসপাতালে এসে জানতে পারি আমার সন্তান আর বেঁচে নেই।”
আশার স্বামী সালমান শাহ অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং আটক করার পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
এ ঘটনায় আহত আশা আক্তারের বাবা দিলখুশ মিয়া, মা সালেমা আক্তার ও ভাই জুয়েল মিয়াও চিকিৎসা নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার মোহনগঞ্জ থানায় দায়ের করা অভিযোগে ফেরদৌস মিয়াসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোস্তফা জামিল স্বপন দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট নারীর আগেই গর্ভপাত হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন। তবে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার শহীদুল্লাহ জানান, চিকিৎসা পরীক্ষায় রোগীর গর্ভপাতের বিষয়টি হাসপাতালের নথিতে লিপিবদ্ধ হয়েছে এবং তিনি এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্তকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ নাকচ করেছেন মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম। তার দাবি, উভয় পক্ষ থানায় এসেছিল এবং তারা আপস-মীমাংসার আগ্রহ দেখিয়েছিল। কাউকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
তবে ঘটনাটিকে ‘সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি’ করার উদ্যোগ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সেলিম কার্ণায়েন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভপাতের মতো গুরুতর অভিযোগকে সামাজিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও উৎসাহিত হবে।
এসকে/এনএম
সম্পাদনা _দেলোয়ার হোসেন মাসুদ 





















