ঢাকা ০৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিধিবহির্ভূতভাবে সরকারি অফিসে রাতযাপন-স্বীকার কেন্দুয়া যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার




 

কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধ । এসকেনিউজ২৪

রুমে ঢুকতেই বাম পাশে চেয়ার-টেবিলের ওপর তৈরি করা বিছানা । দুপাশে দাপ্তরিক চেয়ার, টেবিল ও আলমারি । কক্ষটি নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের। অথচ দাপ্তরিক কাজের জন্য নির্ধারিত এই কক্ষই যেন এক কর্মচারীর স্থায়ী আবাসস্থল।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অফিসের কাজ শেষে ওই কক্ষেই খাওয়া-দাওয়া, ধূমপান ও রাতে ঘুমানোসহ ব্যক্তিগত জীবনযাপনের সব কাজ সারছেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. ইউছুফ মিয়া। সরকারি অফিস কক্ষের এমন আবাসিক ব্যবহার নিয়ে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও নথিপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কক্ষের পাশের ওই কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অবস্থান করছেন ইউছুফ মিয়া। কক্ষটিতে রয়েছে ঘুমানোর ব্যবস্থা এবং খাওয়া-দাওয়ার জন্য থালা-বাসনসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী। সব মিলিয়ে কক্ষটিকে আবাসিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে নিয়মিত ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি অফিস কক্ষে বিভিন্ন প্রকল্পের নথি, যুব ঋণের ফাইল, হিসাবের খাতা এবং গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাগজপত্র থাকতে পারে। সেখানে নিয়মিত রাতযাপন ও ব্যক্তিগত কার্যক্রম পরিচালিত হলে নথিপত্রের গোপনীয়তা, সংরক্ষণ এবং অফিসের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট অবস্থান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা পরিষদের এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, ইউছুফ মিয়া অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে যোগদানের পর থেকেই ওই কক্ষে থাকছেন। সরকারি বেতনের সঙ্গে বাড়িভাড়া বাবদ ভাতাও পেয়ে থাকলে অফিস কক্ষকে ব্যক্তিগত আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অফিস কক্ষে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. ইউছুফ মিয়া বলেন, কোয়ার্টারে সিট পাচ্ছি না। কত দিন ধরে সেখানে থাকছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রথমে বলেন, এক বছর ধরে। পরে তিনি বলেন, ভালো বাসা বা রুম পাচ্ছি না। তাছাড়া কাজ করতে সহজ হয়। তাই থাকি।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল আহাদ বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি যোগদানের আগে থেকেই তিনি থাকেন। অফিস কক্ষে রাতযাপন বা আবাসিকভাবে থাকা বিধিবহির্ভূত কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই বিধিবহির্ভূত। তবে তিনি অফিসে থাকলে অফিস নিরাপদ থাকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি জানা নেই। দেখতে হবে, যাচাই করতে হবে।

এসকে/এনকে

আরও পড়ুনঃ সারা দেশের গ্রাহকদের জন্য নগদের নতুন অ্যাপ, গোপালগঞ্জে প্রচার-র‍্যালি

এস কে নিউজ ২৪ । সত্যের পথে কলমের সাথে

আপনার মতামত প্রকাম করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার প্রদত্ত তথ্য আমাদের সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে

প্রকাশকের তথ্য

সর্বাধিক পঠিত

কেন্দুয়ায় তাঁতী দলের কর্মী সম্মেলন, কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন দাবি

বিধিবহির্ভূতভাবে সরকারি অফিসে রাতযাপন-স্বীকার কেন্দুয়া যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার

প্রকাশের সময় : ০২:০৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

 

কোহিনূর আলম, নিজস্ব প্রতিনিধ । এসকেনিউজ২৪

রুমে ঢুকতেই বাম পাশে চেয়ার-টেবিলের ওপর তৈরি করা বিছানা । দুপাশে দাপ্তরিক চেয়ার, টেবিল ও আলমারি । কক্ষটি নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের। অথচ দাপ্তরিক কাজের জন্য নির্ধারিত এই কক্ষই যেন এক কর্মচারীর স্থায়ী আবাসস্থল।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অফিসের কাজ শেষে ওই কক্ষেই খাওয়া-দাওয়া, ধূমপান ও রাতে ঘুমানোসহ ব্যক্তিগত জীবনযাপনের সব কাজ সারছেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. ইউছুফ মিয়া। সরকারি অফিস কক্ষের এমন আবাসিক ব্যবহার নিয়ে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও নথিপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার কক্ষের পাশের ওই কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অবস্থান করছেন ইউছুফ মিয়া। কক্ষটিতে রয়েছে ঘুমানোর ব্যবস্থা এবং খাওয়া-দাওয়ার জন্য থালা-বাসনসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী। সব মিলিয়ে কক্ষটিকে আবাসিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে নিয়মিত ।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি অফিস কক্ষে বিভিন্ন প্রকল্পের নথি, যুব ঋণের ফাইল, হিসাবের খাতা এবং গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাগজপত্র থাকতে পারে। সেখানে নিয়মিত রাতযাপন ও ব্যক্তিগত কার্যক্রম পরিচালিত হলে নথিপত্রের গোপনীয়তা, সংরক্ষণ এবং অফিসের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট অবস্থান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা পরিষদের এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, ইউছুফ মিয়া অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে যোগদানের পর থেকেই ওই কক্ষে থাকছেন। সরকারি বেতনের সঙ্গে বাড়িভাড়া বাবদ ভাতাও পেয়ে থাকলে অফিস কক্ষকে ব্যক্তিগত আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অফিস কক্ষে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. ইউছুফ মিয়া বলেন, কোয়ার্টারে সিট পাচ্ছি না। কত দিন ধরে সেখানে থাকছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রথমে বলেন, এক বছর ধরে। পরে তিনি বলেন, ভালো বাসা বা রুম পাচ্ছি না। তাছাড়া কাজ করতে সহজ হয়। তাই থাকি।

উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল আহাদ বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি যোগদানের আগে থেকেই তিনি থাকেন। অফিস কক্ষে রাতযাপন বা আবাসিকভাবে থাকা বিধিবহির্ভূত কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবশ্যই বিধিবহির্ভূত। তবে তিনি অফিসে থাকলে অফিস নিরাপদ থাকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি জানা নেই। দেখতে হবে, যাচাই করতে হবে।

এসকে/এনকে

আরও পড়ুনঃ সারা দেশের গ্রাহকদের জন্য নগদের নতুন অ্যাপ, গোপালগঞ্জে প্রচার-র‍্যালি

এস কে নিউজ ২৪ । সত্যের পথে কলমের সাথে