ঢাকা ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ত্র হাতে অভিযানে বিতর্ক, ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ

ইশরাক হোসেন, ছবিঃ সংগৃহীত



নিজস্ব প্রতিনিধি : 

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তাঁকে ডেকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও

শনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ইশরাক। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ভিডিওর একটি অংশে নিরাপত্তারক্ষীদের কয়েকজনকে দৌড়ে লোকজনকে ধরতে দেখা যায়। তাঁদের একজনকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।

অভিযানের আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে। ঘটনাস্থলে ইশরাকের নিয়োগ দেওয়া দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওতে গুলি করার হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তদন্তে ডিএমপি, আইন লঙ্ঘন হলে ব্যবস্থা

ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে—এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।

আত্মরক্ষার যুক্তি ইশরাকের

সমালোচনার মুখে রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, তিনি মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, গেন্ডারিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারের অভিযোগ পেয়ে তিনি আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানের আগে মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল। একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

নিজের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত বলেও দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে চার-পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ, মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ এবং ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন

অভিযানের আগে পুলিশের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানাননি; পরে পুলিশ এ বিষয়ে জানতে পারে। ইশরাকও শনিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে সেখানে আসতে বলেন।

বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজের হাতে অস্ত্র নিয়ে এভাবে অভিযানে অংশ নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের মতে, প্রশাসনকে সক্রিয় করার পরিবর্তে নিজেই অস্ত্র হাতে মাঠে নামার ঘটনায় সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।

এর আগে পদত্যাগ করেন সংসদ সদস্য মিষ্টি

ইশরাকের পদত্যাগের নির্দেশের খবর সামনে আসার আগে বিতর্কিত ঘটনায় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম জড়িয়ে পড়ার পর পদত্যাগ করেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজনের নাম আলোচনায় আসে। বিষয়টি নিয়ে দল ও সরকারের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হলেও হামলা ও ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন মিষ্টি।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে।

মিষ্টির পদত্যাগের প্রায় আড়াই সপ্তাহের মধ্যে এবার অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের জেরে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর সামনে এল। তবে ইশরাকের পদত্যাগ এবং এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এসকে/এনএম

আরও পড়ুন : সাংবাদিক আলিফ হত্যা : অপূর্ব কারাগারে, রিমান্ড শুনানি আজ

এস কে নিউজ ২৪ । সত্যের পথে কলমের সাথে । নেত্রকোনার খবরসহ দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদে চোখ রাখুন  

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

অস্ত্র হাতে অভিযানে বিতর্ক, ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ

প্রকাশের সময় : ০২:১০:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি : 

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তাঁকে ডেকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় শনিবার (১৭ অক্টোবর) আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে অস্ত্র হাতে অভিযানের ভিডিও

শনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ইশরাক। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ভিডিওর একটি অংশে নিরাপত্তারক্ষীদের কয়েকজনকে দৌড়ে লোকজনকে ধরতে দেখা যায়। তাঁদের একজনকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।

অভিযানের আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার দৃশ্য রয়েছে। ঘটনাস্থলে ইশরাকের নিয়োগ দেওয়া দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও উপস্থিত ছিলেন। ভিডিওতে গুলি করার হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তদন্তে ডিএমপি, আইন লঙ্ঘন হলে ব্যবস্থা

ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে—এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।

আত্মরক্ষার যুক্তি ইশরাকের

সমালোচনার মুখে রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, তিনি মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

ইশরাকের ভাষ্য অনুযায়ী, গেন্ডারিয়া এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারের অভিযোগ পেয়ে তিনি আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানের আগে মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল। একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

নিজের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত বলেও দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে চার-পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ, মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ এবং ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন

অভিযানের আগে পুলিশের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শনিবার ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানাননি; পরে পুলিশ এ বিষয়ে জানতে পারে। ইশরাকও শনিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে সেখানে আসতে বলেন।

বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনায় আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজের হাতে অস্ত্র নিয়ে এভাবে অভিযানে অংশ নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের মতে, প্রশাসনকে সক্রিয় করার পরিবর্তে নিজেই অস্ত্র হাতে মাঠে নামার ঘটনায় সরকার বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে।

এর আগে পদত্যাগ করেন সংসদ সদস্য মিষ্টি

ইশরাকের পদত্যাগের নির্দেশের খবর সামনে আসার আগে বিতর্কিত ঘটনায় ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম জড়িয়ে পড়ার পর পদত্যাগ করেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজনের নাম আলোচনায় আসে। বিষয়টি নিয়ে দল ও সরকারের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হলেও হামলা ও ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন মিষ্টি।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে সংসদ সচিবালয় তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে।

মিষ্টির পদত্যাগের প্রায় আড়াই সপ্তাহের মধ্যে এবার অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে বিতর্কের জেরে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার খবর সামনে এল। তবে ইশরাকের পদত্যাগ এবং এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এসকে/এনএম

আরও পড়ুন : সাংবাদিক আলিফ হত্যা : অপূর্ব কারাগারে, রিমান্ড শুনানি আজ

এস কে নিউজ ২৪ । সত্যের পথে কলমের সাথে । নেত্রকোনার খবরসহ দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদে চোখ রাখুন